black and white abstract art

প্যারানয়েড

প্রেমিকার বিমর্ষ চোখ
প্যারানয়েড রাত ঘনিয়ে আসে শব্দের শরীরে
কবিতায় হায়ারোগ্লিফিক প্রলাপ।

পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারলেও প্রেমিকাকে প্রদক্ষিণ করতে পেরেছে এমন কোনো মিথ লিপিবদ্ধ নেই কোনও পুরাণে

তাই প্রেম
স্যারমন হয়ে বাজে পৃথিবীর বুড়ো দীর্ঘশ্বাসে

এবং 
প্রেমিক সেই রাষ্ট্র 
প্রেমিকাই যার অলিখিত সংবিধান
প্রেমিক সেই ধর্ম
প্রেমিকাই যার একমাত্র ধর্মগ্রন্থ
প্রেমিক সেই কবি
প্রেমিকাকে যে লিখে চলেছে সহস্র বছর ধরে।

সম্ভবত প্রেমিকাই সেই হাহাকার

শহরের বিখ্যাত সরাইখানার অধীশ্বরির অতল সাঁতরে স্ক্রুস্কের মতো মন ডুবে যেতে চায় যার জীর্ণ পুকুরে
ক্লান্ত শয্যায় ছিন্নভিন্ন করে রেখে দিয়ে যায় যার বিমূর্ত ঠোঁট!

প্রেমিকার বুকই সেই নিশ্চিন্ত সমাধি
যেখানে প্রেমিক যত্নে লেখে তার এপিটাফ!

Similar Posts

  • ডুব

    নিজের ভেতর ডুবে যেতে যেতে দেখা হয়ে যায় তার সাথেডেবে যাওয়া রথের চাকার মতো গেঁথে যাওয়াএ দেখা না হলেই বোধহয় ভালো হতো।কবেই তো থেমেছে গান, ভেঙেছে আসরশেষ শ্রোতাও ফিরে গেছে ঘরঅজানা টঙ্কারে কালিঝুলি মুছে গেয়ে ওঠেস্মৃতির অরুণ সেতারনিমেষে জ্বলে ওঠে রঙমশালঅনলের বিস্তৃত শোভাযাত্রানিশান্তের বহতা হাওয়াএই মলাটে নোঙর করা জীবন সমগ্রতোমার সাথে দেখা না হলেই ভালো…

  • রেইনকোট

    ট্রেনের ভেতরে এ শহরে প্রেমিক আসেহুইসেলটা চিৎকার  করতে করতে  চলে যেতে থাকে স্টেশনের দিকেজানালা বন্ধ করে রাখি, ;কোনও হুইসেলে আমি আর জাগাতে চাইনা ভালোবাসা ;তোমাকে। একটা রোমান্টিক  বর্ষাকাল জুড়েতোমার স্যাতস্যাতে শরীরে আমি যেনো নিঃসঙ্গ রেইনকোটআমার পর্যাপ্ততা ওইটুকুই। পুইয়ের মাচায় বেড়ে ওঠা দূরত্বে কাটাঘুড়ি জীবন ঢুকে পড়ে ইউক্যালিপটাসের বুকেজিরাফ শূন্যতার দাউদাউ তরুণী  দিনস্টেপলার পিনে আটকে থাকে পাঁজর দেয়ালেঅভিমানের জরায়ুতে…

  • আঁচল

    প্রিয়তমারাস্তায় পড়ে থাকা আমাকে তুমিমাতাল বলে গালি দিয়ো না অভিজাত মাতালরা  ওভাবে পড়ে থাকেনাতারা  খুঁজে নিতে পারে আঁকাবাঁকা শরীরের ভাঁজড্রাইভার ঠিক সময়ে তাদের পৌছে দিয়ে আসে বাড়ি বরং  আমাকে  শুড়িখানায়  নিমজ্জিত অ্যালকোহল থেকে বুকের ভেতর তুলে নাওক্ষততে হলুদের প্রলেপ লাগিয়ে মাথায়  মমতায় রাখো হাতহাহাকারের পাশে কয়েকটা রাত জেগে কাটাওদেখো আমিও কেমন প্রেমিক হয়ে উঠি ফুটপাতে উড়া…

  • পাথর

    মায়ের সমাধি থেকে উঠে আসে দুরূহ পাথরদাওয়ায় ছড়িয়ে থাকে রোজকার এলোমেলোনুয়ে পড়া গাছে ঠিকা লাগিয়েনিজস্ব জুতো চলে যায়, বহুদূর পথআকাশ দাঁড়িয়ে থাকে একা।করোটির  হুলস্থুল কান পেতে শোনে  ইঁদুর    হাড়ের ভেতর মরে থাকে কোকিল। অন্ধকার দুপুরেপেরেক ঠুকে সামলে রাখি ছায়াসমস্ত ঘড়ি জুড়েবয়ে বেড়াই সিসিফাস বুক।

  • পুনর্বার

    মর্মর অশ্রুত পাতাদের ভেঙেতোমার বাড়ির ঘাসে শিশুর হাতের ছোঁয়ামৃত ছিলাম –তুমি আবার জন্মালে প্রেমিক হয়েদক্ষিণে হাওয়ার উতলেআমি এখনও চড়ে বসি অচিন ঘোড়ায়ঘাস, লতাপাতা আর প্রজাপতির আদিম দ্বীপেবুনে রাখি কোমল বয়েসমাঠের ধারের রাখাল বাঁশিপথ ভুলিয়ে দেয় বহু মর্মকথারআমাকে ধরে রাখো-বিরলপ্রজ বৃক্ষের শিকড়েআদিম গুহায় ধরে থাকা প্রদীপে।

  • নাকছাবি

    কুপির আলোয় নাকছাবিডার দিকে চাইয়া থাকিরাইত বাড়নের লগে লগে কইলজার ভিত্রে তুমি জিওল মাছের লাহান উছলাওআমারে এমুনতরো এক্লা লাগে ক্যান?বড় পাগল পাগল লাগেবুকের ভিত্রে উছলায় তিন পরাণের গাঙরাইতগুলা রাক্ষসের লাহান আমারে খায়া ফালাইতে চায়!আন্ধারের লগে কথা কইতে কইতেতুমার কিচ্ছা হুনাইতে হুনাইতেআমি খালি উতলা হইআসমানের কাঁন্দনের লগে আমিও কাঁন্দিনিজেরে নিজেই কই-আমার একখান চাওয়া আছিলো, হুনবা?একটা জীবন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *