হরপ্পা অজানা লিপি

আমার হাতে ফলকটি হরপ্পা লিপির।মিশর সভ্যতার হায়ারোগ্লিফিক্স,সুমেরীয় সভ্যতার কিউনিফর্ম পাঠোদ্ধার সম্ভব হলেও এই হরপ্পা লিপির পাঠোদ্ধার আজও সম্ভব হয়নি।

আমার কাজে সাহায্যকারী বুয়া আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আপা এই গরুর দরবেশের লাখান দাড়ি কেন!

আমি হেসে জবাব দিলাম-কত রথি মহারথিরা এই কেনোর উত্তর জানেন না।আমি আর কোন ছাড়!

অন্যান্য সভ্যতা যেমন-মিশর সভ্যতা,সুমেরীয় সভ্যতা কিংবা চীনা সভ্যতায় ধর্ম বিশ্বাসের নজির পাওয়া গেছে।পাওয়া গেছে রণকৌশলের নিশানা।

কিন্তু হরপ্পান সভ্যতায় এগুলোর কিছুরই হদিস মেলেনি,যা একে আরও রহস্যময় করে তোলে।

হরপ্পা আবিষ্কারের ঠিক এক বছর পরই মহেঞ্জোদারোর হদিস পাওয়া যায়।

সিন্ধু নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা, যা গড়ে উঠেছিল আনুমানিক ২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে,ছিল পরিকল্পিত নগরায়ণের এক অপূর্ব নিদর্শন।
সরাসরি যুদ্ধের কোনো স্মারক নেই, নেই কোনো বিশাল মন্দির, নেই কোনো রাজপ্রাসাদ।

হরপ্পা ও মাহেঞ্জোদারোর শহর ছিল শৃঙ্খলার প্রতীক।সমান্তরাল রাস্তাঘাট, সুপরিকল্পিত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ইটের তৈরি ঘরবাড়ি,
এমনকি সাধারণ মানুষের জন্যও ছিল স্নানঘর ও কূপ।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় এই শহরের সমস্ত নির্মাণ ছিল এক অভিন্ন পরিকল্পনার অন্তর্গত।এবং এই নির্মাণে ব্যবহৃত ইটের মাপ ছিলো এক।

কোনো রাজা বা শাসকশ্রেণীর চিহ্ন না রেখেই তারা তৈরি করেছিল এক অসামান্য সমাজব্যবস্থা।

তবে প্রশ্ন ওঠে,এত উন্নত পরিকল্পনার পেছনে কি ছিল না কোনো ধর্মীয় প্রেরণা?কোথায় তাদের মন্দির?কোথায় যুদ্ধের কাহিনি?
কোথায় রাজাদের প্রতিমা বা স্মারক?

যা মিলেছে তা কিছু সিলমোহর, যেগুলোতে রয়েছে এক ধরণের যোগাসনের বসা প্রাণীর চিত্র ,যাক অনেকে শিবের আদিরূপ ভেবে থাকেন।
মিলেছে নারী-মূর্তি, যাকে কেউ কেউ ধরেছেন ‘মাতৃদেবী’।
এই সব ব্যাখ্যা অনুমাননির্ভর।

হরপ্পার লিপি আজও পাঠোদ্ধারহীন।

কেবলমাত্র ভাষা জানা গেলোনা বলে তাদের গল্প হয়ে রইলো কোনো এক ঝিম ধরা গল্পের অপূর্ণ ,অসম্পূর্ণ অধ্যায়।
তাদের বিশ্বাস, রাজনীতি, জীবনদর্শন সবই রয়ে গেলো এক অস্পষ্ট কুয়াশার আড়ালে।

Similar Posts

  • প্রবাদ

    সকালের চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখছিলাম। আমার চায়ের কর্নারে সাজানো আফ্রিকান ট্রাইবাল মাস্কগুলোর দিকে চোখ যেতেই হঠাৎ মনে পড়ল একটি আফ্রিকান প্রবাদ-“যে শিশুকে গ্রাম আগলে রাখে না, সে উষ্ণতা পেতে একদিন পুরো গ্রামই জ্বালিয়ে দেয়।” আমার এমন হয়।এক ভাবনা থেকে অন্য ভাবনায় প্রায়শই লাফিয়ে যাই। এই তো, এখনই মনে পড়ছে আরেকটি আফ্রিকান প্রবাদ-“জ্ঞান হচ্ছে বাবাব…

  • আত্মজাগরণের নির্জন করিডোর”

    “আমি একা” এই বাক্যটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে  এক ধরনের দুঃখ, অসহায়ত্ব বা বিচ্ছিন্নতার অনুভব জেগে ওঠে। সমাজ আমাদের শিখিয়েছে, একা থাকা মানেই যেন অপূর্ণতা। যেন জীবনের সার্থকতা কেবল সম্পর্ক, সংযোগ, ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ভেতরেই নিহিত।  মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী।বেঁচে থাকার তাগিদেই মানুষ বাস করে জোটবদ্ধ এক সামাজিক পরিস্থিতিতে।যার অকেকখানিই নির্ভর করে থাকে চাহিদা,নিরাপত্তা,প্রত্যাশার উপর।…

  • রেঁনে ম্যাগরিথ

    চিত্রকর্মের নাম -দি লাভার।রেঁনে ম্যাগরিথের আঁকা।আমার বড় প্রিয়। দুটি মানুষের চুম্বনের দৃশ্য,কিন্তু তাদের মুখ ঢাকা সাদা কাপড়ে।প্রথম দেখায় অদ্ভুত লাগে, কিছুটা অস্বস্তিকরও।পরক্ষণেই মানুষের সম্পর্কের গভীরে থাকা সেই পুরনো সত্য আরো প্রকট হতে থাকে।মানুষ যতই কাছে আসে,তত একে অপরকে আর দেখতে পায়না।চোখের এতো কাছে,যে দৃশ্যত আড়াল হতে থাকে। শঙ্খ ঘোষের সেই কবিতার লাইনগুলো মনে আসে-কে কাকে…

  • চিন্তার গতিপথ -১

    ভেবেচিন্তে ভালোবাসা হয়না,প্রেম হয়না- এই কথাটাকে আমি পৃথিবীর সমস্ত ধর্ধর্মগ্রন্থকে মানুষ যেভাবে মানে,সত্য বলে জানে,আমিও ঠিক তেমনি মানি। কিন্তু সেই ভালোবাসাকে যদি সম্পর্কে রূপ দিতে চান তবে একশো কোটিবার ভাবুন।ভালো দূর থেকেও বাসা যায়,ভালোবাসার জন্য সম্পর্কের দরকার হয়না।ভালোবেসে একটা সম্পর্ক তৈরী করে তাতে নিজের অপারগতা,ব্যর্থতা,মানুসিক ট্রমার বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আরেকটা মানুষের জীবন,মানস,সময় ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে…

  • পাখি সম্মেলন

    একবার এক ফকির এসে এক ব্যবসায়ীর দরজায় হাত পেতে দাঁড়ালে ব্যবসায়িটি তাকে তার ভিক্ষাটুকু দিলেন বড় অনাদরে।তখন অই ফকির কেঁদে ফেললেন।ব্যবসায়ী জানতে চাইলেন কাঁদছো কেনো?ফকির উত্তর করলনে-আমার তো কিছুই নেই আমি কত অনায়াসে চলে যাবো,এই সমস্ত জাঁকজমক ছেড়ে যেতে তোমার কত কষ্ট হবে! অই একটামাত্র কথা সেই ব্যবসায়ীর জীবন আমুল পাল্টে দিলো।তিনি তার সমস্ত ধন-সম্পদ…

  • বাবা ফরিদ গঞ্জেশকার

    আমার সারা দেহ,খেয়ো গো মাটি…এই চোখ দুটো মাটি খেয়ো না।আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ,মিটবে না গো মিটবে না।তারে এক জনমে ভালোবেসে,ভরবে না মন ভরবে না।-গানটা খুব ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি।আমাদের দেশের গুণী সুরকার,গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা এবং সুরে গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।নয়নের আলো সিনেমার গান,আমার বড় পছন্দের গান,প্রিয় গান। বহুবছর পর যখন রকস্টার সিনেমাটা…