black and white abstract art

প্যারানয়েড

প্রেমিকার বিমর্ষ চোখ
প্যারানয়েড রাত ঘনিয়ে আসে শব্দের শরীরে
কবিতায় হায়ারোগ্লিফিক প্রলাপ।

পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারলেও প্রেমিকাকে প্রদক্ষিণ করতে পেরেছে এমন কোনো মিথ লিপিবদ্ধ নেই কোনও পুরাণে

তাই প্রেম
স্যারমন হয়ে বাজে পৃথিবীর বুড়ো দীর্ঘশ্বাসে

এবং 
প্রেমিক সেই রাষ্ট্র 
প্রেমিকাই যার অলিখিত সংবিধান
প্রেমিক সেই ধর্ম
প্রেমিকাই যার একমাত্র ধর্মগ্রন্থ
প্রেমিক সেই কবি
প্রেমিকাকে যে লিখে চলেছে সহস্র বছর ধরে।

সম্ভবত প্রেমিকাই সেই হাহাকার

শহরের বিখ্যাত সরাইখানার অধীশ্বরির অতল সাঁতরে স্ক্রুস্কের মতো মন ডুবে যেতে চায় যার জীর্ণ পুকুরে
ক্লান্ত শয্যায় ছিন্নভিন্ন করে রেখে দিয়ে যায় যার বিমূর্ত ঠোঁট!

প্রেমিকার বুকই সেই নিশ্চিন্ত সমাধি
যেখানে প্রেমিক যত্নে লেখে তার এপিটাফ!

Similar Posts

  • ছাপ

    খুব কাছ ঘেষে দাঁড়ালে আজও হাত কাঁপে অথচ মুছে গেছি কতোদিনভীষণ আগুন জ্বেলেদুজনে আলগোছে, দু’দিকে।এখন ভালোবাসার রাত নামে হাভাতে অন্ধকারে ক্ষুধার্ত শিশুর পেটেপাশ দিয়ে হাঁকিয়ে যায় লাস্ট লোকাল, কোলাহল, মানুষতোমার জানালার শীতার্ত ঢাকনা খুলে ওম খুঁজে নক্ষত্রের ছায়াআমাদের কথা ভেবে চির অসুখী প্রেমিকার বুকের খাঁজে জমে শ্যাওলানাভীর চারপাশে উল্লাসে ফেটে পরে ক্ষুধার্ত শিশুর হাহাকারউরুর বৃত্তে পাক…

  • বাড়ি

    এই বাড়িটা ঘিরে শীতঘুমের ফিনফিনে নির্জনতা। কয়েকটা আলাভোলা পাখি, হাসু ‘বুর থালার বৈপ্লবিক ঝনঝনে মোহ ভাঙে, নির্জনতা না।গেটের মুখে প্রেমহীন ডাকবাক্সে সম্পর্কের রাঙতা মোড়া অভিযোগের পার্সেল আসে, খুললেই মাথা দোলায়  সাপরঙা দুঃখ। অথচ দুঃখকে বন্দী করে রাখবার মতো যথেষ্ট কারাগার আমার নেই,সাধ্য নেই পার্সেলদাতাকে ফেরাবার।সারাদিন জড়িয়ে থাকি কতোসব জঞ্জাল,  গৃহস্থালির আঁশটে চাদর।হাসফাস লাগে। কড়িকাঠ থেকে…

  • হেমন্ত

    সেবার হেমন্তের শেষে কথা ছিল মুখোমুখি হবারকোথা হতে আসা এক অবিরাম অনর্গল দূরত্ব আমাকে নিয়ে গেলোতোমার কাছ থেকে দূর বহুদূর। চিরটাকালই ভীষণ নীরব তুমিসবার মতো আমিও করেছি তার ভুল অনুবাদ। তারপর! তারপর কেটে গ্যাছে বহুকালঅনেকগুলো শ্রাবণ পেরিয়ে আমি শিখেছিভালোবাসা কেবল প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা নামক সম্পর্কের নাম নয়পৃথিবীর সকল মানুষের সংগে মানুষের অদৃশ্য সম্পর্কেরও নাম। 

  • ভীতি

    ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছোএকদা ভালোবেসেছিলে –যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয় …আর আমি আছি এখানেচারকৌনো টেবিলে বেড়ে রালহা জড়ানো ভাতযার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপবড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

  • আমন্ত্রণ

    রাতের মলাটে একা হয়ে যাচ্ছো তুমিতোমাকে কুড়িয়ে নিচ্ছে গভীর অন্ধকার। এমনই কোনো এক রাতেব্রেইলের অক্ষরে জানিয়েছ আমন্ত্রণ-রেস্ট হাউজের অর্বাচীন দুটো রাতগারো চু’এর নেশাতুর ঢোক নির্বিবাদ আঙুল,চুল,চিবুক, মনডুব  সৃষ্টিতত্ত্বের গভীরেকুড়িয়ে নেবো তোমার সবটুকু নরম তখন হয়তো  পাহাড়ের অহংকারী অন্ধকার ভেদ করে জানালার কাঁচে ঝাড় লন্ঠনের ক্ষীণ আলোকুয়াশার হিম ছুঁতে চাইবে খুবআমরা ভুলে যাবো সব, ডুবে যাবো খুবপ্রমত্ত…

  • মনখারাপের পোস্টকার্ড

    ঠোঁট পোহানো ক্লান্তিগুলো হাসি হলে ভালো থাকে আকাশএভাবেই আয়নায়  দাঁড়াই,দিনশেষের পা ডুবিয়ে বসি সেখানেপ্রচ্ছন্ন দূরত্ব পেরুতে থাকে আমাকে।পুরনো দিন, মৃতমাছ,ছাতিম অন্ধকার,আর স্বরের কোলাহল ছিঁড়ে নিজের এতো কাছাকাছি এলে ঘামতে থাকে চোখ।সমুদ্রস্বাদ,নিজেকে বড়ই মহৎ লাগে।ভাবি, শেকড়ে চাপা মাটির অনাদর  জানে পাতার হলুদঅবিন্যস্ত রূপকে নীল পাহাড়, পাখির নখে নিঃশব্দ খেলাঘর আর  মায়ামী ঢল ছেড়ে উঠে আসো তুমিস্মৃতির রিবনে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *