silhouette of person standing on rock surrounded by body of water

শরীর ভেজা দিনে

শরীর ভেজা দিনে
*

থামতে থামতে ভেসে গেছি, ঢেউ বলেছে এসো
বৃক্ষ শাঁখায় ব্যথার বেশে মানু‌ষের মুখও
পাতায় দুলছে হাওয়া,
ঝরছে বুক ঢলোঢলো-
হৃদয় মর্মর মাটি, পায়ের তালু তৃণ

অইতো সর্বনাশের নদী-
খোলা মাঠে উদোম গায়ে ছুটছে জীবন ঝুঁকি
নগ্নতাকে আঁকড়ে ধরে বাজছে বীণা ধ্রুপদ
লহর থেকেই আসছে ভেসে বধ করা অসুর
বসে আছো  ভোরের ভেতর  ধোঁয়ায় উড়া মাছি, 
কতযুগ পরের তুমি, কত যুগের আমি?
আমরা কেবল পুনরাবৃত্তি, নানা শরীরে ফিরি একই


ধ্বংসপ্রবণ এ অরণ্যে ঘুমিয়ে বনভূমি, চাঁদের ঘরে হুড়কো দিয়ে বসে আছো তুমি,
কাঁদছে ভূমি এ বনাঞ্চলের করাত করুণ সুরেই
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিপন্নতার অঞ্চলে
গেছে চলে যাবার দূর,
তোমার ঘর কাছেই বাজছে বনভূমির গায়ে
সারাটা শরীর –
রোগের ভেতর বিসমিল্লার সানাই।

Similar Posts

  • ব্যাধ

    ১ জলের শরীর খুলে বেরিয়ে আসা রূপালী মাছতোমার কাছে পরাস্ত হয়ে কাঁদে আমার শিকারী পন্থা। ২ এই অবোধ কান্নার দিনে আমাকে দিতে পারো মুঠোভরে ভাঁটফুল?এসে দাঁড়াও ইচ্ছের কাছেতোমাকে গাইবে বৃষ্টি শেষের দুলতে থাকা হাওয়ামানুষের অশেষ ক্লান্তিআমাকে এঁকে ফেলার আগেতোমার চিবুক ছোঁয়াও ডুবগামী রূপালী মাছ।

  • বিকেল

    তোমাকে পাবার প্রত্যাশায় রোদগুলো মরে যাচ্ছে শহুরে গ্রাফিতিতেউচু মিনার থেকে হামগুড়ি দিয়ে নামছে অন্ধকার।শুধু পূর্বাভাস শুনেচায়ের কাপে গড়ানো সময় আর অন্ধকারবসে থাকছে একরোখাআমি ডুবে যাচ্ছি একটা চুপচাপ বিকেলেবুকের খুব কাছ ঘেষা ধুকপুকেযেনো তুমি বসিয়ে রাখছো খুব পাশে!এই যে তুমি বসিয়ে রাখছোআমার থেকে দূরেআমার রোদগুলো ঢেকে যাচ্ছেমানুষের দুর্বিষহ পথের স্মৃতি বুকে নিয়ে পুরনো হচ্ছে আমার জুতোগুলো…

  • পার্বন বেলা

    অনেক স্রোতের পর এখানে স্থিতধী হাওয়াদুরন্ত সেসব ঢেউ পড়ে আছে শৈশবের দাওয়ায়এখন বেলা অস্তগামী, ফিকে হয়ে আসা রঙেদৈর্ঘ্য প্রস্থ বেড়েছে জামার,বেড়েছে দূরত্ব আনন্দবেলার এখনো এখানে বাবা বাড়ি ফেরেন ব্যাগভর্তি হুলস্থুল নিয়েবাড়ি থেকে ওইটুকুই তো দূরত্ব ঈদগাহ’রহঠাৎ পরিচিত কোনও রান্নার ঘ্রাণে সাড়া ফেলা মায়ের পুরোনো প্রণয় যেমন কথা বলেপার্বনের দিনে এমনই হেঁটে আসে ব্যথা, উঠে আসে…

  • জীবন

    দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া পথিকের মতো লাগছে তাকেসময়ের কড়াল ঝাপ্টায় অবসন্ন আমার কী উচিৎ তার পাশে খানিকক্ষণ বসাআলতো করে তার হাতে হাত রাখা আমি ভাবছিআটপৌঢ়ে শাড়ির মতো দীর্ঘ ক্লান্তিকর ভাবনাঅথচ আমার ভাবা উচিৎস্বচ্ছ জলের মতো টলটলে ভাবনাজঞ্জালহীন নিরেট কোনো ভাবনা আমি এগুচ্ছি গুটিগুটি পায়েপথের উপর শুয়ে থাকা মৃত পাতার শরীরদুঃখ দুঃখ চোখে তাকাচ্ছে আমার দিকেধানক্ষেতের হুল্লোড়ে…

  • তোমাকে শুনবো বলে

    গভীরেতোমাকে শুনবো বলেনির্জনতার পাথর সরাতে সরাতে পেরিয়ে যাই রাতহয়তো তোমাকেও?অন্বয় অন্ধকারের ভেতর কল্পতরুর শিকড় ছড়িয়েতোমার চোখ খোঁজে কাকে?কার শরীরেপেতে দাও ভাবনার নিনাদ আঁচল?কোথায় মেলে একটা পাখি জন্ম?কিছু প্রশ্ন ডিঙিয়েএকদিন ঠিক বসন্ত হবোবেড়ে উঠবে তুমিআবার শুনতে পাবো তোমায়সামুদ্রিক হাওয়া জানান দেবে খুব কাছেই সমুদ্র;নির্জন কোনো দ্বীপডানার মলাটে আকাশ লিখবে বানভাসী উড়ান!একদিন ঠিক বসন্ত হবোবেড়ে উঠবে তুমিসেদিন…

  • তোমাকে লিখতে চেয়ে -৩

    ফিরতে ফিরতে ফেরা হয়নি এমন না ফেরা আমার অনেক আছে। গাছের ছায়ায়, পাতার আড়ালে, তোমার হাসির মিথ্যা সম্ভাষণে। সেইসব না ফেরা এখন স্তুপ হয়ে ভয় দেখায়।যে ঢেউগুলো ছিলো সেগুলো গত হবার পরে এই নিস্তব্ধতার সাথে যেটুকু বন্ধুত্ব সেটুকুই এখন অস্তিত্ব। তৃষ্ণার পাশে শূন্য পিপির মতো পরে থাকা! এখন দুপুর গড়ালে একটা টানা বারান্দা, দূরে ছাতিম…