তোমাকে লিখতে চেয়ে -৩

ফিরতে ফিরতে ফেরা হয়নি এমন না ফেরা আমার অনেক আছে।

গাছের ছায়ায়, পাতার আড়ালে, তোমার হাসির মিথ্যা সম্ভাষণে। সেইসব না ফেরা এখন স্তুপ হয়ে ভয় দেখায়।
যে ঢেউগুলো ছিলো সেগুলো গত হবার পরে এই নিস্তব্ধতার সাথে যেটুকু বন্ধুত্ব সেটুকুই এখন অস্তিত্ব। তৃষ্ণার পাশে শূন্য পিপির মতো পরে থাকা!


এখন দুপুর গড়ালে একটা টানা বারান্দা, দূরে ছাতিম গাছ, এসে দাঁড়ায় অচেনা বাড়ির চেনা মেয়েটি, অবদমনের শাড়িতে প্যাঁচানো শরীরে, দোলে আশ্বিনের সবুজ মাঠ, আমার চোখ, ধোঁয়া ধোঁয়া।
কারও কিচ্ছু যায় আসেনা।অদ্ভুতভাবে লাগোয়া দূরত্বে বয়ে যায় সব অবিচল।


আমাকে মেঠোপথের কাছে রেখে পিচঢালা পথে চড়ে বসে সভ্যতা। আমি ক্লান্ত হতে থাকি। থুরথুরে পা থেকে ঢিলেঢালা পাজামার মতো খসে পড়ে সময়।
কতোটা ক্লান্ত হলে পরে তুমি এসে দাঁড়াও জানা নেই। জানা নেই পরিধির বাইরে এ ধ্বসে কতোটা ক্ষয়াটে হতে থাকে আয়ুরেখা। শুধু সকাল দুপুর আর রাতের ভেতর থেকে যখন মাথা উঁচু করে বের হয়ে আসো আমি থামাতে পারিনা এই ভাঙন।

Similar Posts

  • মৃন্ময় সুখ

    একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রেদেখবে কী অনাদরে নিঃশ্বাস পরে থাকে পোষা বালিশেখসে যাওয়া তারার খোসায় চাওয়ার জীবাশ্ম আগলে রাখা দৃশ্যপটকেওকী অমূলক, অসহায় দেখায়দেখবে তুমি-এই অন্ধকারে রোজ মৃত্যু নিয়ে দাঁড়িয়েছি আমিদরোজায় হাইড এন্ড সী খেলায় নিজের ভেতর ডুবে গেছে যেতাকে কোনোদিন ডাকেনি কেউতাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মৃণ্ময় সুখতোমার জন্য লিখে রেখেছে সে চিরহরিৎ জীবনপেতে দিয়েছে পর্নমোচি বুক…

  • পার্বন বেলা

    অনেক স্রোতের পর এখানে স্থিতধী হাওয়াদুরন্ত সেসব ঢেউ পড়ে আছে শৈশবের দাওয়ায়এখন বেলা অস্তগামী, ফিকে হয়ে আসা রঙেদৈর্ঘ্য প্রস্থ বেড়েছে জামার,বেড়েছে দূরত্ব আনন্দবেলার এখনো এখানে বাবা বাড়ি ফেরেন ব্যাগভর্তি হুলস্থুল নিয়েবাড়ি থেকে ওইটুকুই তো দূরত্ব ঈদগাহ’রহঠাৎ পরিচিত কোনও রান্নার ঘ্রাণে সাড়া ফেলা মায়ের পুরোনো প্রণয় যেমন কথা বলেপার্বনের দিনে এমনই হেঁটে আসে ব্যথা, উঠে আসে…

  • শহর

    এ শহরের গলিতে গলিতে গোঙায় সদ্যজন্মা প্রেমকর্পোরেট আলিঙ্গনে হোঁচট খায় বুক।তোমাদের রঙচঙা সো কলড অাভিজাত্য ঢেকে দেয় জীবনের সহজ স্বাভাবিক কৈশোরএখানে বিস্মৃতির সীমানায় হা-হুতাশে ভারী হয়ে উঠে বাতাসপাখিদের চোখে বৃষ্টি খুবগাছেরাও অভিমানে ফিরিয়ে রাখে মুখ।তোমাদের কবিতার ভেতর বাসা বাঁধে গুইসাপভালোবাসার হাত গিলে ফেলে নিকেষের শান্ত কুমিরযোগ্যতার সফরে যুগান্তকারী সম্পর্কের জাল, সফলতার নির্মেঘ আকাশশীতলতার বিক্ষোভে প্রতিবাদের…

  • কুকুর

    আমিও কুকুর। তুমি ডাকলে আজও দরোজায় এসে দাড়াই তুমি ডাকলে এতোসব দুর্যোগের ভেতর যেনো আজও আমার উৎসব আছে যেনো আমিও রুঢ়তা ভুলে জীভ বের করে দাঁড়িয়ে থাকা সহজ কলমীলতা তুমি ডাকলে আমি আমার ভেতরে আমি ভেজা বিস্কুটের মতো গলে গলে পড়া অথচ কতবার ফিরিয়ে দিয়েছো ডেকে বলেছো, দুঃখটা সেরে গেছে দরোজাটা ওদিকে কতোবার তোমার নিষ্পাপ…

  • পাথর

    মায়ের সমাধি থেকে উঠে আসে দুরূহ পাথরদাওয়ায় ছড়িয়ে থাকে রোজকার এলোমেলোনুয়ে পড়া গাছে ঠিকা লাগিয়েনিজস্ব জুতো চলে যায়, বহুদূর পথআকাশ দাঁড়িয়ে থাকে একা।করোটির  হুলস্থুল কান পেতে শোনে  ইঁদুর    হাড়ের ভেতর মরে থাকে কোকিল। অন্ধকার দুপুরেপেরেক ঠুকে সামলে রাখি ছায়াসমস্ত ঘড়ি জুড়েবয়ে বেড়াই সিসিফাস বুক।

  • বাহাস

    এখানে নিনাদ অতলফসলের উষ্ণতায় কুঁড়েঘরগুলো দোলেসেলাই মেশিনের ক্ষিপ্রতায় প্রেমিকরা এসে দাঁড়ায়তাদের শরীর থেকে গলে যায় সুঠামএখানে ব্যথার পাশে এক দূরত্ব নেমে আসেমানুষের বেশেপথের ধারের কেও বনঅনেক নিঃসঙ্গতা ছুঁয়েছে এ বাতাসকেএ বাতাস জানে, মানুষের জীবন পাখিদের ক্লান্তিকর এক বাহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *