black and white abstract art

প্যারানয়েড

প্রেমিকার বিমর্ষ চোখ
প্যারানয়েড রাত ঘনিয়ে আসে শব্দের শরীরে
কবিতায় হায়ারোগ্লিফিক প্রলাপ।

পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারলেও প্রেমিকাকে প্রদক্ষিণ করতে পেরেছে এমন কোনো মিথ লিপিবদ্ধ নেই কোনও পুরাণে

তাই প্রেম
স্যারমন হয়ে বাজে পৃথিবীর বুড়ো দীর্ঘশ্বাসে

এবং 
প্রেমিক সেই রাষ্ট্র 
প্রেমিকাই যার অলিখিত সংবিধান
প্রেমিক সেই ধর্ম
প্রেমিকাই যার একমাত্র ধর্মগ্রন্থ
প্রেমিক সেই কবি
প্রেমিকাকে যে লিখে চলেছে সহস্র বছর ধরে।

সম্ভবত প্রেমিকাই সেই হাহাকার

শহরের বিখ্যাত সরাইখানার অধীশ্বরির অতল সাঁতরে স্ক্রুস্কের মতো মন ডুবে যেতে চায় যার জীর্ণ পুকুরে
ক্লান্ত শয্যায় ছিন্নভিন্ন করে রেখে দিয়ে যায় যার বিমূর্ত ঠোঁট!

প্রেমিকার বুকই সেই নিশ্চিন্ত সমাধি
যেখানে প্রেমিক যত্নে লেখে তার এপিটাফ!

Similar Posts

  • মুখ

    কাটাতাঁরে ঝুলে থাকা মৃত চড়াইটাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ময়নাতদন্তেআসলে এর পরই মীমাংসীত হবে আরও একটা হত্যা অথবা আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক রিপোর্টে ডাক্তার লিখলেন- কোথাও কোনো আঘাত নেই, ক্ষত নেই, বিষক্রিয়া নেইমৃত্যুর কারণ-  হৃদপিন্ডের গভীরে একটি বেকসুর মুখ।

  • অনাথ মগ্নতা

    তোমাকে ভালোবেসে এখানে দাঁড়িয়ে থাকি হতবুদ্ধি বইয়ের পাতার মতো অপেক্ষা করি আঙুলের এই বুঝি এলে কিছু ধুলো আলগোছে সরিয়ে অপেক্ষায়আমাকে আবৃত্তি করে অপ্রকৃতস্থ যৌবন মাথার ভেতর ভীষণ হৈ চৈ লিখে ফেলি শিহরিত রাত, আমাদের সন্তানেদের ঘুমন্ত মুখতাপহীন বুকে শতশত আগ্নেয়গিরির উত্তাপ…. অনন্ত ইথারে অনর্গলতোমাকে ঠিক তেমনই ভালোবাসিযেমন বেসেছি ঝরা জলপাই পাতার লালশহুরে হাওয়ার বিজন অন্ধকার তোমাকে…

  • সেমেট্রি

    হাতের শৃঙ্খল খুলে দিলে বাগান বাড়ির দরোজাকরুণ আঙুল কথা রাখতে শিখেছে খুব।করিডোর থেকে  হেঁটে এলে বিকেলপৃথিবীর হেরেমে বাস করা সিসিফাসরা দাঁড়ায় বাসের অপেক্ষায়অফিসের সেমিট্রিতে হাড়গোড় সামলাতে সামলাতে রোগা হৃদপিন্ড  দাঁড়িয়ে থাকো তুমিওপুরনো বন্ধুর সংগে দেখা হলে জানতে চাও “কেমন আছিস? “প্রেমিক আঘাত পেয়েছে শুনলে ছুটে যাওতোমার খবর রাখতে আসেনা কেউ? তোমার জন্য অপেক্ষা করেনা বাড়ি? কেউ বলেনা…

  • ব্যাধ

    ১ জলের শরীর খুলে বেরিয়ে আসা রূপালী মাছতোমার কাছে পরাস্ত হয়ে কাঁদে আমার শিকারী পন্থা। ২ এই অবোধ কান্নার দিনে আমাকে দিতে পারো মুঠোভরে ভাঁটফুল?এসে দাঁড়াও ইচ্ছের কাছেতোমাকে গাইবে বৃষ্টি শেষের দুলতে থাকা হাওয়ামানুষের অশেষ ক্লান্তিআমাকে এঁকে ফেলার আগেতোমার চিবুক ছোঁয়াও ডুবগামী রূপালী মাছ।

  • ডাকনাম

    তোমার ব্যথার পাশে আমি এক গভীর রমণী উড্ডীন তারাদের ছলছলশহর থেকে দূরে গোপন আরোগ্যালয়, সারি সারি শুশ্রুষাশহরের হাওয়ায় দোল খাওয়া নিঃস্ব চুলে পরম আঙুল।তোমার গোপনে আমি এক গহ্বর পিয়ানোনিঃশব্দের রীডে তোমার ভেতর বাজি দিনমানতোমাকে বাজাই দ্রোহ যাতনায়।তোমার বুকের পাশে আমি ছলাৎছল মাছেদের ঋতুকালজলের ঝিরিঝিরি উদ্বেগতোমার ঠোঁটের তীরবর্তী ল্যান্ডস্কেপে সুখের বালিয়াড়ি ঢেউতোমার স্পর্শে আমি সদ্য নারীঢেউয়ে…

  • শহরে বৃষ্টি নামলে

    শহরে খুব বৃষ্টি নামলে আটকা পড়ে যাই তোমার ভেতরভিজে একসা বর্ষাতিতে যেতে থাকি তোমার  দিকে। তুুমি নেই, তবু শতাব্দীর তোরঙ্গ পেটরায় কিছু প্রেম এখনোকিছু থেতলে গেছে অচেতনকোলাহলের দিকে যেতে যেতে নিঃসঙ্গতায়। আমাদের চুম্বন এখনো লেগে আছে পুরনো ছাদে, শ্যাওলা ধরেছে অনেক বর্ষায়স্পর্শগুলোতে গজিয়েছে ব্যাঙের ছাতার মতো নয়া ত্বক। আমার  সমস্ত  ভ্রমণ আজও তোমার  বুকে।তোমাকে উদ্দেশ্য করেই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *