আর্থার শোপেনহাওয়ার
চার্লি চ্যাপলিন কোথাও একটা বলেছিলেন,জীবনকে ক্লোজ শটে দেখলে ট্রাজেডি মনে হয় কিন্তু যদি লং শটে দেখেন তবে কমেডি মনে হবে।
সত্যিই এমন হয়।
একসময় যা ভেবে কাঁদে তা ফেলে বহুদূর চলে গেলে সেই কান্নার কথা ভেবেই হাসি পায়।
মানুষ তার জীবনের অনন্ত জোকার,নানান রঙ মুখ ঢেকে দিয়ে যায় কেবল।
শোপেনহাওয়ার বলতেন এই পৃথিবী ব্লাইন্ড উইলে চলে অর্থাৎ অন্ধ এক ইচ্ছায়।
উনার জন্যে আমার খুব মায়া হয় কেনো যেনো।সারাজীবন কাগজ ঘষে মানুষের এই অর্থহীনতাকে কী ঝলমলে স্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন!
বড় অদ্ভুত ছিলেন।অর্থ বিত্ত কিছুর তো অভাব ছিলোনা।তবু কেনো এমন হাহাকার নিয়ে বেঁচে রইলেন।বাবাকে হারালেন ,মায়ের সংগে জীবনে বেঁচে থাকা ৪৬টি বছর কথা বললেন।
কোন বোধ দিয়ে দেখে ফেললেন মানুষের ভেতরের সেই অদ্ভুত অন্ধকার!
কে জানে!কে জানে কোন বিষাদে মৃত্যুর পরের তার সমাধিফল্ক শূন্য রইলো!
তার কবরে নাকি নামটুকু লেখা-আর্থার শোপেনহাওয়ার। তিনি বলতেন, “যাকে আমাকে জানার প্রয়োজন হবে, সে আমার বইতেই আমাকে খুঁজে পাবে।”

তার একটা পোষা কুকুর ছিলো।রেগে গেলে তিনি তাকে ‘মানুষ’ বলে গালি দিতেন।
অথচ মৃত্যুর পর তার উইলে দেখা গেলো, তিনি তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ যুদ্ধে আহত সৈন্যদের দান করে গেছেন।
মানুষের প্রতি বিরক্ত হয়ে যে মানুষ চিরকার নিজের একা অন্ধকারে অন্ধকারকে ঘাটলেন। মৃতুতে সেই তিনি তার সমস্তটুকু দিয়ে গেলেন মানুষের জন্য।


