নয় জীবন

উইলিয়াম ডালরিম্পলের “নাইন লাইভস” -নয় জীবনের গল্প।

প্রতিটি অধ্যায়ে একজন করে চরিত্র তার নিজের গল্প বলেছেন।এরা কাল্পনিক নয় রক্তে মাংসে বাস করা জীবন্ত মানুষ। সাক্ষাৎকার বলা হলেও আসলে আত্মকথনের ভঙ্গিমায়,তাদের ভাষ্যেই লিখেছেন ডালরিম্পল।তারা কেউ জৈন সন্ন্যাসী , কেউ সুফি দরবেশ ,কেউ তন্ত্রসাধক, কেউ বা তিব্বতি ভিক্ষু ।
এই মানুষদের জীবনে ধর্ম কেবল বিশ্বাস নয়, আশ্রয়, অস্তিত্ব, প্রতিবাদ, এবং অনেকক্ষেত্রে এই তথাকথিত সমাজব্যবস্থা থেকে প্রস্থানও।

বইয়ে আছে এক দলিত থ্যেয়াম শিল্পীর আত্মকথা। যে এই সমাজে অচ্ছুৎ। যে কেবল একমাসের জন্য হয়ে ওঠে দেবতা।তখন মানুষ তার পায়ের কাছে নত হয়,স্পর্শ করে।যাকে মানুষ হিসেবে ছোঁয়া যায়না তাকে দেবতারূপে ঠিক ছুঁতে যায় সমাজ।

ইয়েল্লামা নামের এক জনপ্রিয় লোকদেবী, যার উপাসকরা বিশ্বাস করেন তিনি নিষিদ্ধ নারীদের বিধবা, পতিতা, সমাজচ্যুত নারীর আশ্র‍্য হোন।সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে আবার নিপীড়নের আরেক অধ্যায়।

জানা হলো,সল্লেখনের কথা।জৈন ধর্মে বিশ্বাসী সন্ন্যাসিরা যে ধীর প্রক্রিয়ায় আত্মমরণের দিকে এগিয়ে যান, সেই প্রক্রিয়াই সল্লেখন।বয়স যখন চূড়ান্ত প্রান্তে পৌঁছায়,গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত হন,জীবনযাত্রার সকল দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়,ধর্মীয় সাধনায় পূর্ণতা আসে-তখন কেউ কেউ সল্লেখনের সিদ্ধান্ত নেন, গুরু বা সন্ন্যাসীর পরামর্শে।ধর্ম তাদের সেই অনুমতি দেয়।ধীরে ধীরে খাবার ও একসময় পানী গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে মৃত্যু ঘটনোই সল্লেখন প্রক্রিয়া।এই প্রক্রিয়া বড় দীর্ঘ।।
বিশ্বাস করা হয় এই মৃত্যু সংযম এবং আত্মশুদ্ধির প্রতীক।

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জৈন ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর,চন্দ্রগিরি পাহাড়ে একটি গুহায় অবস্থান করেন এবং সেখানেই সল্লেখনের মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করেন বলে প্রচলিত আছে। সেখানে তাঁর স্মৃতিতে একটি প্রাচীন গুহা এবং জৈন মন্দিরও রয়েছে।

Similar Posts

  • আকাশ সমাধি

    মৃত্যু হলে মৃতের সৎকার করা হয়।বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্নরকম রীতি।আমি ভাবতাম আচার যত ভিন্নই হোক মৃতকে কেবল মাটিতে সমাধি দেয়া হয় বা দাহ করা হয়।কিন্তু আকাশ সমাধির কথা শুনেছেন? জরুথ্রস্ত ধর্মে (যা আজও ইরান ও ভারতীয় পারসি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত), মৃতদেহকে “অশুচি” বা নাসু হিসেবে গণ্য করা হয়।বিশ্বাস করা হয়, মৃত্যু একটি দানবিক শক্তির সংস্পর্শ এনে…

  • ইনিকো ইদিয়েদি সিনেমা এবং মিথ

    অন বডি এন্ড সৌল-নামে একটা হাঙ্গেরিয়ান সিনেমা আছে।যার পরিচালক ইদিকো ইনিয়েদি।সিনেমায় দুটো মানুষ একই স্বপ্ন দেখে ঘুমের ভেতর,তারা হরিণ-হরিণী হয়ে ঘুরে বেড়ায় বরফমোড়া বনে।সেই সিনেমায় লরা মার্লিনের একটা গান আছে যার লাইন-Forgive me Hera,I cannot stay.He cut out my tongue,There is nothing to save.আমি একসময় বুঁদ হয়ে শুনতাম এই গানটা।আমি ভাবলাম অনুবাদ করি।তখন মনে হলো…

  • লায়লা মজনু

    পারস্যের সপ্তম শতকের একজন কবি যার নাম কায়েস ইবনে আল-মুলাওয়াহ।যার প্রেম কাহিনী পারস্যের লোককাহিনী হয়ে ঘুরে ফিরেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।পরবর্তীতে নিজামী গঞ্জভী – রচিত এক মহাকাব্য এই কিংবদন্তিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছে। কী?-এইটুকু পড়ে নিশ্চয়ই চেনা যায়নি কায়েস ইবনে-আল মুলাওয়াহকে।কিন্তু জানেন কী,ইনি আমাদের খুব পরিচিত একজন! খুলে বলছি। লায়লা-মজনুর নাম জানেন না এমন কী কেউ…

  • মাহমুদ দারবিশের একটা লাইন আছে-তোমাকে ভুলে যাবার জন্য আমি যে পথগুলো হেঁটেছি সেগুলোও আমাকে তোমার কাছে নিয়ে গেছে। অর্ফিয়ুস ইউরিদিসকে ফিরে পেয়েও হারিয়েছিলেন ফিরে তাকানোর অভ্যাসে।ফরহাদ শিরির মৃত্যু খবর পেয়েই কোপ দিয়ে নিজেকে আলগা করে ফেলেছিলেন শরীর থেকে। এতো প্রেমের পৃথিবীতে তবু বিচ্ছেদ থাকে। প্রচন্ড ভালোবাসার মানুষকেও মানুষ শেষ পর্যন্ত ভালোবাসিনা’র তালিকায় জুড়ে দিতে পারে।কাছে…

  • ব্রোথেল অথবা বিধ্বস্ত জীবন

    প্রেমিকার বুক থেকে মুখ তুললেই পৃথিবীটাকে একটা ব্রোথেল মনে হয়  আমার মা একটা থালায় ভাত মাখতে থাকেন বাবার ওষুধের স্ট্রীপগুলো হয়ে ওঠে ভুবুক্ষ দানব বোনের গা থেকে খসে যেতে চায় ডুরে শাড়ির আঁচল জীবন খড়ের মাঠবিধ্বস্ত সমস্ত ফসল নিয়ে আমি দিগ্বিদিক হাঁটি লম্পট আহ্লাদ আর মাসকাবারি ঠোঙারউজাড় করা দুর্ভিক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকি  ভাবি  দীর্ঘ হোক বাড়ি ফেরার পথ পকেটে হলদেটে…

  • মৃত প্রেমিকের আখ্যান

    তুমি জানতে বেঁচে থাকাটা আমার কতোপ্রিয়,তাই তোমাকে হারােনার দুঃখ অর্থবহকরে তুলতে আমি ঢুকে পড়ি শহরেরযেকােনো পানশালায়।সমস্ত আবেগকে অ্যালকোহলে ডুবিয়েজুয়ার টেবিলে কয়েক দান হেরেউদযাপন করে নিই ভােলােবেসে নিঃস্বহবার শোক।অতঃপর বাড়ি ফিরে স্লিপীং পিলেরঅধীনে ঘুমকে সমর্পিত করে মাথা রাখিপোষা বালিশে।সকালে ঘুম ভাঙার পর রোজ ভাবিএবার তোমাকে এও জানাতে হবেনিজের মৃত দেহকে সামলেবেঁচে থাকাটা নেহাৎ অপ্রিয় নয়!