কবিতা যে কারণে

শব্দের রাস্তা ধরে হাঁটতে গিয়ে,কবিরা যে হোঁচট খন তা’ই আসলে কবিতা।

কবিতা সেই দুঃখবন,গাঢ় হয় রূপকে। আড়ালকে ভরসা করে যে কথাগুলো কবি বলেন সে কথাগুলো তেমনই থেকে যায়।পাঠকের কাছে যা পৌছায় তা পাঠকের নিজেরই কল্পনা অথবা অবচেতনের বিস্তার। কবিতা কোনও চূড়ান্ত গন্তব্যের কথা বলেনা বরং সমূহ গন্তব্যের সম্ভাবনার কথা বলে । কবিতা বাস্তব নয় আবার কল্পনাও নয়, বাস্তব আর কল্পনার সমন্বিত বিন্দু।

আমরা প্রতীকময় পৃথিবীতে বাস করি। শব্দ দিয়ে মূলত আমরা সেই প্রতীকগুলোকে চিহ্নিত করি। যখন আমরা “পাতা “বলি আমাদের মস্তিষ্ক গাছের সবুজ পাতাটার ইমেজ তৈরী করে। এখন যদি দশজন মানু‌ষের সামনে “পাতা ” শব্দটা উচ্চারণ করা হয় তবে সেই দশজনই পাতার ইমেজ একইরকমভাবে তৈরী করতে পারবেন, রিলেট করতে পারবেন।

কবিতা এই চেনা শব্দগুলো দিয়ে অচেনা এক জগৎ তৈরী করে।যিনি লিখছেন তার জগৎ যেমন আলাদা যিনি পাঠ করবেন তার জগৎও আলাদা হবে। এখানে জগৎ বলতে সেই কবিতার জার্নির কথা বলছি। যিনি লিখেছেন তিনি যে দৃশ্যকল্প মাথায় নিয়ে লিখেছেন যিনি পড়ছেন তিনি একই দৃশ্যকল্প অবগাহন করবেন এমন নয়। বরং তিনি তার অবচেতনের সাথে লড়বেন, তার মধ্যে তৈরী হবে আরেক চিত্রকল্প। যখনই তিনি এই চিত্রকল্প তৈরিতে সফল হবেন তখনই তিনি নিজেকে সম্পর্কিত করতে পারবেন কবিতার সাথে। কবিতা যে জগতের কথা বলে সেই জগতের নিয়ন্ত্রক হন যিনি পাঠ করেন তিনি।

Similar Posts

  • ভালোবাসা সে’তো ভালোবাসা

    হুমায়ূন আহমেদ সম্ভবত “নীল অপরাজিতা” বইটির কোনো এক জায়গায় বলেছিলেন- “ভালবাসা সম্পর্কে আমার একটা থিওরি আছে। আমার মনে হয়, প্রকৃতি প্রথমে একটি নকশা তৈরি করে। অপূর্ব ডিজাইনের সেই নকশা হয় জটিল এবং ভয়াবহ রকমের সুন্দর। তারপর প্রকৃতি সেই ডিজাইনকে কেটে দু’ভাগ করে। একটি ভাগ দেয় এক তরুণ বা পুরুষকে, অন্যটি কোন তরুণী বা নারীকে। ছেলেটি…

  • স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেয়া ফ্রয়েড

    কোপার্নিকাস আমাদের জানিয়েছিলেন যে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়; ডারউইন প্রমাণ করেছিলেন যে মানুষ ঈশ্বরের বিশেষ সৃষ্টি নয়, বরং পশুজগত থেকে উদ্ভূত; আর ফ্রয়েড আমাদের অহংকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে বলেছিলেন—”মানুষ তার নিজের মনের ঘরেরও কর্তা নয়” । মানুষের মনের অলিগলি খোজা লোকটি শারীরিক যন্ত্রণার সাথে পেরে না উঠে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছিলেন। ফ্রয়েড ছিলেন একজন…

  • মানুষ ও তার ধারণা

    ইউভাল নোয়া হারারি’র “স্যাপিয়েন্স” এবং “হোমোদিউস” যারা পড়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই মানবজাতির বিবর্তনের বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে হিউম্যানকাইন্ড” হিসেবে বিবেচিত হবার যে যাত্রা সেই যাত্রার ধারণা পেয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তার বই “নেক্সাস”-এ এই হিউম্যাকাইন্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন এবং আশন্কা উঠে এসেছে। কিন্তু আমরা আমাদের অজান্তেই “হিউম্যানকাইন্ড” পেরিয়ে “ট্রান্সহিউম্যানিজম” প্রবেশ করে গেছি।…

  • হেরে গিয়ে জিতে যাবার চেয়ে বড় জিতে যাওয়া হয়না

    এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হার হচ্ছে ভালোবাসার কাছে হেরে যাওয়া।কেউ আপনাকে এতোটা ভালোবাসছে যে ভালোবাসা আপনি তাকে কখনও বাসতে পারবেন না,এই হারের চেয়ে সুন্দর হার আর নেই। পৃথিবীর সমস্ত অভিধানে ‘হার’ শব্দটির অর্থ পরাজয় বা ব্যর্থতা হলেও কেবল প্রেমের অভিধানে এর অর্থ জিতে যাওয়া।এর অর্থ সাফল্য।একটু ভালোবাসার বদলে অঢেল ভালোবাসা ফিরে আসার মত বিজয়। ভালোবাসা…

  • আর্থার শোপেনহাওয়ার

    চার্লি চ্যাপলিন কোথাও একটা বলেছিলেন,জীবনকে ক্লোজ শটে দেখলে ট্রাজেডি মনে হয় কিন্তু যদি লং শটে দেখেন তবে কমেডি মনে হবে। সত্যিই এমন হয়।একসময় যা ভেবে কাঁদে তা ফেলে বহুদূর চলে গেলে সেই কান্নার কথা ভেবেই হাসি পায়।মানুষ তার জীবনের অনন্ত জোকার,নানান রঙ মুখ ঢেকে দিয়ে যায় কেবল। শোপেনহাওয়ার বলতেন এই পৃথিবী ব্লাইন্ড উইলে চলে অর্থাৎ…

  • শব্দের গতি

    ঋতুপর্ণ ঘোষ একবার “কোলাহল” শব্দটা নিয়ে আক্ষেপ করে বলেছছিলেন শব্দটাকে আমরা এতো ভীতি দিয়ে মুড়ে দিয়েছি!বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যারা তাদের সহজ অর্থ হারিয়ে ,ভয়বোধক দ্যোতনার প্রতিফলন হয়ে গেছে। যেমন-ভিড়,একা,কোলাহল,নিঃসঙ্গতা,নিস্তব্ধতা,অন্ধকার এমন আরও বহু শব্দ! সক্রেটিস বলেছিলেন,ভাষার অপব্যবহার আত্মায় দানবের জন্ম দেয়।তিনি ব্যাকরণের শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা বোঝাননি। তিনি বলতে চেয়েছিলেন ভাষার সত্যকে অস্বীকার করে…