time lapse photography of star

আমন্ত্রণ

রাতের মলাটে একা হয়ে যাচ্ছো তুমি
তোমাকে কুড়িয়ে নিচ্ছে গভীর অন্ধকার।

এমনই কোনো এক রাতে
ব্রেইলের অক্ষরে জানিয়েছ আমন্ত্রণ-
রেস্ট হাউজের অর্বাচীন দুটো রাত
গারো চু’এর নেশাতুর ঢোক 
নির্বিবাদ আঙুল,চুল,চিবুক, মন
ডুব  সৃষ্টিতত্ত্বের গভীরে
কুড়িয়ে নেবো তোমার সবটুকু নরম

তখন হয়তো  পাহাড়ের অহংকারী অন্ধকার ভেদ করে জানালার কাঁচে ঝাড় লন্ঠনের ক্ষীণ আলো
কুয়াশার হিম ছুঁতে চাইবে খুব
আমরা ভুলে যাবো সব, ডুবে যাবো খুব
প্রমত্ত অভিষবণে!

জীবনের শ্রেষ্ঠ চুমু খাবার জন্য বেছে নেবো
সেই প্রাচীন চার্চকে 
যেহেতু চুমুতে কোনো পাপ নেই, ছিলোনা কখনো
সে আরও কয়েক’শ বছর দাঁড়িয়ে রবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চুম্বনের সাক্ষী হয়ে!

সারি সারি রেইন্ট্রির ছায়ায় 
নীল জলের পাতায়
আমি তোমাকে উপহার দেবো শ্রেষ্ঠতর অনাদি সময়।

তোমার সেই আমন্ত্রণ আজও তোলা আছে
এবার একটা সকাল চাই!
যুদ্ধজয়ী সৈনিকের হাসির মতো সুন্দর সকাল!

দীর্ঘ ভ্রমণের শ্রান্তি চোখে নিয়ে রাতটা এখনও ঘুমিয়ে আছে। 
কেবল হেঁটেছি কিছুটা সন্ধ্যা!
রাতটুকু অতিক্রম করতে পারলেই নিজেকে পৌছে দেবো তোমার ঠিকানায়!

Similar Posts

  • বিকেল

    তোমাকে পাবার প্রত্যাশায় রোদগুলো মরে যাচ্ছে শহুরে গ্রাফিতিতেউচু মিনার থেকে হামগুড়ি দিয়ে নামছে অন্ধকার।শুধু পূর্বাভাস শুনেচায়ের কাপে গড়ানো সময় আর অন্ধকারবসে থাকছে একরোখাআমি ডুবে যাচ্ছি একটা চুপচাপ বিকেলেবুকের খুব কাছ ঘেষা ধুকপুকেযেনো তুমি বসিয়ে রাখছো খুব পাশে!এই যে তুমি বসিয়ে রাখছোআমার থেকে দূরেআমার রোদগুলো ঢেকে যাচ্ছেমানুষের দুর্বিষহ পথের স্মৃতি বুকে নিয়ে পুরনো হচ্ছে আমার জুতোগুলো…

  • শরীর ভেজা দিনে

    শরীর ভেজা দিনে* থামতে থামতে ভেসে গেছি, ঢেউ বলেছে এসোবৃক্ষ শাঁখায় ব্যথার বেশে মানু‌ষের মুখওপাতায় দুলছে হাওয়া,ঝরছে বুক ঢলোঢলো-হৃদয় মর্মর মাটি, পায়ের তালু তৃণ অইতো সর্বনাশের নদী-খোলা মাঠে উদোম গায়ে ছুটছে জীবন ঝুঁকিনগ্নতাকে আঁকড়ে ধরে বাজছে বীণা ধ্রুপদলহর থেকেই আসছে ভেসে বধ করা অসুরবসে আছো  ভোরের ভেতর  ধোঁয়ায় উড়া মাছি, কতযুগ পরের তুমি, কত যুগের আমি?আমরা…

  • পাথর

    মায়ের সমাধি থেকে উঠে আসে দুরূহ পাথরদাওয়ায় ছড়িয়ে থাকে রোজকার এলোমেলোনুয়ে পড়া গাছে ঠিকা লাগিয়েনিজস্ব জুতো চলে যায়, বহুদূর পথআকাশ দাঁড়িয়ে থাকে একা।করোটির  হুলস্থুল কান পেতে শোনে  ইঁদুর    হাড়ের ভেতর মরে থাকে কোকিল। অন্ধকার দুপুরেপেরেক ঠুকে সামলে রাখি ছায়াসমস্ত ঘড়ি জুড়েবয়ে বেড়াই সিসিফাস বুক।

  • পুনর্বার

    মর্মর অশ্রুত পাতাদের ভেঙেতোমার বাড়ির ঘাসে শিশুর হাতের ছোঁয়ামৃত ছিলাম –তুমি আবার জন্মালে প্রেমিক হয়েদক্ষিণে হাওয়ার উতলেআমি এখনও চড়ে বসি অচিন ঘোড়ায়ঘাস, লতাপাতা আর প্রজাপতির আদিম দ্বীপেবুনে রাখি কোমল বয়েসমাঠের ধারের রাখাল বাঁশিপথ ভুলিয়ে দেয় বহু মর্মকথারআমাকে ধরে রাখো-বিরলপ্রজ বৃক্ষের শিকড়েআদিম গুহায় ধরে থাকা প্রদীপে।

  • আঁচল

    প্রিয়তমারাস্তায় পড়ে থাকা আমাকে তুমিমাতাল বলে গালি দিয়ো না অভিজাত মাতালরা  ওভাবে পড়ে থাকেনাতারা  খুঁজে নিতে পারে আঁকাবাঁকা শরীরের ভাঁজড্রাইভার ঠিক সময়ে তাদের পৌছে দিয়ে আসে বাড়ি বরং  আমাকে  শুড়িখানায়  নিমজ্জিত অ্যালকোহল থেকে বুকের ভেতর তুলে নাওক্ষততে হলুদের প্রলেপ লাগিয়ে মাথায়  মমতায় রাখো হাতহাহাকারের পাশে কয়েকটা রাত জেগে কাটাওদেখো আমিও কেমন প্রেমিক হয়ে উঠি ফুটপাতে উড়া…

  • ভীতি

    ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছোএকদা ভালোবেসেছিলে –যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয় …আর আমি আছি এখানেচারকৌনো টেবিলে বেড়ে রালহা জড়ানো ভাতযার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপবড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *