হামারি আধুরি কাহানি
মীর তকির সেই নজমটা আছেনা-উল্টি হো গয়ি সব তদবিরেঁ কুছ না দওয়া নে কাম কিয়া
দেখা ইস বিমার-এ-দিল নে আখের কাম তামাম কিয়া।
আমার ভাষায় যার মানে,সবই হলো বৃথা কোনো ওষুধে নিরাময় হলোনা আর
দেখো,এই প্রেমাক্রান্ত হৃদয় শেষ করেই ছাড়ল!
পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে প্রেম।প্রেমের চেয়ে ধাধাময় বোধ মানুষের আর কিছু নেই।
মানুষ ভালোবাসে,কেউ হারিয়ে পায়,কেউ পেয়ে হারায়।ভালোবাসাকে আকড়ে পৃথিবী তরতর করে তার ডালপালা মেলে দেয়।বাড়তে থাকে।
আবার ভালোবাসাই ধ্বংস কিংবা যুদ্ধের কারণ হয়।
কোথাও ভালোবাসা নিরাময় আবার কোথাও ভালোবাসাই অসুখ।কোথাও ভালোবাসা পরিপাটি সুচারু ,কোথাও হয়তো ক্ষয়।
এতোকিছু পেরিয়ে মানুষ তবু ভালোবাসতে ভুলে যায়না।
এই পৃথিবীতে তুমুল প্রেমের সিনেমা বলতে যে কয়েকটা সিনেমার নাম আমার মাথায় আসে সেই লিস্টের একদম নীচের দিকে আমি একটা তুমুল কমার্শিয়াল ঘরানার সিনেমাকে রাখতে চাইবো,চাই।সেই সিনেমার নাম “হামারি আধুরি কাহানি “।
একটা কমার্শিয়াল সিনেমায় যে ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকে তার সবটা নিয়ে এই সিনেমাটা একটা তুমুল প্রেমের সিনেমা।ভাঙচুর করা প্রেমের সিনেমা।ম্যাচিউরড প্রেমে যে নিরর্থক,নির্লিপ্ত সৌসৌন্দর্য মেখে থাকে তেমন গল্প।ম্যাচিউরড প্রেমের গল্প।
প্রাপ্তমনষ্ক,একটু দর্শনবোধের লোকেরা এই সিনেমায় সেই প্রেমটা উপলব্ধি করতে পারবেন।


সিনেমাটির কেন্দ্রে আছে একজন বিবাহিত নারী, যার জীবন আসলে কোনোদিন তার নিজের ছিল না। তার বছরের পর বছর নিখোঁজ।
এই শূন্যতার মধ্যেই তার জীবনে আসে এমন একজন যিনি ভালোবাসতে জানেন, অপেক্ষা করতে জানেন, এবং সবচেয়ে বড় কথা একজন নারীর ভাঙা অস্তিত্বকে সম্মান করতে জানেন।
এই সিনেমার সবচেয়ে সুন্দর দিক হচ্ছে,একটা মানুষ ভালোবেসে শুধু ভালোবেসে কোনো প্রশ্নহীন তার পাশে থাকে।বিধ্বস্ত ভাঙচুর হয়ে তার সামনে দাঁড়ালে সে বুক পেতে আগলে নেয় কোনো কথা না বলে।ফোন না তুললে জানতে চায়না কেনো তোলোনি!
ইমরান হাশমির চরিত্রটা এমন এক সহজাত ভালোবাসতে জানা মানুষের এই সিনেমায়।অভিনয়ের সীমাবদ্ধতা,চরিত্রটাকে ঠিকঠাক ধরতে না পারার শূন্যতাও কেমন মিলিয়ে যায় হাওয়ার মিঠাইর মত।
এমন প্রেমও তো সুন্দর যে প্রেম মরীচিকার মতো-
ছোঁয়ার আগেই মিলিয়ে যায়, তবু তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যায় না।

