প্রবাদ

সকালের চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখছিলাম। আমার চায়ের কর্নারে সাজানো আফ্রিকান ট্রাইবাল মাস্কগুলোর দিকে চোখ যেতেই হঠাৎ মনে পড়ল একটি আফ্রিকান প্রবাদ-
“যে শিশুকে গ্রাম আগলে রাখে না, সে উষ্ণতা পেতে একদিন পুরো গ্রামই জ্বালিয়ে দেয়।”

আমার এমন হয়।এক ভাবনা থেকে অন্য ভাবনায় প্রায়শই লাফিয়ে যাই। এই তো, এখনই মনে পড়ছে আরেকটি আফ্রিকান প্রবাদ-
“জ্ঞান হচ্ছে বাবাব গাছের মতো, তাকে এক জীবনে পুরোপুরি আলিঙ্গন করা যায় না।”

বাবাব গাছ আফ্রিকা ও আরবের শুষ্কভূমিতে জন্মায়। এর ব্যাস এত প্রশস্ত যে একেকটি গাছ ঘিরে দাঁড়ালে পঞ্চাশজন মানুষ মিলে পূর্ণ বৃত্ত তৈরি করতে পারে।

প্রবাদ আসলে একেক অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের নির্যাস। মানুষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রকৃতির সাথে তার সহাবস্থান, এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জ্ঞান সব প্রবাদে প্রোথিত হয়। অনেকবছর আগে কয়েকটা প্রবাদ অনুবাদ করেছিলাম।এই প্রবাদময় সকালে সেগুলোও থাকলো,এইখানে-

মোমবাতি কিনতে সূর্য বেচে দিওনা। – (জুইশ প্রবাদ)

খেলা শেষে রাজা আর ঘুঁটি একই বাক্সে যায়। -(ইতালিয়ান প্রবাদ)

যদি দ্রুত পৌঁছাতে চাও, একা যাও
যদি বহুদূর পৌঁছাতে চাও, একসাথে যাও। – (এরাবিয়ান প্রবাদ)

সুখ ভাগ করলে দ্বিগুণ হয়, দুঃখ ভাগ করলে অর্ধেক। -(সুইডিশ প্রবাদ)

শব্দের ভার হয়, সংখ্যা হয়না। -(আদ্দিশ প্রবাদ)

দীর্ঘদিন বাঁচতে পারবেনা বলেই গভীরে বাঁচো। -(ইতালিয়ান প্রবাদ)

ভালোবাসা যখন রাজত্ব করে তখন তুমি বাধ্য প্রজা। (ইন্ডিয়ান প্রবাদ)

অন্ধকারে থেকে ভালো মোমবাতি জ্বলানো। -(চায়নিজ প্রবাদ)

তবু জল গভীরে যেতে পারে। (লাতিন প্রবাদ)

যে দ্বারে দ্বারে ঘোরেনি সে জানেনা মানুষের মর্ম। -(মরিশ প্রবাদ)

মাপ দাও লক্ষ্যবার, কাটো একবার। -(তার্কিশ প্রবাদ)

চামচ কি করে জানবে খাবারের স্বাদ
মূর্খ কি করে জানবে জ্ঞানের স্বাদ? – (ওয়েলিশ প্রবাদ)

যেখানে তোমাকে কেউ বলছে, সেখানে তোমাকে নিয়েও কেউ বলছে। -(স্প্যানিশ প্রবাদ)

না জানায় লজ্জা নেই, লজ্জা জানতে না চাওয়ায়। ( রাশান প্রবাদ)

যা তুমি নিজে, তাই তুমি পৃথিবীকে ভাব। -(আফ্রিকান প্রবাদ)

একটা শিশু বেড়ে উঠতে পুরো গ্রামটাই লাগে। -(আফ্রিকান প্রবাদ)

একটা ভুল স্বীকার করা মানে অর্ধেক শুদ্ধ করে ফেলা। (জুলু প্রবাদ)

রাস্তা হেঁটেই তৈরী করতে হয়। -(আফ্রিকান প্রবাদ)

যদি সাফল্য চাও, পরামর্শ নাও তিনজন প্রবীণের। -(চায়নিজ প্রবাদ)

সেই নৌকাকে লাথি দিওনা যে তোমাকে নদী পার করে দিচ্ছে। – (মালাগসি প্রবাদ)

বিশ্ব বদলে ফেলতে যাবার আগে নিজের ঘরের দিকে তিনবার তাকাও। -(চায়নিজ প্রবাদ)

বলার কথা সুন্দর হলে,শোনার কথাও সুন্দর হয়।(কোরিয়ান প্রবাদ)

লোহা ঘষতে থাকলে একদিন সুচ হয়।(ভিয়েতনামি প্রবাদ)

সময় তলোয়ারের মত।তুমি তাকে না কাটলে সে তোমাকে কাটবে।(মিশরীয় প্রবাদ)

Similar Posts

  • ঋত্বিক ঘটক এবং একটি বিষন্ন জীবন

    এই শহরে এতো দুঃখ কেনো হরিদাস?-বাড়ি থেকে পালিয়ে সিনেমার সংলাপ। “কে চায় দুঃখ? জীবন দুঃখ নহে বীরত্ব। “সুরমা ঘটককে এক চিঠিতে লিখেছিলেন সুরমা।সুরমা ঘটকের ঋত্বিক পড়ছিলাম। অনেক শিল্পী সাহিত্যিকের জীবন ঘেটে দেখেছি জীবনের এই অনিশ্চয়তা, অপ্রাপ্তি আর হতাশা একই। হয়তো প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। যুক্তি তক্কো গপ্পে বলেছিলেন- জীবন জীবিতের, জীবিতের ধর্ম বহতা অমোঘ দুর্নিবার। সব পুড়ছে,…

  • তরণী তুমি করো মোরে পার

    আকিরা কুরোসাওয়া বলেছিলেন-ব্যর্থ কবিরা পরিচালক হিসেবে ভালো হয়। কুরোসাওয়াও কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলেন শুরুতে, পরে নির্মাতা হিসেবে নাম করেছেন। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ক্ষেত্রেও একথা খাটে। কবিতা লিখতে লিখতেই তিনি নির্মাতা হলেন। আমি কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের চেয়ে নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তকেই বড় করে দেখি। হুমায়ূন আহমেদও কবিতা লিখে বোনের নাম করে পত্রিকায় পাঠিয়েছিলেন, সেটি প্রকাশিতও হয়েছিলো। অনেক লেখকের…

  • কাকে যেনো খুঁজি

    পরিচালক,কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তকে অঞ্জন দত্ত প্রথম প্রেম নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি মধুবালার কথা বলেছিলেন।দশ বছর বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন মধুবালার।চলতি কা নাম গাড়ি-সিনেমা দেখে।এরপর তিনি সেই সিনেমা দেখতেই থাকলেন।তিনি নাকি ঠিক করে ফেলেছিলেন সারাজীবন সেই মানুষটার সঙ্গেই থাকবেন।একবার বাবার সংগে বম্বেতে গিয়েছেন তখন তার বারো বছর বয়স।তিনি দেখলেন মধুবালা বাসট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন।আরেকবার দিল্লীতে কুতুবমিনার দেখতে গিয়েছেন,তিনি…

  • ভায়োনিক স্ক্রিপ্ট

    আমি প্রায় সময় হলিউডের ফ্যান্টাসি ঘরানার সিনেমাগুলো দেখে দেখে ভাবতাম এরা কী করে এতো কল্পনাপ্রবণ স্ক্রিপ্ট লিখতে পারে।কোথায় পায় ওরা একেকটা সিম্বল তৈরীর রসদ! পৃথিবীতে এতো আশ্চর্য সব বিষয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,প্রাচীন।আমাদের বাঙালী বেগার কাটা জীবন সেসবের খোঁজ কী জানে! ঊনিশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে উইলফ্রেড ভায়োনিক নামে এক পোলিশ ভদ্রলোক,যিনি বিরল সব বই সংগ্রহ করতে…

  • রোম এবং এগ্রোপিনা

    সিংহাসনে অধিষ্ঠান বরাবর রক্তের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে।রক্তের স্রোত কেবল মুখ বদলে দেয়। এমনই এক জুলাই আঠারোর রাতে অগ্নুৎপাত হয় রোমের সার্কাস ম্যাক্সিমাসের পাশের এক দোকানঘর থেকে। প্রায় ছয় দিন ধরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা নগরীতে। তখনকার রোম ছিল কাঠ আর পিচের পাতা দিয়ে তৈরি ঘর-বাড়িতে ঠাসা—তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।তৎকালীন রোমের সম্রাট ছিলেন নীরো।যার পুরো…

  • মৃত প্রেমিকের আখ্যান

    তুমি জানতে বেঁচে থাকাটা আমার কতোপ্রিয়,তাই তোমাকে হারােনার দুঃখ অর্থবহকরে তুলতে আমি ঢুকে পড়ি শহরেরযেকােনো পানশালায়।সমস্ত আবেগকে অ্যালকোহলে ডুবিয়েজুয়ার টেবিলে কয়েক দান হেরেউদযাপন করে নিই ভােলােবেসে নিঃস্বহবার শোক।অতঃপর বাড়ি ফিরে স্লিপীং পিলেরঅধীনে ঘুমকে সমর্পিত করে মাথা রাখিপোষা বালিশে।সকালে ঘুম ভাঙার পর রোজ ভাবিএবার তোমাকে এও জানাতে হবেনিজের মৃত দেহকে সামলেবেঁচে থাকাটা নেহাৎ অপ্রিয় নয়!