ভাষা যে প্রচ্ছন্ন এক প্রকার দেয়াল তৈরী করে তা আমি প্রথম বুঝতে পারি দেরিদা’কে পড়বার পড়।
আমরা অনেকরকম সম্বোধন করি।সেই সম্বোধনগুলোও অনেককিছু বহন করে,বিরত করে।
যেমন-আমরা মামা,চাচা,খালা,মামি ইত্যাদি ডাকি।এই ডাকগুলো আমাদের মনে একরকম প্রভাব বিস্তার করে,এই ডাকগুলো থেকে
আমরা বুঝতে পারি এদের সাথে কোনো যৌন সম্পর্ক নেই,অনুচিত।ইত্যাদি।এই দেয়াল এই ডাকগুলোই স্থাপন করে।
আর ভাষার এই বোধ আমি পেয়েছি দেরিদার কাছ থেকে।প্রত্যেকটা শব্দের একটা নিজস্ব প্রাণ আছে।
এই প্রাণ সবচেয়ে বেশী টের পান সম্ভবত আইন পেশায় যারা আছেন তারা।একটা “হয়” অথবা “হবে” তারা যতভাবে প্যাচাতে পারেন।তা অকল্পনীয়!

একজন দার্শনিক যখন কেবল ভাবনার কাঠামো ভাঙেন না,
ভাষার ভিতরকারও ভিত ভেঙে দেন,তখন তিনি শুধু দার্শনিক নন, হয়ে ওঠেন দর্শনেরই ভেতরে এক বিপ্লব।
জাঁক দেরিদা তেমনি একজন।
তার ভাষা কখনও সরল নয়,তার প্রশ্ন কখনও সরাসরি নয়,
আর তার উত্তর?
তা হয়ত কখনো আসে না—
তবে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার শিল্পটিই যেন তার প্রধান শক্তি।
দেরিদার সবচেয়ে বিখ্যাত ধারণা হলো—“ডিকনস্ট্রাকশন”।
অনেকেই শব্দটি শুনে ভাবে এ বোধহয় ধ্বংস বা বাতিল করার দর্শন।
আসলে তা নয়। দেরিদার মতে, প্রতিটি লেখা, প্রতিটি ভাষা, এমনকি প্রতিটি ভাবনাই এক ধরনের আড়াল—যা ভেতরের সত্যকে ঢেকে রাখে।
তাই তিনি বলেন—
“লিখিত শব্দ তার নিজস্ব অর্থকে কখনই সম্পূর্ণ প্রকাশ করে না।”
ডিকনস্ট্রাকশন মানে হলো সেই আড়ালকে সরিয়ে দেখা,
সেই অর্থকে খুলে দেখা, আবারও সন্দেহ করা।
সত্য এখানে একক নয়—বরং বহু স্তরে গঠিত, বহুমাত্রিক।
দেরিদা লিখেছিলেন—
There is no outside-text-আমরা যা বুঝি, ভাবি বা বলি—সবই ‘টেক্সট’-এর মধ্যেই।
আমরা যাকে বাস্তব ভাবি, বা বাস্তবতার বাইরে কিছু খুঁজতে যাই—সেটাও একরকম ভাষার গঠন।
কেননা ভাষার কোনো স্থির অর্থ নেই। আর অর্থ মানেই চলমান সন্দেহ।