দেখা অদেখার মধ্যে

কিছু কথা থাক,যেগুলো বলা হলোনা বলে আবার কথা হয়ে যাবে।
কিছু দেখাও থাক,ঠিকঠাক দেখা হলোনার অজুহাতে ফের দেখা হয়ে যাবে।

হয়তো কোনো অর্থহীন নীরবতার ভেতর বসে থেকে দুজনেই বাড়ি ফিরে যাব।
হয়তো অন্যদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সামনে থাকা তোমাকে দেখতে পাবোনা কখনও।

বিকেলের আলোয় তোমার মুখটা পুরোটা পড়তে পারিনি বলেই সন্ধ্যার ছায়ায় আবার তোমাকে খুঁজতে চাইবো!
পাবোনা কোথাও।
শুধু থেকে যাবে কিছু,যেগুলো ফিরিয়ে নেয়া যায়না।যেগুলো দেয়া যায়না।

আমরা কেমন উজবুক।আমাদের গল্পে সব থাকে,কেবল থাকিনা আমরা।

আমাদের গল্পে থাকে জেরুজালেম। এক শহর, যার প্রতিটি পাথর প্রার্থনায় ভেজা,প্রতিটি দেয়াল ইতিহাসের ভারে নত।
আমরা ভাবতে থাকি,আমরা একে অপরকে খুঁজেছিলাম, যেমন মানুষ ঈশ্বরকে খুঁজে সেই শহরে।কখনও পায়, কখনও হারায়।

আমরা হাঁটি সিন্ধু সভ্যতার ধার ঘেঁষে। কেবল চলে যেতে যেতে আমাদের মনে হয়-
যেন আমরা দুজনেই এক অজানা লিপি পড়ার চেষ্টা করছি, যার অর্থ কেউই পুরোপুরি জানি না।
হরপ্পা কিংবা মাহেঞ্জোদারোর মত আমাদের ভাষা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

আমরা ঢুকে পড়বো অসিরিস-আইসিসের গল্পে।ছিন্নভিন্ন দেহের মত আমরা খুঁজে ফিরবো নিজেদের।

আমরা হবো অরফিয়ুস, যে শেষ মুহূর্তে ফিরে তাকিয়ে সব হারায়।

এমন প্রতিবার আমাদের দেখা হলে আমারা জেরুজালেমের প্রার্থনা, আমারা সিন্ধুর অজানা লিপি, আমাদের ভাঙন ওসিরিসের ছিন্ন দেহ, আমাদের আকাঙ্ক্ষা গিলগামেশের যাত্রা।

চা ফুরিয়ে এলে,আড্ডা থেমে গেলে-
আর আমরা কোথাও পৌঁছাই না। সময়ের ভেতর ঘুরে বেড়াই।

শুধু কিছু কথা থাকে,যেগুলো কোনোদিন বলা হয়না।
শুধু কিছু দেখা থাকে,যেখানে কোনোদিন দেখা হয়না।

Similar Posts

  • শরীর ভেজা দিনে

    শরীর ভেজা দিনে* থামতে থামতে ভেসে গেছি, ঢেউ বলেছে এসোবৃক্ষ শাঁখায় ব্যথার বেশে মানু‌ষের মুখওপাতায় দুলছে হাওয়া,ঝরছে বুক ঢলোঢলো-হৃদয় মর্মর মাটি, পায়ের তালু তৃণ অইতো সর্বনাশের নদী-খোলা মাঠে উদোম গায়ে ছুটছে জীবন ঝুঁকিনগ্নতাকে আঁকড়ে ধরে বাজছে বীণা ধ্রুপদলহর থেকেই আসছে ভেসে বধ করা অসুরবসে আছো  ভোরের ভেতর  ধোঁয়ায় উড়া মাছি, কতযুগ পরের তুমি, কত যুগের আমি?আমরা…

  • বাড়ি

    এই বাড়িটা ঘিরে শীতঘুমের ফিনফিনে নির্জনতা। কয়েকটা আলাভোলা পাখি, হাসু ‘বুর থালার বৈপ্লবিক ঝনঝনে মোহ ভাঙে, নির্জনতা না।গেটের মুখে প্রেমহীন ডাকবাক্সে সম্পর্কের রাঙতা মোড়া অভিযোগের পার্সেল আসে, খুললেই মাথা দোলায়  সাপরঙা দুঃখ। অথচ দুঃখকে বন্দী করে রাখবার মতো যথেষ্ট কারাগার আমার নেই,সাধ্য নেই পার্সেলদাতাকে ফেরাবার।সারাদিন জড়িয়ে থাকি কতোসব জঞ্জাল,  গৃহস্থালির আঁশটে চাদর।হাসফাস লাগে। কড়িকাঠ থেকে…

  • মুন্ডুহীন কঙ্কাল

    সুবিধাভোগী ধারালো দাঁত ছিবড়ে খায় মুরগির ঠ্যাং, রাশিয়ান ভদকাএতো রোশনাই! এতো আলোয়লকলকে জীভ কুকুরের মতো চাটে লোভের চিবুকের তিলবিকিয়ে যায় মুন্ডুহীন কঙ্কালআহা! কী মোহময়ক্ষমতার উদ্ধত বুকএনাকোন্ডার মতো মুখে পুরে আস্তে আস্তে গ্রাসআরাম করে ভীষণ ধীরে ধীরে ধীরে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি অনেক কিছু করবার আছে আপনার কী কিছু দেবার আছে?“শোন কালু তোর বউটা তো দারুণ সুন্দরীযা হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলাম…

  • ডাকনাম

    তোমার ব্যথার পাশে আমি এক গভীর রমণী উড্ডীন তারাদের ছলছলশহর থেকে দূরে গোপন আরোগ্যালয়, সারি সারি শুশ্রুষাশহরের হাওয়ায় দোল খাওয়া নিঃস্ব চুলে পরম আঙুল।তোমার গোপনে আমি এক গহ্বর পিয়ানোনিঃশব্দের রীডে তোমার ভেতর বাজি দিনমানতোমাকে বাজাই দ্রোহ যাতনায়।তোমার বুকের পাশে আমি ছলাৎছল মাছেদের ঋতুকালজলের ঝিরিঝিরি উদ্বেগতোমার ঠোঁটের তীরবর্তী ল্যান্ডস্কেপে সুখের বালিয়াড়ি ঢেউতোমার স্পর্শে আমি সদ্য নারীঢেউয়ে…

  • বিষাদ লিপি

    তোমায় নিয়ে  লেখা যেতে পারতো কী কোনো কবিতা?সম্ভবত পারতো-বিষাদের কারুকার্যে ঘনায়মান কোনো সন্ধ্যা।অথচ লেখা হলোনাপ্রত্যেকটা শুরুই শেষ হলো। এখন তুমি মানেই হৃদয়ের আর্কাইভে স্মৃতির কারাগার এখন তুমি মানেই ব্যক্তিগত কিছু দুঃখ আর সুখ?কোথায়! কখন! কেমন! কীভাবে! ব্রোথেল অথবা পানশালাকে আমার কখনো খারাপ জায়গা মনে হয়নিশুনেছি পৃথিবীর আর কোথাও সুখ কিনতে পাওয়া যায়না।তবে এ’ও সত্যি সব…

  • যাপিত অক্ষরমালা

    চিঠির পৃষ্ঠা থেকে ক্রমশ ঝুলে পড়েছে অক্ষরমালাযেনো এরচেয়ে সহজ গন্তব্য নেইনাবছে দুপুর অতৃপ্তির কোষাগারকোথাও সূর্য শকুনের ডানার কাছাকাছিকোথাও চাঁদ বনের উচু গাছের মিত্রএতো উচ্চতাপ্রিয় ধারণায় আমি নিম্নগামী বিন্দুছিটকে গেছি বৃত্তের বর্তূল ঘূর্ণনেআমি প্রেমিকপ্রেমের তরল থেকে জীবন নিংড়ে নিতে ভুল করে গলে গেছি সাবানের ফেনায়উঠে গেছিস তুই যেনো পূণ্য হলো স্নানবুঝি কবিতা ছলে তোর হাত ধরতে…