দূরের তুমি কাছেই বুঝি

জাজবা সিনেমার শেষ দৃশ্যে ঐশ্বরিয়া যখন চলে যাচ্ছে তখন কেউ একজন ইরফান খানকে বলে- যেতে দিলে?
ইরফান খান তখন বলে- মোহাব্বত হ্যায় ইসিলিয়ে জানে দিয়া,জিদ হোতি তো বাহোমে হোতি।

ভালোবাসি তাই যেতে দিয়েছি,জেদ হলে জড়িয়েই থাকতাম।

এমন প্রেমে রুমীর কবিতার কথা মনে পড়ে-ঠিক ভুলের ওপারে যে ময়দান,সেখানে আমাদের দেখা হবে।

মনে পড়ে অমৃতা প্রীতমকে। মৃত্যু শয্যায় শুয়ে ইমরোজের জন্য লিখছেন-তোমার সাথে ফের আমার দেখা হবে,কবে?কখন?কোথায়?জানা নেই!

ক্যানসারে ভুগে কবি মল্লিকা সেনগুপ্ত যখন চলে যাচ্ছেন,সুবোধ সরকার কাগজে উপচে উঠছেন।তার কবিতায়-

ম়ৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে তাও তুমি কাজল পড়েছ,
কাজল ও কান্নার মাঝখানে তোমার মুখে এক চামচ জল

হ্যাঁ, আমি এক চামচ জল হয়ে
এক চামচ অন্তর্জলী হয়ে, এক চামচ অঞ্জলি হয়ে,

তোমার ভেতরে একটা পূর্ণিমায় ভেসে যাওয়া
বিমানবন্দরে আমি বসে থাকতে চেয়েছিলাম |

খসখসে শব্দগুলো কেমন বুকের ভেতর জলধারার মত কলকল করে উঠবে।

ভার্জিনিয়া উলফ পকেটভর্তি পাথর নিয়ে নদীতে নেমে যাবার আগে চিঠিতে লিখে রেখে যাবেন-আমাকে যদি কেউ বাঁচাতে পারতো সে তুমি,কিন্তু আমি তোমাকে আমার কাছ থেকে বাঁচাতে চাই।

আমি জানি রেব্যোকে এই স্টেশনে ছেড়ে যাবেন পল ভ্যারলেন।রেব্যো আত্মচিৎকার বন্দি হয়ে থাকবে “এ সিজন ইন হেল” হয়ে।

সাহির লুধিয়ানভি ভালোবেসে কোথাও পৌঁছুতে না পেরে লিখবেন- ও আফসানা জিসে আঞ্জাম তাক লানা না হো মুমকিন,উসে ইক খুবসরত মোড় দেকার ছোড়না আচ্ছা।যে গল্পকে পরিণতি দেয়া গেলোনা,তাকে কোনো এক সুন্দর বাঁকেই ছেড়ে দিতে হয়।

আমার মনে হতে থাকবে উৎপলকুমার বসুর -আমার আত্মার চেয়ে সহজ চাতুর্যময় তোমার চলে যাবার ভঙ্গি।
আমি ভাববো সুনীল সাইফুল্লাহর-আমার কপালে বুলেটের মত বিঁধে গেছে তোমার মুখ।

এসবের ভেতর দিয়ে যে সত্যটা মুখ বাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে,তাকে ভাষা দিলে সে কানে কানে বলে-
ভালোবাসা মানে কেবল কাউকে পাওয়া না,ভালোবাসা মানে
কাউকে এমনভাবে অনুভব করা,যে সে না থাকলেও
তার অনুপস্থিতিই সবচেয়ে বড় উপস্থিতি হয়ে ওঠে।

Similar Posts

  • লায়লা মজনু

    পারস্যের সপ্তম শতকের একজন কবি যার নাম কায়েস ইবনে আল-মুলাওয়াহ।যার প্রেম কাহিনী পারস্যের লোককাহিনী হয়ে ঘুরে ফিরেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।পরবর্তীতে নিজামী গঞ্জভী – রচিত এক মহাকাব্য এই কিংবদন্তিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছে। কী?-এইটুকু পড়ে নিশ্চয়ই চেনা যায়নি কায়েস ইবনে-আল মুলাওয়াহকে।কিন্তু জানেন কী,ইনি আমাদের খুব পরিচিত একজন! খুলে বলছি। লায়লা-মজনুর নাম জানেন না এমন কী কেউ…

  • পার্বন বেলা

    অনেক স্রোতের পর এখানে স্থিতধী হাওয়াদুরন্ত সেসব ঢেউ পড়ে আছে শৈশবের দাওয়ায়এখন বেলা অস্তগামী, ফিকে হয়ে আসা রঙেদৈর্ঘ্য প্রস্থ বেড়েছে জামার,বেড়েছে দূরত্ব আনন্দবেলার এখনো এখানে বাবা বাড়ি ফেরেন ব্যাগভর্তি হুলস্থুল নিয়েবাড়ি থেকে ওইটুকুই তো দূরত্ব ঈদগাহ’রহঠাৎ পরিচিত কোনও রান্নার ঘ্রাণে সাড়া ফেলা মায়ের পুরোনো প্রণয় যেমন কথা বলেপার্বনের দিনে এমনই হেঁটে আসে ব্যথা, উঠে আসে…

  • ঘূর্ণি

    রাতের মসৃণ শরীরে পাথরের মতো চেপে থাকা স্তব্ধতা আমাকে টুকরো টুকরো করে উল্লাস করেদিন হলেই পুরনো অস্বস্তির ক্ষুরধার নখ আঁচড়ে আঁচড়ে ছিন্নভিন্ন করতে থাকে মনোযোগ।এসব একই নিয়মে রোজ ঘুরেফিরে আসে।তোমাকে মিথ্যে জানার পরআমার মাথার পাশে সারাদিন কাঁদে একটা মাধবীলতা গাছতোমাকে মিথ্যে জানার পরআমার হৃদপিন্ড হয়ে উঠেছে একটা আদর্শ প্যারাসাইটআর তুমি?প্রচন্ড ভালোবেসে, সব থেকে টেনে নিয়েছুঁড়ে দিয়েছো…

  • মানুষের সৌন্দর্য তার দেখবার দৃষ্টিতে

    মানুষের সৌন্দর্য বিষয়টা যতোটা না নির্ভর করে তার বাহ্যিক অবয়বের উপর তারচেয়ে বেশী নির্ভর করে যে দেখছে তার দেখবার ভঙ্গির ওপর।রবীন্দ্রনাথের বলা-অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা সেই ভঙ্গিমার কথাই বলে। মূলত কোনো মানুষের নিজস্ব কোনো নিখুঁত রূপ থাকে না,আমাদের দেখার ভঙ্গি ও মনস্তত্ত্বই তাকে অপরূপ করে তোলে। যখন আমরা কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসি, তখন কেবল চর্মচক্ষু…

  • পাখিদের দূরত্ব

    দূরত্ব হয়ে গেলে আমাদের মধ্যে একটা পাখি ওড়ে। শিস দেয়, ডানা ঝাপ্টায়, ছটফটায়। এই যে সকাল, সকালের গায়ে লেগে থাকা আদর আদর ঘুম এটুকুর পর মানুষ বড্ড একা।

  • হৃদয়চিত্র

    চারপাশে কাচের দেয়াল তুলে দিয়ে স্বস্তিতে থাকতে চেয়েছিনিজেকে বন্দী করতে করতে একবিন্দু হয়ে গেছিটের পাইনি..জ্বরের ঘোরে একটা হাত খুঁজতে গিয়েপাশের ঘর থেকে ভেসে এসেছে মর্গের শীতলতারাস্তা পার হওয়া শিখবার আগেই আঙ্গুল থেকে মুছে গেছে নির্ভার হাতের ছাপএখন পাশে থাকা গল্পগুলো কেবল বলয়বিকেলের মৃত শরীরে ফেরে রাত পুরনো প্রবাদেঅন্ধকারের সময়সীমা পেরোলেই ভোরথিয়েটার পাড়ার মগ্ন মঞ্চের মতো মহড়ায়…