woman sitting on bench over viewing mountain

প্রতিচ্ছবির হিম

ঠোঁটের তুরুপে সাজানো শব্দগুলো পরিব্রাজক অভিমান নয়, ভালোবাসার কোরাস।মন নদীর ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ,পরিত্যক্ত বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজ।
বুকের সিঁড়ি ভাঙা মন্থর পা,ভালোবাসা- মরে যাওয়া ঘাসের ফিরে পাওয়া আর্দ্রতা,গাঢ় সবুজ।
আস্তাকুড়ে কুুঁচকানো জীবন।পান্ডুলিপির হারানো পাতার মতো অসমাপ্ত পাঠ,ধু ধু বালিয়াড়ি।
আয়নায় প্রতিচ্ছবির হিম, ধীর মেঘেদের দল। পাতার ফাঁকে চুঁয়ে পড়া রাত, ঝুলে থাকে বিষাদগ্রস্ত বাদুড়।
উদগ্রীব জ্যোছনার ভিস্যুুভিয়াস দহন।
মৃত নদীর রেখায় তৃষ্ণার্ত প্রান্তর,জনপদহীন তল্লাট।নক্ষত্রের বিভাজন,অবিশ্বাসী অদূর ভবিষ্যত।
অনুর্বরা জমির বিদীর্ণ বুক, দুঃখ প্রতীম।
হৃদয় বিক্ষেপণ,সম্পাদিত প্রকাশ।মধ্যবর্ত
ী অনর্গল দুুরত্ব, ভয়াল অততায়ী।
অবশেষে,
ভোকাট্টা ঘুড়ির বিদ্ধ কাঁটাতার, শূন্যতার নিজস্ব অন্ধকার -যেখানে উড়ে মৃত আকাশ।

Similar Posts

  • ব্যবহার

    ঘুম ভেঙে তোমার বন্ধ দরোজা থেকে ফিরে আসিআমাকে ফেরানোর চেয়ে এতো সৎ ব্যবহারনেই বোধহয় বন্ধ দরোজারহাঁটি বনপথে, পায়ের আওয়াজে এগোয় খানিকটা বনএখানে গাঢ় অন্ধকারআমাকে গিলে খায় দাঁতাল শুয়োরআমি তার নাড়িভূড়িতে পাক খেতে খেতে আবার জেগে উঠিতোমার দরোজা তখনো বন্ধভেতর থেকে ছেঁড়া ছেঁড়া হাসিমৃত্যু জন্য উদগ্রীব হয়েতোমার দিকে ছুটি।

  • তোমাকে পান্থশালা ভেবে

    তোমাকে পান্থশালা ভেবে ঢুকেছিলো যে তুমি তার মাথাটাকে চিবিয়ে খেলে। অতোটা অনৈতিক না হলেও পারতে,প্রয়োজন ছিলোনা অবতারণার অনর্থক একটি শব্দের । হৃদপিন্ডের দাঁতগুলো নেকড়ের মতো, হাতগুলো শিকারী বাঘ। যখন তুমি তার সবচেয়ে নরম অংশটাকে চিবিয়ে খাচ্ছিলে এক বৃদ্ধা ক্যারল গাইছিলেন ঈশ্বর কুটিরে।ধর্মাবতাররা জানতেন না পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চোখ  ছিলো  দীনহীন কুড়েঘরেরএকজোড়া মানুষকে কখন আগুনের মতো…

  • বিস্মৃতির নিরালা ক্ষণ

    রাতের বুকে মাথা রেখে আমি অন্ধকারকে শুনি।ভেতরে ছটফট করে কর্পোরেট হুলস্থুল,তুমি।মন্থর পায়ে বুকের সিঁড়ি ভাঙা এইসব রাতে বৃষ্টি হয় খুব।জানালার চোখ নিয়ে যায় দূরস্মৃতির জলাবদ্ধতা সাঁতরে ফিরতে আমার খুব ক্লান্ত লাগে, জানো!ভালোবাসার অবাধ্য অন্ধকার এসে জড়ো হয়এখানে তুমি নেইতোমার শহরসময় থেকে অনেক দূরআমার খুব ঘুমিয়ে পরতে ইচ্ছে করেঅসংখ্য বিস্মৃতির নিরালা ঘরে জেগে থাকা তোমাকেঅন্ধকারের দেয়াল…

  • যে এলোনা

    কে যেনো বলছিলোএখানে আর দাঁড়াবেন নাসন্ধ্যে হয়ে এলো দিদিএবার বাড়ি যান। .একটা নিস্তব্ধ নীরব জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। ধুলোর মতো মিশে গিয়েছিলাম ভীড়ের মধ্যেএকটুকরো ঘরে, চেনা রাস্তার অচেনা মোড়ে।কত লোকই তো হারেআমিও হেরে গিয়েছিলামমানুষ ভেবে চেনা মুখের কাছে। .সেদিন নোনাধরা  দেয়ালের গা ঘেষে পুরনো আমি দাঁড়িয়েছিলাম একটা নতুন পথের সন্ধানে। আমি দাঁড়িয়েছিলাম সমাজ সংস্কারকে অস্বীকার করবার  দৃষ্টতা নিয়েআমি…

  • লিলিথের ডানা

    খুব তৃষ্ণা পেলে দু’হাতের আঁজলা ভরে তোমাকে তুলে নেবো ঠোঁটে, ভ্রুণ ভেঙে শৈল্পিক কারুকার্যেগহন উদার নিসর্গে তোমাকে দেবো হঠাৎ বিকেলমাথা থেকে পায়ের নখ জীভের তুলি আঁকবে প্রেমের শরীর।যেখানে এতোকাল খেলেছেন ঈশ্বররহস্যময় ঘুলঘুলিতে আমরা হাতড়ে ফিরেছি অন্ধকারের উর্বর জমিআমাদের দ্রাঘিমাংশের ক্ষয়ে যাওয়া অলীক আলোবাতাসের মালহারে উদ্বেলিত গোপন বিষাদের রীড অসুখের কোটরে তরতর করে বিস্ময়ের দ্যোতনায় নিজেকে…

  • হেমন্ত

    সেবার হেমন্তের শেষে কথা ছিল মুখোমুখি হবারকোথা হতে আসা এক অবিরাম অনর্গল দূরত্ব আমাকে নিয়ে গেলোতোমার কাছ থেকে দূর বহুদূর। চিরটাকালই ভীষণ নীরব তুমিসবার মতো আমিও করেছি তার ভুল অনুবাদ। তারপর! তারপর কেটে গ্যাছে বহুকালঅনেকগুলো শ্রাবণ পেরিয়ে আমি শিখেছিভালোবাসা কেবল প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা নামক সম্পর্কের নাম নয়পৃথিবীর সকল মানুষের সংগে মানুষের অদৃশ্য সম্পর্কেরও নাম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *