silhouette of girl standing near man kneeling beside railing

অনুনয়

প্রেমিকার সিথানে মৃত সৈনিকের নীরবতা রেখে 
ফিরে যেওনা যুবক।
আজ যে শহরের উদোম বুক জুড়ে উন্মাদ জ্যোৎস্না!
তুমি থেকে যাও 
অনায়াসে ভেসে যেতে চোখের মায়ায় 
তুলে নিতে বুক মলাটের উষ্ণতায়
তুমি জেনে নাও 
এমন বেলায় খুঁজে নিতে হয় 
ক্লান্তি পোহানো কাঁধের পাশে চেনা অন্ধকার 
চুলের ভাঁজে হারানোর পথ।
শিল্পীর ঔপনিবেশিক মগ্নতায় 
স্বেচ্ছাচারী ক্যানভাসে অকপট স্পর্শে জাগিয়ে তোলো ঘুমন্ত নগরী 
ভাঙুক সমুদ্র ঢেউ অথবা রাত প্রহরার বিক্ষুদ্ধ সৈন্যদল।
থমকে থাকা সময়ে চেনা নদীর কিনার ঘেষে কাদা মাখামাখি প্রেমকে 
চুমু খাক রুপালি আলো 
নরম ঢেউয়ে পাল তোলা কাগুজে নৌকা দূর বন্দরে হারাক
আজ তুমি কোত্থাও যেয়োনা যুবক 
আজ তুমি থেকে যাও….

Similar Posts

  • সরোদ এবং আত্মহত্যাপ্রবণ সন্ধ্যা

    ডোমদের হাতে সরোদ হয়ে বাজে নিথর শরীর,আত্মহত্যার সুর! বিসংবাদিত  সময়ের যেকোনো আত্মহত্যাপ্রবণ সন্ধ্যাএবংএপিটাফ কখনো মিথ্যে বলেনা! তবে কী মানুষ মৃত্যুর মোড়কে মুক্তি খোঁজে? ফর্মোনাইট্রাইলে কালশীটে জিভের দিকে তাকিয়েসেই সংক্রান্ত উপসংহারে আমরা এখনো পৌছতে পারিনি। মানুষ কেবলই চিত্রিত চরিত্র একনিপুণ মহড়ায় করছে নিজেকে দৃশ্যায়ন। সমান্তরাল জীবনের অসংখ্য বিভাজনক্যালকুলাসে ক্লান্ত প্রতিটি নিঃশ্বাসঅমিমাংসীত- কতোটা অযৌক্তিক বেঁচে থাকা আর  কতোটা…

  • সংঘাত

    বুক থেকে উঠে দাঁড়ায় কুকুর, দু’পায়ে হেঁটে যায়আমি সেইদিকে তাকাইযেদিকে ছায়া একা পড়ে রয়যেদিকে কান্নারত রমণীর বুক থেকে আঁচল খসে গেলেপ্রেমিক আজও পুরুষযেদিকে বিধবা পায়ের ব্যথা মাখে শুধু পথযেদিকে ক্ষুধার অনেক নাম!দালানের বাগানে ফুটে থাকে ডুমুরের ফুলগভীর রাতে ছলকে ওঠা আততায়ী শোকেঅবিরল বাষ্পে উড়ে যায় স্নেহার্দ্র জলতলানিতে থেকে যায় হিংস্রতার লবণ …ওইটুকু জিভে রেখে খোদাই…

  • মুখোশ

    ঝুড়ি বটতলায় বসে পুরিয়া সাজাতে সাজাতেজীবনের গল্প করে ওরাঅভিজাত বেডরুমে সুইসাইড নোট লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পরে মেয়েটাবুকের ভেতর নিশ্চিত ঝরঝরে অসুখ নিয়েপ্যাপিরাসের পাতায় পাতায় বর্ণিল মৃত্যু আঁকে কবি।গভীর রাতে শহরগুলো শয্যা হয়ে যায়,নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকেন ঈশ্বর।সুখ কুড়িয়ে বাড়ি ফিরে থু থু ফেলতে ফেলতেবউটাকে বেধড়ক পেটায় বদ্ধ মাতাল।জীবনের মানচিত্র জুড়ে কর্কশ নিশ্বাঃস!ভোর হলেই খুলে যায় পৃথিবীর…

  • পুনর্বার

    মর্মর অশ্রুত পাতাদের ভেঙেতোমার বাড়ির ঘাসে শিশুর হাতের ছোঁয়ামৃত ছিলাম –তুমি আবার জন্মালে প্রেমিক হয়েদক্ষিণে হাওয়ার উতলেআমি এখনও চড়ে বসি অচিন ঘোড়ায়ঘাস, লতাপাতা আর প্রজাপতির আদিম দ্বীপেবুনে রাখি কোমল বয়েসমাঠের ধারের রাখাল বাঁশিপথ ভুলিয়ে দেয় বহু মর্মকথারআমাকে ধরে রাখো-বিরলপ্রজ বৃক্ষের শিকড়েআদিম গুহায় ধরে থাকা প্রদীপে।

  • কান্নাপিয়ানো

    কুকুরের চিৎকার ভেঙে গেলে ঘুম সরে যায় অন্ধকারেদুঃস্বপ্নের শিরায় প্রবাহিত ভয়ে চমকে উঠিআমাকে বিভ্রান্ত করে দ্রুতগামী ডাকনাম, দেহের ঘুমন্ত নগরী।অনঙ্গ নীরবতায় তুমি তখন ব্যস্ত বুকের বামপাশেপৃথিবীতে অসময়ে আমাদের দেখা হয়না?আমার ভেতর তাবু গেড়ে বাসকরা মানুষগুলো উৎসব করে নির্ভুল মুদ্রণে শোক জমা পড়ে নিজস্ব ডাকবাক্সেমধ্যরাতের এ আসরে মুগ্ধ বাজতে থাকে চোখের পাতায় ঢেকে রাখা কান্নাপিয়ানো।

  • মানবী

    যেহেতু ভালোবাসা ছোঁয়া যায়নাতাই তোমাকে ছুঁতেই আমার সমস্ত আগ্রহতোমার কাছে এলেই আমি ব্যস্ত হয়ে উঠিআঙুলের অস্থির পায়চারীতে বেজে ওঠে  বহুদিনের অব্যবহারে পতিত বাদ্যযন্ত্র আচ্ছন্ন হই প্রবল বিস্তারেএবংআমিই সেই মানবীযার স্পর্শে জেগে উঠে লুপ্ত নগরীর অনাস্বাদিত ভূবনপ্রবল ঘোর অথবা মোহ!

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *