পুনরাবৃত্তি

সৃজিত মুখার্জির দ্বিতীয় পুরুষ সিনেমায় একটা সংলাপ আছেনা এমন- প্রেমিক-প্রেমিকাদের তো কোনো ফিক্সড নাম হয়না।আজ যে রজত গতকাল সে’ই অমিত রায় ছিলো,গত পরশু সে মার্ক এন্টিনি ছিলো।জলটা একই থাকে,চোখটা বদলে যায়।চুমুটা একই থাকে শুধু ঠোঁট দুটো বদলে যায়।

সত্যিই তাই।

কবির সুমনের ,যতবার তুমি জননী হয়েছো ততবার আমি পিতা কিংবা জন্মের আগেও জন্ম জন্মের পরেও জন্ম তুমিই এমনের মত ইউনিভার্সাল পার্টিকুলার।

মানুষের ভিতরের আকাঙ্ক্ষা, ঘনিষ্ঠতার ক্ষুধা, স্পর্শ পাওয়ার বাসনা এসব একই থাকে।কেবল সেই অনুভূতির উপর নতুন নতুন মুখ এসে বসে। প্রেমে পড়া মুখগুলোকে প্রায় একইরকম মনে হয়,মনে হয় তাদের ভাষা এক।
মনে হয়, আমরা কেবল আমাদের পুনরাবৃত্তিই করে চলেছি।

কিন্তু তবুও প্রেম কখনো পুরোপুরি পুনরাবৃত্তি নয়।
জীবনটা বইতে শুরু করলে তাদের ঢেউগুলো পাল্টে যায়।ভালোবাসার মধ্যে কিছু কোলাহল ঢুকে এসে নতুন ভাষা তৈরী করে দিয়ে যায়। শুরুর প্রেমে মানুষ একে অপরকে দেখে স্বপ্নের ভিতর দিয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব ঢুকে পড়ে। অভিমান, ক্লান্তি, সংসার, ভয়, অসম্পূর্ণতা, অতীতের ক্ষত সব মিলিয়ে নতুন অন্য এক ভাষার ঝাঁপি খুলতে থাকে।

প্রথমে যে দুজন শুধু ভালোবাসি বলতে বলতে একটা দিন কাটিয়ে দিতে পারতো।সকল কথা শেষের পরেও যাদের বলবার মতো আরও অনেক কথাই থেকে যেত।কথা দিয়ে কথা রাখতে পারার মত অলৌকিক এক ক্ষমতা থাকতো।সে দুজনই আবার হয়তো সারাদিন কথা না বলেই কাটিয়ে দেবে।কথা না বলেও বলবার মতো কোনো কথা তাদের থাকবেনা।ব্যস্ততা নামের রাক্ষস কথা দিয়ে কথা রাখার মত অলৌকিক ক্ষমতাকে খেয়ে ফেলবে।

রাগ,অভিমান,ঝগড়ার মত শব্দগুলো ভিড় জমাতে থাকবে।প্রেমের অভিধানে শুরুতে এগুলো থাকে না। জীবন সময়ের সাথে ধীরে ধীরে নিজে এগুলো লিখে দেয়।
সেই ভাষাই হয়তো তাদের কিছুটা দূরে নিয়ে যায় কিংবা আরও কাছে টেনে আনে।

যাদের দূরে নিয়ে যায় তারা কী করে? কাছাকাছি বসে থেকেও দুজন দুই ভিন্ন ঋতুতে বাস করে?

Similar Posts

  • তরণী তুমি করো মোরে পার

    আকিরা কুরোসাওয়া বলেছিলেন-ব্যর্থ কবিরা পরিচালক হিসেবে ভালো হয়। কুরোসাওয়াও কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলেন শুরুতে, পরে নির্মাতা হিসেবে নাম করেছেন। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ক্ষেত্রেও একথা খাটে। কবিতা লিখতে লিখতেই তিনি নির্মাতা হলেন। আমি কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের চেয়ে নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তকেই বড় করে দেখি। হুমায়ূন আহমেদও কবিতা লিখে বোনের নাম করে পত্রিকায় পাঠিয়েছিলেন, সেটি প্রকাশিতও হয়েছিলো। অনেক লেখকের…

  • থ্রু দ্য অলিভ ট্রি

    মন ভালো না লাগলে আমি আব্বাস কিয়ারোস্তামির “থ্রু দ্য অলিভ ট্রি” দেখি মাঝে মাঝে।একটা দৃশ্য শ্যুট করা হয়ে গেলে পুরো টিম যখন অন্য দৃশ্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন সেই ব্যস্ততার মাঝখানে, যেন সময় একটু থেমে যায়-হোসেইন আর তাহিরাহ শ্যুট হওয়া দৃশ্যের মতোই সেঁটে থাকে।হোসেইন তাহিরাহকে খুব সাধারণ কিছু কথা বলে। এমন কথা, যেগুলো আলাদা করে শোনার…

  • রেঁনে ম্যাগরিথ

    চিত্রকর্মের নাম -দি লাভার।রেঁনে ম্যাগরিথের আঁকা।আমার বড় প্রিয়। দুটি মানুষের চুম্বনের দৃশ্য,কিন্তু তাদের মুখ ঢাকা সাদা কাপড়ে।প্রথম দেখায় অদ্ভুত লাগে, কিছুটা অস্বস্তিকরও।পরক্ষণেই মানুষের সম্পর্কের গভীরে থাকা সেই পুরনো সত্য আরো প্রকট হতে থাকে।মানুষ যতই কাছে আসে,তত একে অপরকে আর দেখতে পায়না।চোখের এতো কাছে,যে দৃশ্যত আড়াল হতে থাকে। শঙ্খ ঘোষের সেই কবিতার লাইনগুলো মনে আসে-কে কাকে…

  • নয় জীবন

    উইলিয়াম ডালরিম্পলের “নাইন লাইভস” -নয় জীবনের গল্প। প্রতিটি অধ্যায়ে একজন করে চরিত্র তার নিজের গল্প বলেছেন।এরা কাল্পনিক নয় রক্তে মাংসে বাস করা জীবন্ত মানুষ। সাক্ষাৎকার বলা হলেও আসলে আত্মকথনের ভঙ্গিমায়,তাদের ভাষ্যেই লিখেছেন ডালরিম্পল।তারা কেউ জৈন সন্ন্যাসী , কেউ সুফি দরবেশ ,কেউ তন্ত্রসাধক, কেউ বা তিব্বতি ভিক্ষু ।এই মানুষদের জীবনে ধর্ম কেবল বিশ্বাস নয়, আশ্রয়, অস্তিত্ব,…

  • রোম এবং এগ্রোপিনা

    সিংহাসনে অধিষ্ঠান বরাবর রক্তের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে।রক্তের স্রোত কেবল মুখ বদলে দেয়। এমনই এক জুলাই আঠারোর রাতে অগ্নুৎপাত হয় রোমের সার্কাস ম্যাক্সিমাসের পাশের এক দোকানঘর থেকে। প্রায় ছয় দিন ধরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা নগরীতে। তখনকার রোম ছিল কাঠ আর পিচের পাতা দিয়ে তৈরি ঘর-বাড়িতে ঠাসা—তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।তৎকালীন রোমের সম্রাট ছিলেন নীরো।যার পুরো…

  • আত্মজাগরণের নির্জন করিডোর”

    “আমি একা” এই বাক্যটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে  এক ধরনের দুঃখ, অসহায়ত্ব বা বিচ্ছিন্নতার অনুভব জেগে ওঠে। সমাজ আমাদের শিখিয়েছে, একা থাকা মানেই যেন অপূর্ণতা। যেন জীবনের সার্থকতা কেবল সম্পর্ক, সংযোগ, ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ভেতরেই নিহিত।  মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী।বেঁচে থাকার তাগিদেই মানুষ বাস করে জোটবদ্ধ এক সামাজিক পরিস্থিতিতে।যার অকেকখানিই নির্ভর করে থাকে চাহিদা,নিরাপত্তা,প্রত্যাশার উপর।…