মাহমুদ দারবিশের একটা লাইন আছে-তোমাকে ভুলে যাবার জন্য আমি যে পথগুলো হেঁটেছি সেগুলোও আমাকে তোমার কাছে নিয়ে গেছে।

অর্ফিয়ুস ইউরিদিসকে ফিরে পেয়েও হারিয়েছিলেন ফিরে তাকানোর অভ্যাসে।ফরহাদ শিরির মৃত্যু খবর পেয়েই কোপ দিয়ে নিজেকে আলগা করে ফেলেছিলেন শরীর থেকে।

এতো প্রেমের পৃথিবীতে তবু বিচ্ছেদ থাকে। প্রচন্ড ভালোবাসার মানুষকেও মানুষ শেষ পর্যন্ত ভালোবাসিনা’র তালিকায় জুড়ে দিতে পারে।কাছে আসতে আসতে হোঁচট খাবার গ্লানি নিয়ে দূরে চলে যেতে পারে।মানুষের নিজেকে এই উত্তোলনের ক্ষমতা আমাকে অবাক করে!

মানুষ যা কোনোদিন পারবেনা বলে একদিন ঠিক করেছিলো, অন্য কোনো একদিন ঠিক সে সেটা পেরে যেতে পারে!

ব্রাত্য রাইসু’র একটা কবিতা আছে “দুর্ব্যবহারের স্মৃতি”।আমার খুব প্রিয়।আমার নোটবুকে থাকে,মাঝে মাঝে খুলে পড়ি।আমার নোটে আমি এমন অনেককিছু জমিয়ে রাখি।

এই কবিতাটাও ছিলো।প্রবুদ্ধসুন্দর কর-কবির নাম।কোথায় কখন পড়ে ভালোলেগেছিলো বলে নিজের কাছে টুকে রেখে দিয়েছিলাম মনে নেই।থেকে গেলো।
ধারণা করি তিনি এইসময়ের’ই কবি।কারোও পরিচিত হলে আমার ভালোলাগাটুকু তাকে পৌঁছে দেবেন।

দরজা
……….

যে তোমাকে ছেড়ে যেতে চায়
তাকে যেতে দাও
আটকে রেখো না।

একটি কথাও না বলে তার
ব্রিফকেস গোছাতে সাহায্য কোরো।
প্রেসার বা থায়রয়েডের ওষুধ সে যেন
ভুল করে ফেলে না যায়। শূন্যতা ছাড়া
সে যেন ছেড়ে না যায় আর কোনো স্মৃতি।

অশ্রুগ্রন্থি থেকে যেন বেরিয়ে না আসে সূচ্যগ্র তরল
ঘুণাক্ষরেও তোমার মুখে যেন জলবসন্তের মতো
আর্তি আর হাহাকার ফুটে না ওঠে।

শুধু এগিয়ে দেওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকে বোলো
দরজা ভেজানো থাকবে
টোকা দেওয়ার দরকার নেই।

আলতো ঠেলে দিলেই কপাট খুলে যাবে।

পুনশ্চ:স্কেচটির কোনো নাম নেই।কাহলিল জীবরানের করা।

Similar Posts