রেঁনে ম্যাগরিথ

চিত্রকর্মের নাম -দি লাভার।রেঁনে ম্যাগরিথের আঁকা।আমার বড় প্রিয়।

দুটি মানুষের চুম্বনের দৃশ্য,কিন্তু তাদের মুখ ঢাকা সাদা কাপড়ে।
প্রথম দেখায় অদ্ভুত লাগে, কিছুটা অস্বস্তিকরও।পরক্ষণেই মানুষের সম্পর্কের গভীরে থাকা সেই পুরনো সত্য আরো প্রকট হতে থাকে।মানুষ যতই কাছে আসে,তত একে অপরকে আর দেখতে পায়না।চোখের এতো কাছে,যে দৃশ্যত আড়াল হতে থাকে।

শঙ্খ ঘোষের সেই কবিতার লাইনগুলো মনে আসে-
কে কাকে ঠিক কেমন দেখে
…. বুঝতে পারা শক্ত খুবই
ভাবি আমার মুখ দেখাব
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।

কার মুখে যে কি আড়াল হয়ে থাকে,বুঝতে পারা সত্যিই দায়।মুখ পেরিয়ে মনের নগর,তাতে ঢুকতে পারার রাস্তা দূর-বহুদূর।প্রিয় কোনো মুখের আদল প্রাচীন কোনো খাদের মত গ্রাস করতে থাকে।

কোনো কোনো মুখ সুনীল সাইফুল্লাহ’র কবিতা থেকে ধার করা পঙতি-
আমার কপালে বুলেটের মত ঢুকে গিয়েছে তোমার মুখ।

মুখের কাছেই বিষন্ন হয়ে কিংবা উৎসব হয়ে থাকে অন্য মুখ।

মানুষ কেবল মুখ জমায়।সাজায়-কাছের,দূরের,প্রিয়,অপ্রিয় অভিধায়।
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার মত-
তবু সে মুখ দেখলে এখনো চমকায়,এখনো সে মাটি পেলে প্রতিমা বানায়।

তারপর-
ক্রমেই অবোধ্য ভাষার মত বোবা হতে থাকে একে অন্যের মুখের কাছে।সৌজন্যতার মোড়কে মুড়িয়ে অবান্তর হয়ে ওঠে।

তারপর ,একদিন আসে গালিবের সেই লাইন-
সারাজীবন মুখ মুছে গেলে গালিব,ধুলো তো লেগে ছিলো আয়নায়-সত্যি হতে।

তারপর-বহুদিন,বহুপথ- মুখ থেকে দূরে সরে যায়।

কোনো পৌড় বিকেলের কাছে গায়-
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই,চিরদিন কেনো পাইনা।

Similar Posts

  • বাবা ফরিদ গঞ্জেশকার

    আমার সারা দেহ,খেয়ো গো মাটি…এই চোখ দুটো মাটি খেয়ো না।আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ,মিটবে না গো মিটবে না।তারে এক জনমে ভালোবেসে,ভরবে না মন ভরবে না।-গানটা খুব ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি।আমাদের দেশের গুণী সুরকার,গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা এবং সুরে গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।নয়নের আলো সিনেমার গান,আমার বড় পছন্দের গান,প্রিয় গান। বহুবছর পর যখন রকস্টার সিনেমাটা…

  • চিন্তার গতিপথ -১

    ভেবেচিন্তে ভালোবাসা হয়না,প্রেম হয়না- এই কথাটাকে আমি পৃথিবীর সমস্ত ধর্ধর্মগ্রন্থকে মানুষ যেভাবে মানে,সত্য বলে জানে,আমিও ঠিক তেমনি মানি। কিন্তু সেই ভালোবাসাকে যদি সম্পর্কে রূপ দিতে চান তবে একশো কোটিবার ভাবুন।ভালো দূর থেকেও বাসা যায়,ভালোবাসার জন্য সম্পর্কের দরকার হয়না।ভালোবেসে একটা সম্পর্ক তৈরী করে তাতে নিজের অপারগতা,ব্যর্থতা,মানুসিক ট্রমার বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আরেকটা মানুষের জীবন,মানস,সময় ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে…

  • গল্প হলেও সত্যি

    ফ্রয়েড দাবী করেছিলেন তিনি যে কারও মানসিক স্থিতি বলতে পারেন।সেখান থেকেই তিনি ভিঞ্চির মনঃস্তত্ব নিয়ে একটা পুরো বই লিখে ফেলেছিলেন। ফ্রয়েড সেই বইয়ে লিওনার্দোর দ্য ভিঞ্চির চিত্রকলা এবং তার নোটবুকের একটি বিশেষ শৈশবস্মৃতি বিশ্লেষণ করে তার ব্যক্তিত্ব ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ভিঞ্চি তার একটি নোটবুকে লিখেছিলেন যে, দোলনায় থাকাকালীন একটি পাখি তার কাছে এসেছিল এবং…

  • আকাশ সমাধি

    মৃত্যু হলে মৃতের সৎকার করা হয়।বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্নরকম রীতি।আমি ভাবতাম আচার যত ভিন্নই হোক মৃতকে কেবল মাটিতে সমাধি দেয়া হয় বা দাহ করা হয়।কিন্তু আকাশ সমাধির কথা শুনেছেন? জরুথ্রস্ত ধর্মে (যা আজও ইরান ও ভারতীয় পারসি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত), মৃতদেহকে “অশুচি” বা নাসু হিসেবে গণ্য করা হয়।বিশ্বাস করা হয়, মৃত্যু একটি দানবিক শক্তির সংস্পর্শ এনে…

  • রোম এবং এগ্রোপিনা

    সিংহাসনে অধিষ্ঠান বরাবর রক্তের উপরই দাঁড়িয়ে থাকে।রক্তের স্রোত কেবল মুখ বদলে দেয়। এমনই এক জুলাই আঠারোর রাতে অগ্নুৎপাত হয় রোমের সার্কাস ম্যাক্সিমাসের পাশের এক দোকানঘর থেকে। প্রায় ছয় দিন ধরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা নগরীতে। তখনকার রোম ছিল কাঠ আর পিচের পাতা দিয়ে তৈরি ঘর-বাড়িতে ঠাসা—তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।তৎকালীন রোমের সম্রাট ছিলেন নীরো।যার পুরো…

  • ঋত্বিক ঘটক এবং একটি বিষন্ন জীবন

    এই শহরে এতো দুঃখ কেনো হরিদাস?-বাড়ি থেকে পালিয়ে সিনেমার সংলাপ। “কে চায় দুঃখ? জীবন দুঃখ নহে বীরত্ব। “সুরমা ঘটককে এক চিঠিতে লিখেছিলেন সুরমা।সুরমা ঘটকের ঋত্বিক পড়ছিলাম। অনেক শিল্পী সাহিত্যিকের জীবন ঘেটে দেখেছি জীবনের এই অনিশ্চয়তা, অপ্রাপ্তি আর হতাশা একই। হয়তো প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। যুক্তি তক্কো গপ্পে বলেছিলেন- জীবন জীবিতের, জীবিতের ধর্ম বহতা অমোঘ দুর্নিবার। সব পুড়ছে,…