a person walking in a dark alley

পার্বন বেলা

অনেক স্রোতের পর এখানে স্থিতধী হাওয়া
দুরন্ত সেসব ঢেউ পড়ে আছে শৈশবের দাওয়ায়
এখন বেলা অস্তগামী, ফিকে হয়ে আসা রঙে
দৈর্ঘ্য প্রস্থ বেড়েছে জামার,বেড়েছে দূরত্ব আনন্দবেলার

এখনো এখানে বাবা বাড়ি ফেরেন ব্যাগভর্তি হুলস্থুল নিয়ে
বাড়ি থেকে ওইটুকুই তো দূরত্ব ঈদগাহ’র
হঠাৎ পরিচিত কোনও রান্নার ঘ্রাণে সাড়া ফেলা মায়ের

পুরোনো প্রণয় যেমন কথা বলে
পার্বনের দিনে এমনই হেঁটে আসে ব্যথা, উঠে আসে শোক
নিশ্চুপ নিঝুম স্মৃতির স্তুপ

এখন পার্বণ মানেই পুরোনো ক্ষততে আঁচড় লাগা,টিমটিমে আলোর দপ করে জ্বলে ওঠা
বাছুরের চোখের মতো মলিন, বিষন্ন, ছলছলে কোনও দিন।

Similar Posts

  • যে এলোনা

    কে যেনো বলছিলোএখানে আর দাঁড়াবেন নাসন্ধ্যে হয়ে এলো দিদিএবার বাড়ি যান। .একটা নিস্তব্ধ নীরব জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। ধুলোর মতো মিশে গিয়েছিলাম ভীড়ের মধ্যেএকটুকরো ঘরে, চেনা রাস্তার অচেনা মোড়ে।কত লোকই তো হারেআমিও হেরে গিয়েছিলামমানুষ ভেবে চেনা মুখের কাছে। .সেদিন নোনাধরা  দেয়ালের গা ঘেষে পুরনো আমি দাঁড়িয়েছিলাম একটা নতুন পথের সন্ধানে। আমি দাঁড়িয়েছিলাম সমাজ সংস্কারকে অস্বীকার করবার  দৃষ্টতা নিয়েআমি…

  • বিবিধ 

    সব্জির দোকানে ছেটানো জলমাংসের দোকানে লেগে থাকা রক্তের ভিড় ভালোলাগেনা আমারভালোলাগেনাভেজানো ছোলায় ফেঁপে ওঠা রাক্ষসকরমচা চোখযাপনের আটপৌড়ে আলনায় ঝুলে থাকা বাহারি জামা। আমি এসব থেকে দূরে যেতে চাই। চাদরের ঝুল বেয়ে নেমে যায় কচ্ছপ রাতমেঝেতে ছড়ানো রিপুর কাঁদমাটি মাড়ানো পা ভিজতে থাকে বর্ষায় আমি শুধু তোমাকে ভাবি,মুঠোয় করে আনি সমুদ্রশ্বাসঅথচ তুমিও মানবিকঅমানবিক কানাঘুষা ছুড়ে মারো আমার মুখে এই বলে স্বান্তনা…

  • আমন্ত্রণ

    রাতের মলাটে একা হয়ে যাচ্ছো তুমিতোমাকে কুড়িয়ে নিচ্ছে গভীর অন্ধকার। এমনই কোনো এক রাতেব্রেইলের অক্ষরে জানিয়েছ আমন্ত্রণ-রেস্ট হাউজের অর্বাচীন দুটো রাতগারো চু’এর নেশাতুর ঢোক নির্বিবাদ আঙুল,চুল,চিবুক, মনডুব  সৃষ্টিতত্ত্বের গভীরেকুড়িয়ে নেবো তোমার সবটুকু নরম তখন হয়তো  পাহাড়ের অহংকারী অন্ধকার ভেদ করে জানালার কাঁচে ঝাড় লন্ঠনের ক্ষীণ আলোকুয়াশার হিম ছুঁতে চাইবে খুবআমরা ভুলে যাবো সব, ডুবে যাবো খুবপ্রমত্ত…

  • মুখোশ

    ঝুড়ি বটতলায় বসে পুরিয়া সাজাতে সাজাতেজীবনের গল্প করে ওরাঅভিজাত বেডরুমে সুইসাইড নোট লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পরে মেয়েটাবুকের ভেতর নিশ্চিত ঝরঝরে অসুখ নিয়েপ্যাপিরাসের পাতায় পাতায় বর্ণিল মৃত্যু আঁকে কবি।গভীর রাতে শহরগুলো শয্যা হয়ে যায়,নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকেন ঈশ্বর।সুখ কুড়িয়ে বাড়ি ফিরে থু থু ফেলতে ফেলতেবউটাকে বেধড়ক পেটায় বদ্ধ মাতাল।জীবনের মানচিত্র জুড়ে কর্কশ নিশ্বাঃস!ভোর হলেই খুলে যায় পৃথিবীর…

  • লিলিথের ডানা

    খুব তৃষ্ণা পেলে দু’হাতের আঁজলা ভরে তোমাকে তুলে নেবো ঠোঁটে, ভ্রুণ ভেঙে শৈল্পিক কারুকার্যেগহন উদার নিসর্গে তোমাকে দেবো হঠাৎ বিকেলমাথা থেকে পায়ের নখ জীভের তুলি আঁকবে প্রেমের শরীর।যেখানে এতোকাল খেলেছেন ঈশ্বররহস্যময় ঘুলঘুলিতে আমরা হাতড়ে ফিরেছি অন্ধকারের উর্বর জমিআমাদের দ্রাঘিমাংশের ক্ষয়ে যাওয়া অলীক আলোবাতাসের মালহারে উদ্বেলিত গোপন বিষাদের রীড অসুখের কোটরে তরতর করে বিস্ময়ের দ্যোতনায় নিজেকে…

  • প্রতিচ্ছবির হিম

    ঠোঁটের তুরুপে সাজানো শব্দগুলো পরিব্রাজক অভিমান নয়, ভালোবাসার কোরাস।মন নদীর ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ,পরিত্যক্ত বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজ।বুকের সিঁড়ি ভাঙা মন্থর পা,ভালোবাসা- মরে যাওয়া ঘাসের ফিরে পাওয়া আর্দ্রতা,গাঢ় সবুজ।আস্তাকুড়ে কুুঁচকানো জীবন।পান্ডুলিপির হারানো পাতার মতো অসমাপ্ত পাঠ,ধু ধু বালিয়াড়ি।আয়নায় প্রতিচ্ছবির হিম, ধীর মেঘেদের দল। পাতার ফাঁকে চুঁয়ে পড়া রাত, ঝুলে থাকে বিষাদগ্রস্ত বাদুড়।উদগ্রীব জ্যোছনার ভিস্যুুভিয়াস দহন।মৃত নদীর…