ভায়োনিক স্ক্রিপ্ট

আমি প্রায় সময় হলিউডের ফ্যান্টাসি ঘরানার সিনেমাগুলো দেখে দেখে ভাবতাম এরা কী করে এতো কল্পনাপ্রবণ স্ক্রিপ্ট লিখতে পারে।কোথায় পায় ওরা একেকটা সিম্বল তৈরীর রসদ!

পৃথিবীতে এতো আশ্চর্য সব বিষয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,প্রাচীন।আমাদের বাঙালী বেগার কাটা জীবন সেসবের খোঁজ কী জানে!

ঊনিশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে উইলফ্রেড ভায়োনিক নামে এক পোলিশ ভদ্রলোক,যিনি বিরল সব বই সংগ্রহ করতে ভালোবাসতেন।তিনি ইতালির এক যাজক কলেজ থেকে এক অদ্ভূত বই কিনলেন।

যে বইতে ১১৩টি অদ্ভুত গাছের ছবি ছিলো যার কোনোটিই এই পৃথিবীতে বিদ্যমান নয়।এছাড়াও এই বইতে ছিলো-উদ্ভিদবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা,বালনিওলজী,ঔষুধবিদ্যা,রন্ধনশৈলীর মতো পাঁচটি আলাদা অধ্যায়।বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিলো ২৮০ টি এবং সম্পূর্ণ বইটিই লিখা হয়েছিলো হাতে।প্রত্যেক অধ্যায়ে ছিলো হাতে আঁকা অসং্খ্য ছবি যা থেকে অধ্যায়গুলো সম্পর্কে ধারণা করা গেছে।অবাক করার বিষয় হচ্ছে,বইটি লিখা হয়েছিলো সম্পূর্ণ অন্য এক ভাষায়।যে ভাষার সংগে এটি লাতিন, হিব্রু, আরবি, কিংবা প্রাচীন ইউরোপীয় কোনো ভাষার মিল নেই
স্ক্রিপ্টে প্রায় ২৫–৩০টি বর্ণ রয়েছে, তবে কারও পক্ষেই এ ভাষা ডিকোড করা সম্ভব হয়নি।ধারণা করা হয় এটি প্রায় ছয়’শ বছরের পুরোনো একটি বই।এবং হরপ্পার মতো এরও পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি।

শত শত ভাষাবিদ, ক্রিপ্টোগ্রাফার, কোডব্রেকার এটির অর্থ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোডব্রেকার উইলিয়াম ফ্রিডম্যানও এই বইতে থাকা পাঠ ভেদ করতে পারেননি।

বইটি সংগ্রাহক ভায়োনিকের নামানুসারেই বইটিকে ভায়োনিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট বলে নামকরণ করা হয়।

বইটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে রয়েছে।

Similar Posts

  • আত্মজাগরণের নির্জন করিডোর”

    “আমি একা” এই বাক্যটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে  এক ধরনের দুঃখ, অসহায়ত্ব বা বিচ্ছিন্নতার অনুভব জেগে ওঠে। সমাজ আমাদের শিখিয়েছে, একা থাকা মানেই যেন অপূর্ণতা। যেন জীবনের সার্থকতা কেবল সম্পর্ক, সংযোগ, ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ভেতরেই নিহিত।  মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী।বেঁচে থাকার তাগিদেই মানুষ বাস করে জোটবদ্ধ এক সামাজিক পরিস্থিতিতে।যার অকেকখানিই নির্ভর করে থাকে চাহিদা,নিরাপত্তা,প্রত্যাশার উপর।…

  • মানুষ

    মন সরে গেলে স্মৃতি থেকে যায়। সেখানে সাঁতার কাটে চোখের জল, দীর্ঘশ্বাস। সময়ের জালে নিজেকে জড়াতে জড়াতে আরও অস্ফুট হয়ে ওঠে মানুষ। মানুষই মানুষকে ছেড়ে যায়। আবার মানুষই অপেক্ষা করে দরোজা খুলে। যে মানুষটা ছেড়ে গেলো তার উপর বিশ্বাস হারিয়ে আবার নতুন করে বিশ্বাস করতে শেখে মানুষ। রাস্তার ভিড়ে হাঁটতে হাঁটতে আবারও নতুন করে চাইতে…

  • কিস অফ জুডাস

    কবির সুমনের সেই গানটা আছেনা-জানিনা কে দিয়েছিল পলাশকে তার ডাকনাম।সেই গানে একটা লাইন আছে,লাইনটা-জানিনা জুডাস কেন ভালবেসে জিশুকে খোঁজেনি। এই লাইনটা পুরো একটা ইতিহাস,যে ইতিহাস বিশ্বাস ঘাতকতার। যিশু খ্রিস্টের ১২ জন শিষ্যের মধ্যে একজন ছিলেন জুডাস ইস্কারিওট। তৎকালীন রোমান শাসক এবং ইহুদি ধর্মযাজকরা যিশুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে তাকে বন্দি করতে চেয়েছিলেন। জুডাস মাত্র ৩০টি রৌপ্য…

  • ইনিকো ইদিয়েদি সিনেমা এবং মিথ

    অন বডি এন্ড সৌল-নামে একটা হাঙ্গেরিয়ান সিনেমা আছে।যার পরিচালক ইদিকো ইনিয়েদি।সিনেমায় দুটো মানুষ একই স্বপ্ন দেখে ঘুমের ভেতর,তারা হরিণ-হরিণী হয়ে ঘুরে বেড়ায় বরফমোড়া বনে।সেই সিনেমায় লরা মার্লিনের একটা গান আছে যার লাইন-Forgive me Hera,I cannot stay.He cut out my tongue,There is nothing to save.আমি একসময় বুঁদ হয়ে শুনতাম এই গানটা।আমি ভাবলাম অনুবাদ করি।তখন মনে হলো…

  • ট্রেইন ড্রিমস

    ট্রেইন ড্রিমস সিনেমার এক জায়গায় আর্ন বলে -এই পৃথিবী অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সেলাই করা, আমরা যে সুতোই টানি না কেন,তা সমগ্র নকশাকে কীভাবে বদলে দেয়,আমরা জানি না। সত্যিই তাই।যে সেলাইয়ে এই পৃথিবী নির্মিত,সেই জোড়াগুলো আমাদের চোখের আড়ালে লুকানো। আমরা জানি না কী সরিয়ে নিলে কী ভেঙে পড়বে।কী বাদ দিলে কী টিকে থাকবে আর কী ধ্বসে যাবে,তা…

  • প্রবাদ

    সকালের চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখছিলাম। আমার চায়ের কর্নারে সাজানো আফ্রিকান ট্রাইবাল মাস্কগুলোর দিকে চোখ যেতেই হঠাৎ মনে পড়ল একটি আফ্রিকান প্রবাদ-“যে শিশুকে গ্রাম আগলে রাখে না, সে উষ্ণতা পেতে একদিন পুরো গ্রামই জ্বালিয়ে দেয়।” আমার এমন হয়।এক ভাবনা থেকে অন্য ভাবনায় প্রায়শই লাফিয়ে যাই। এই তো, এখনই মনে পড়ছে আরেকটি আফ্রিকান প্রবাদ-“জ্ঞান হচ্ছে বাবাব…