silhouette of person standing on concrete road with streetlights turned on during nighttime

অনাথ মগ্নতা

তোমাকে ভালোবেসে এখানে দাঁড়িয়ে থাকি হতবুদ্ধি বইয়ের পাতার মতো অপেক্ষা করি আঙুলের 
এই বুঝি এলে কিছু ধুলো আলগোছে সরিয়ে

অপেক্ষায়
আমাকে আবৃত্তি করে অপ্রকৃতস্থ যৌবন মাথার ভেতর ভীষণ হৈ চৈ লিখে ফেলি শিহরিত রাত, আমাদের সন্তানেদের ঘুমন্ত মুখ
তাপহীন বুকে শতশত আগ্নেয়গিরির উত্তাপ….

অনন্ত ইথারে অনর্গল
তোমাকে ঠিক তেমনই ভালোবাসি
যেমন বেসেছি ঝরা জলপাই পাতার লাল
শহুরে হাওয়ার বিজন অন্ধকার

তোমাকে ঠিক তেমনই চাই
দিয়ে দিই অনেক কথা, ব্যাগভর্তি স্বপ্নময় প্রতিশ্রুতি

দাঁড়িয়ে থাকি হতবুদ্ধি
আমাদের অনাথ মগ্ননায় আসে
অংকের  দুপুর, অসহায় কয়েকটা ভুল কবরের  মতো ঢুকে
থেকে যায় গোটা জীবন
বোহেমিয়ান জীবন ভালোবেসে জোড়ভাঙা পাখি
যেকোনো নদী
ভেবেছি তোমার কোনো দুঃখ নেই! 
পৃথিবীর অসুখী কার্ডিগানটা  যত্নে ভাঁজ করে রেখেছো বুকের যে তাকে
অজান্তেই খুলে ফেলেছি সেই তাক
জেনেছি অদূরে তোমারও এক কামরার রাত,দুঃখে পোয়াতি বুক।

Similar Posts

  • সংঘাত

    বুক থেকে উঠে দাঁড়ায় কুকুর, দু’পায়ে হেঁটে যায়আমি সেইদিকে তাকাইযেদিকে ছায়া একা পড়ে রয়যেদিকে কান্নারত রমণীর বুক থেকে আঁচল খসে গেলেপ্রেমিক আজও পুরুষযেদিকে বিধবা পায়ের ব্যথা মাখে শুধু পথযেদিকে ক্ষুধার অনেক নাম!দালানের বাগানে ফুটে থাকে ডুমুরের ফুলগভীর রাতে ছলকে ওঠা আততায়ী শোকেঅবিরল বাষ্পে উড়ে যায় স্নেহার্দ্র জলতলানিতে থেকে যায় হিংস্রতার লবণ …ওইটুকু জিভে রেখে খোদাই…

  • ব্যবহার

    ঘুম ভেঙে তোমার বন্ধ দরোজা থেকে ফিরে আসিআমাকে ফেরানোর চেয়ে এতো সৎ ব্যবহারনেই বোধহয় বন্ধ দরোজারহাঁটি বনপথে, পায়ের আওয়াজে এগোয় খানিকটা বনএখানে গাঢ় অন্ধকারআমাকে গিলে খায় দাঁতাল শুয়োরআমি তার নাড়িভূড়িতে পাক খেতে খেতে আবার জেগে উঠিতোমার দরোজা তখনো বন্ধভেতর থেকে ছেঁড়া ছেঁড়া হাসিমৃত্যু জন্য উদগ্রীব হয়েতোমার দিকে ছুটি।

  • আরেক জন্ম

    একটা জীবন আমারও ছিলো, তোমাদের বুকের ভেতর কতো জন্মে গত।আমার বসন্তের শরীর, এক ঢোঁক অন্ধকারে নিভে জ্বলে জলে গ্যালো।একটা জন্ম আমারও ছিলো, তোমার বুকের ভেতরমাফলারে ফসিল হয়ে থাকা ওমে গ্রীষ্মকালীন খড়ার গল্পেবন্দর ছেড়ে গেলে জাহাজ, বহুকাল ঘড়ির কাঁটায় অনাহারি সময়ে।তোমার মৃত্যুর পর ভাঁজ করে রাখি আঙুলপ্রেমমূলতপ্রত্নতত্ত্বীয় হাহাকারজ্বলতে থাকা মোম এর নিঃশেষ হবার গান।ঠোঁটের ভেতর সমস্ত…

  • শহরে বৃষ্টি নামলে

    শহরে খুব বৃষ্টি নামলে আটকা পড়ে যাই তোমার ভেতরভিজে একসা বর্ষাতিতে যেতে থাকি তোমার  দিকে। তুুমি নেই, তবু শতাব্দীর তোরঙ্গ পেটরায় কিছু প্রেম এখনোকিছু থেতলে গেছে অচেতনকোলাহলের দিকে যেতে যেতে নিঃসঙ্গতায়। আমাদের চুম্বন এখনো লেগে আছে পুরনো ছাদে, শ্যাওলা ধরেছে অনেক বর্ষায়স্পর্শগুলোতে গজিয়েছে ব্যাঙের ছাতার মতো নয়া ত্বক। আমার  সমস্ত  ভ্রমণ আজও তোমার  বুকে।তোমাকে উদ্দেশ্য করেই…

  • হেম

    আমাকে ভুলে গেছো ভেবেহেমের কপালে চুমু খাওতোমার ঠোঁটের ডগায় উঠে আসে পুরনো ত্বকের স্বাদ, আমিবিশ্রী এক ব্যথায়  ব্যাকুল চেপে ধরোআস্তিনের মতো লেপ্টে থাকে হেমপৌঁছাতে পারেনা গভীরে ।*ভুলে গেছো ভেবে পা বাড়াতেইভূমধ্য সাগর থেকে তোমার দিকে  ধেয়ে আসে শিশিরস্মৃতির নিঃসঙ্গ করিডোরেআরও নিবিষ্ট হয়ে ওঠো হেমের শরীরেকাকে খুঁজো তুমি ওভাবে?আষাঢ়ের মিহি সুতো নিপুণ আর্দ্রতায় তোমাকে নিয়ে আসে…

  • পার্বন বেলা

    অনেক স্রোতের পর এখানে স্থিতধী হাওয়াদুরন্ত সেসব ঢেউ পড়ে আছে শৈশবের দাওয়ায়এখন বেলা অস্তগামী, ফিকে হয়ে আসা রঙেদৈর্ঘ্য প্রস্থ বেড়েছে জামার,বেড়েছে দূরত্ব আনন্দবেলার এখনো এখানে বাবা বাড়ি ফেরেন ব্যাগভর্তি হুলস্থুল নিয়েবাড়ি থেকে ওইটুকুই তো দূরত্ব ঈদগাহ’রহঠাৎ পরিচিত কোনও রান্নার ঘ্রাণে সাড়া ফেলা মায়ের পুরোনো প্রণয় যেমন কথা বলেপার্বনের দিনে এমনই হেঁটে আসে ব্যথা, উঠে আসে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *