ভালোবাসা সে’তো ভালোবাসা

হুমায়ূন আহমেদ সম্ভবত “নীল অপরাজিতা” বইটির কোনো এক জায়গায় বলেছিলেন-

“ভালবাসা সম্পর্কে আমার একটা থিওরি আছে। আমার মনে হয়, প্রকৃতি প্রথমে একটি নকশা তৈরি করে। অপূর্ব ডিজাইনের সেই নকশা হয় জটিল এবং ভয়াবহ রকমের সুন্দর। তারপর প্রকৃতি সেই ডিজাইনকে কেটে দু’ভাগ করে। একটি ভাগ দেয় এক তরুণ বা পুরুষকে, অন্যটি কোন তরুণী বা নারীকে। ছেলেটি ব্যাকুল হয়ে নকশার অংশটি খুঁজে বেড়ায়। মেয়েটিও তাই করে।”

তারা উভয়েই একে অন্যকে ব্যাকুল হয়ে খুঁজে বেড়ায়।অসম্পূর্ণ নকশাটি সম্পূর্ণ করতে।

অ্যান্ড্রোজিনাস শব্দটি শুনেছেন?ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে যারা কাজ করেন,মূলত ডিজাইনাররা এই শব্দটার সাথে বেশী পরিচিত হওয়ার কথা।এই শব্দটার সেভাবে কোনো অর্থ নেই।এটা একটা বিশেষণ যা এসেছে গ্রীক মিথোলজি থেকে।যা এমন কিছুকে বোঝায় যা নারী-পুরুষ উভয়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

প্লেটোর “সিম্পোসিয়াম” গ্রন্থে আরিস্টোফেনেস বর্ণিত গ্রিক মিথ “অ্যান্ড্রোজিনাস” যা মানুষের কাহিনি।আর এই কাহিনির সাথে যুক্ত হয়েছে মানুষের ভালোবাসার উৎপত্তির মিথও।

এই গল্পে বলা হয়—
প্রথম দিকে মানুষ ছিল ভিন্নরকম। তাদের শরীর ছিল গোলাকার, পিঠ আর বুক দুই দিকেই মুখ, দুটো মাথা, চারটি হাত আর চারটি পা। তারা খুব শক্তিশালী ছিল, এমনকি দেবতাদেরও চ্যালেঞ্জ করতে পারত।

জিউস দেখলেন, যদি এরা এত শক্তিশালী হয় তবে দেবতাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারে। তাই তিনি শাস্তি হিসেবে মানুষকে দুই টুকরো করে ফেললেন। একেকজন মানুষ হয়ে গেলো অর্ধেক—একটি মাথা, দুটি হাত, দুটি পা।

এরপর থেকে মানুষ তার হারানো অর্ধেককে খুঁজে বেড়ায়, যেনো তার সম্পূর্ণতা ফিরে পায়। আর এই খোঁজ’ই ভালোবাসা।নিজের হারানো সঙ্গীকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা।

Similar Posts

  • উৎপল কুমার বসুর একটা লাইন আছে- আমার আত্মার চেয়ে সহজ চাতুর্যময় তোমার চলে যাবার ভঙ্গি।আমি সেই লাইনে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকি। দেখি ভাদ্রের মেঘে মেঘে বিদ্যাপতির-এ ভরা বাদর, মাহ ভাদরশূন্য মন্দির মোর। আমি দেখি আমার টানা বারান্দায় আমি দাঁড়িয়ে। ভাস্কর চক্রবর্তী বলছেন- যে বিকেলে জ্বর আসে তুমি তার মত করে দাঁড়িয়েছো। সরে এলে কিছু, দেখি…

  • স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেয়া ফ্রয়েড

    কোপার্নিকাস আমাদের জানিয়েছিলেন যে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়; ডারউইন প্রমাণ করেছিলেন যে মানুষ ঈশ্বরের বিশেষ সৃষ্টি নয়, বরং পশুজগত থেকে উদ্ভূত; আর ফ্রয়েড আমাদের অহংকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে বলেছিলেন—”মানুষ তার নিজের মনের ঘরেরও কর্তা নয়” । মানুষের মনের অলিগলি খোজা লোকটি শারীরিক যন্ত্রণার সাথে পেরে না উঠে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছিলেন। ফ্রয়েড ছিলেন একজন…

  • কবিতা যে কারণে

    শব্দের রাস্তা ধরে হাঁটতে গিয়ে,কবিরা যে হোঁচট খন তা’ই আসলে কবিতা। কবিতা সেই দুঃখবন,গাঢ় হয় রূপকে। আড়ালকে ভরসা করে যে কথাগুলো কবি বলেন সে কথাগুলো তেমনই থেকে যায়।পাঠকের কাছে যা পৌছায় তা পাঠকের নিজেরই কল্পনা অথবা অবচেতনের বিস্তার। কবিতা কোনও চূড়ান্ত গন্তব্যের কথা বলেনা বরং সমূহ গন্তব্যের সম্ভাবনার কথা বলে । কবিতা বাস্তব নয় আবার…

  • মানুষের সৌন্দর্য তার দেখবার দৃষ্টিতে

    মানুষের সৌন্দর্য বিষয়টা যতোটা না নির্ভর করে তার বাহ্যিক অবয়বের উপর তারচেয়ে বেশী নির্ভর করে যে দেখছে তার দেখবার ভঙ্গির ওপর।রবীন্দ্রনাথের বলা-অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা সেই ভঙ্গিমার কথাই বলে। মূলত কোনো মানুষের নিজস্ব কোনো নিখুঁত রূপ থাকে না,আমাদের দেখার ভঙ্গি ও মনস্তত্ত্বই তাকে অপরূপ করে তোলে। যখন আমরা কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসি, তখন কেবল চর্মচক্ষু…

  • মানুষ ও তার ধারণা

    ইউভাল নোয়া হারারি’র “স্যাপিয়েন্স” এবং “হোমোদিউস” যারা পড়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই মানবজাতির বিবর্তনের বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে হিউম্যানকাইন্ড” হিসেবে বিবেচিত হবার যে যাত্রা সেই যাত্রার ধারণা পেয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তার বই “নেক্সাস”-এ এই হিউম্যাকাইন্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন এবং আশন্কা উঠে এসেছে। কিন্তু আমরা আমাদের অজান্তেই “হিউম্যানকাইন্ড” পেরিয়ে “ট্রান্সহিউম্যানিজম” প্রবেশ করে গেছি।…

  • হারাই হারাই সদা করি ভয়

    ঋতুপর্ণ ঘোষের আবহমান সিনেমার একটা দৃশ্য আছে যেখানে মমতাশংকর দিপংকরকে আক্ষেপ করে বলছেন-আমি তোমার নায়িকা হতে পারলাম না,প্রেমিকা তো হতে পারতাম।আমি সোজা তোমার বউ হয়ে গেলাম।দুজনে মিলে লুকিয়ে সিনেমা দেখলাম না,বাড়িতে মিথ্যে কথা বলে দীঘায় ঘুরতে গেলাম না।কেউ আপত্তি করলোনা,কেউ বারণ করলোনা! সহজে পাওয়া যায় এমন কিছুর প্রতি মানুষের সহজাত অবহেলা থাকে।অর্থনীতিতে চাহিদা ও যোগান…