কিস অফ জুডাস

কবির সুমনের সেই গানটা আছেনা-জানিনা কে দিয়েছিল পলাশকে তার ডাকনাম।সেই গানে একটা লাইন আছে,লাইনটা-জানিনা জুডাস কেন ভালবেসে জিশুকে খোঁজেনি।

এই লাইনটা পুরো একটা ইতিহাস,যে ইতিহাস বিশ্বাস ঘাতকতার।

যিশু খ্রিস্টের ১২ জন শিষ্যের মধ্যে একজন ছিলেন জুডাস ইস্কারিওট। তৎকালীন রোমান শাসক এবং ইহুদি ধর্মযাজকরা যিশুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে তাকে বন্দি করতে চেয়েছিলেন। জুডাস মাত্র ৩০টি রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে যিশুকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।

রাতের খাবার শেষে যিশু তখন তার শিষ্যদের নিয়ে গেথসেমানে নামক একটি বাগানে অবস্থান করছিলেন।অন্ধকার হওয়ায় এবং যিশুকে ব্যক্তিগতভাবে না চেনার কারণে সৈন্যরা যাতে ভুল কাউকে গ্রেপ্তার না করে, সেজন্য জুডাস একটি সংকেত ঠিক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন-
“আমি যাকে চুম্বন করব, তিনিই সেই ব্যক্তি; তাকে আটক করো।”

সেই অনুযায়ী, জুডাস যিশুর কাছে গিয়ে তাকে রাব্বি সম্বোধন করেন এবং চুম্বন করেন। এই চুম্বনের মাধ্যমেই তিনি যিশুকে শত্রুদের কাছে চিহ্নিত করে দেন।

এই ঘটনার পর থেকে “কিস অফ জুডাস” কথাটি বিশ্বজুড়ে বিশ্বাসঘাতকতার মেটাফর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি এমন এক প্রতারণাকে বোঝায় যা বন্ধুত্বের আড়ালে বা ভালোবাসার ছদ্মবেশে করা হয়।

মানুষ কখনও কখনও গাঢ় বিশ্বাসকেও খুব স্বল্প দরে বিক্রি করে দেয়।

রুঢ়তার এই পৃথিবীতে মানুষ অনেক কিছু জয় করতে পারে-
দারিদ্র্য, যুদ্ধ, দূরারোগ্য রোগ পর্যন্ত।
মানুষ চাদে গেছে,আকাশে উড়ছে!
যেখানে মানুষ অসম্ভবকে জয় করে ফেলতে পেরেছে,কিন্তু খুব ঘনিষ্ঠ জনের কাছ থেকে পাওয়া প্রতারণা জয় করতে পারেনি তাতেই ঘায়েল হয়েছে।ধ্বংস হয়েছে।কিংবা আজীবন বয়ে বেরিয়েছি ঘনিষ্ঠ জনের গেঁথে দেয়া খঞ্জর।

ভালোবাসা যদি মুদ্রার এপিঠভয়,ঘৃণা প্রতারণা ওপিঠ।এ শুধু সত্য নয়, এ মানুষের স্বভাব।
ভালোবাসা আর বিশ্বাসঘাতকতা একই শরীরে বাস করে।

কাউকে বিশ্বাস করবার অনুভূতি যেমন নির্মল ,সেই বিশ্বাসের দরে প্রতরণা পাওয়া ততোটাই বিধ্বংসী।

বিশ্বাস করা আসলে এক ধরনের আত্মসমর্পণ।
নিজের ভেতরের দরজা খুলে দেওয়া, অরক্ষিত হয়ে দাঁড়ানো,
এই ভেবে যে, অপরজন সেখানে আঘাত করবে না।

কিস অফ জুডাস-জোতো বন্দনে

Similar Posts

  • নিজেকে নিয়ে নিজের দিকে যাত্রা

    ইউভাল নোয়া হারারি  তার ” টুয়েন্টি ওয়ান লেসন ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ” বইয়ে এক জায়গায় বলেছেন – “যদি মশা আমাদের কানের কাছে ভনভন করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, আমরা সহজেই জানি কীভাবে তা মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু যদি কোনো চিন্তা আমাদের মনে ভনভন করে এবং রাতে ঘুমাতে না দেয়,আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না কীভাবে…

  • মৃত প্রেমিকের আখ্যান

    তুমি জানতে বেঁচে থাকাটা আমার কতোপ্রিয়,তাই তোমাকে হারােনার দুঃখ অর্থবহকরে তুলতে আমি ঢুকে পড়ি শহরেরযেকােনো পানশালায়।সমস্ত আবেগকে অ্যালকোহলে ডুবিয়েজুয়ার টেবিলে কয়েক দান হেরেউদযাপন করে নিই ভােলােবেসে নিঃস্বহবার শোক।অতঃপর বাড়ি ফিরে স্লিপীং পিলেরঅধীনে ঘুমকে সমর্পিত করে মাথা রাখিপোষা বালিশে।সকালে ঘুম ভাঙার পর রোজ ভাবিএবার তোমাকে এও জানাতে হবেনিজের মৃত দেহকে সামলেবেঁচে থাকাটা নেহাৎ অপ্রিয় নয়!

  • পাখি সম্মেলন

    একবার এক ফকির এসে এক ব্যবসায়ীর দরজায় হাত পেতে দাঁড়ালে ব্যবসায়িটি তাকে তার ভিক্ষাটুকু দিলেন বড় অনাদরে।তখন অই ফকির কেঁদে ফেললেন।ব্যবসায়ী জানতে চাইলেন কাঁদছো কেনো?ফকির উত্তর করলনে-আমার তো কিছুই নেই আমি কত অনায়াসে চলে যাবো,এই সমস্ত জাঁকজমক ছেড়ে যেতে তোমার কত কষ্ট হবে! অই একটামাত্র কথা সেই ব্যবসায়ীর জীবন আমুল পাল্টে দিলো।তিনি তার সমস্ত ধন-সম্পদ…

  • বাবা ফরিদ গঞ্জেশকার

    আমার সারা দেহ,খেয়ো গো মাটি…এই চোখ দুটো মাটি খেয়ো না।আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ,মিটবে না গো মিটবে না।তারে এক জনমে ভালোবেসে,ভরবে না মন ভরবে না।-গানটা খুব ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি।আমাদের দেশের গুণী সুরকার,গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা এবং সুরে গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।নয়নের আলো সিনেমার গান,আমার বড় পছন্দের গান,প্রিয় গান। বহুবছর পর যখন রকস্টার সিনেমাটা…

  • আত্মজাগরণের নির্জন করিডোর”

    “আমি একা” এই বাক্যটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে  এক ধরনের দুঃখ, অসহায়ত্ব বা বিচ্ছিন্নতার অনুভব জেগে ওঠে। সমাজ আমাদের শিখিয়েছে, একা থাকা মানেই যেন অপূর্ণতা। যেন জীবনের সার্থকতা কেবল সম্পর্ক, সংযোগ, ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ভেতরেই নিহিত।  মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী।বেঁচে থাকার তাগিদেই মানুষ বাস করে জোটবদ্ধ এক সামাজিক পরিস্থিতিতে।যার অকেকখানিই নির্ভর করে থাকে চাহিদা,নিরাপত্তা,প্রত্যাশার উপর।…

  • প্রবাদ

    সকালের চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখছিলাম। আমার চায়ের কর্নারে সাজানো আফ্রিকান ট্রাইবাল মাস্কগুলোর দিকে চোখ যেতেই হঠাৎ মনে পড়ল একটি আফ্রিকান প্রবাদ-“যে শিশুকে গ্রাম আগলে রাখে না, সে উষ্ণতা পেতে একদিন পুরো গ্রামই জ্বালিয়ে দেয়।” আমার এমন হয়।এক ভাবনা থেকে অন্য ভাবনায় প্রায়শই লাফিয়ে যাই। এই তো, এখনই মনে পড়ছে আরেকটি আফ্রিকান প্রবাদ-“জ্ঞান হচ্ছে বাবাব…