woman sitting on bench over viewing mountain

প্রতিচ্ছবির হিম

ঠোঁটের তুরুপে সাজানো শব্দগুলো পরিব্রাজক অভিমান নয়, ভালোবাসার কোরাস।মন নদীর ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ,পরিত্যক্ত বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজ।
বুকের সিঁড়ি ভাঙা মন্থর পা,ভালোবাসা- মরে যাওয়া ঘাসের ফিরে পাওয়া আর্দ্রতা,গাঢ় সবুজ।
আস্তাকুড়ে কুুঁচকানো জীবন।পান্ডুলিপির হারানো পাতার মতো অসমাপ্ত পাঠ,ধু ধু বালিয়াড়ি।
আয়নায় প্রতিচ্ছবির হিম, ধীর মেঘেদের দল। পাতার ফাঁকে চুঁয়ে পড়া রাত, ঝুলে থাকে বিষাদগ্রস্ত বাদুড়।
উদগ্রীব জ্যোছনার ভিস্যুুভিয়াস দহন।
মৃত নদীর রেখায় তৃষ্ণার্ত প্রান্তর,জনপদহীন তল্লাট।নক্ষত্রের বিভাজন,অবিশ্বাসী অদূর ভবিষ্যত।
অনুর্বরা জমির বিদীর্ণ বুক, দুঃখ প্রতীম।
হৃদয় বিক্ষেপণ,সম্পাদিত প্রকাশ।মধ্যবর্ত
ী অনর্গল দুুরত্ব, ভয়াল অততায়ী।
অবশেষে,
ভোকাট্টা ঘুড়ির বিদ্ধ কাঁটাতার, শূন্যতার নিজস্ব অন্ধকার -যেখানে উড়ে মৃত আকাশ।

Similar Posts

  • আরেক জন্ম

    একটা জীবন আমারও ছিলো, তোমাদের বুকের ভেতর কতো জন্মে গত।আমার বসন্তের শরীর, এক ঢোঁক অন্ধকারে নিভে জ্বলে জলে গ্যালো।একটা জন্ম আমারও ছিলো, তোমার বুকের ভেতরমাফলারে ফসিল হয়ে থাকা ওমে গ্রীষ্মকালীন খড়ার গল্পেবন্দর ছেড়ে গেলে জাহাজ, বহুকাল ঘড়ির কাঁটায় অনাহারি সময়ে।তোমার মৃত্যুর পর ভাঁজ করে রাখি আঙুলপ্রেমমূলতপ্রত্নতত্ত্বীয় হাহাকারজ্বলতে থাকা মোম এর নিঃশেষ হবার গান।ঠোঁটের ভেতর সমস্ত…

  • সম্ভাবনার হাওয়ায়

    বিশীর্ণ হয়ে আসি শব্দে যতটা পারি            যেনো ভাঙা চালার পাশে নুঁয়েছে ভোরতোমার মুখ উত্তরের হাওয়া,          আকন্ঠ রূপে ডুবে যাওয়া চোখের সাঁতার জানা নেই                 জানি,         সত্যের এপাড়ে প্রবল কবিতা মিথ্যা বলে গেছে শত        ঝুঁকে আছে অন্তরীণ তোমার ভেতর         সারাদিন বাজছে যে সুর তার আরোহণ বেয়ে নেমে আসি  তোমার শরীরে লীন হয়ে আসি, ভাবি তীর্থঙ্কর  চলে যাব,…

  • অন্তর্গত মসনদে

    যেনো নাচছি সকল মুদ্রায়সঠিক আর ভুলের চর্চায় ঘন উস্তাদজীদের ভীড়ে কেবল একটা হাততালির প্রত্যাশায়জন্মের কাছে জিম্মি হয়ে নাচছি পর্ণ কুটির ধারের পথের মতো কাঙাল এ প্রত্যাশাএ প্রত্যাশা তৃষ্ণার্ত উটের কুব্জের মতো বেঢপ নাচতে নাচতেমনোরঞ্জনের এ আসরে ব্যর্থ ভাঁড় আমিদাঁড়ায় রয়েছিদরোজার বাইরে

  • বিবিধ 

    সব্জির দোকানে ছেটানো জলমাংসের দোকানে লেগে থাকা রক্তের ভিড় ভালোলাগেনা আমারভালোলাগেনাভেজানো ছোলায় ফেঁপে ওঠা রাক্ষসকরমচা চোখযাপনের আটপৌড়ে আলনায় ঝুলে থাকা বাহারি জামা। আমি এসব থেকে দূরে যেতে চাই। চাদরের ঝুল বেয়ে নেমে যায় কচ্ছপ রাতমেঝেতে ছড়ানো রিপুর কাঁদমাটি মাড়ানো পা ভিজতে থাকে বর্ষায় আমি শুধু তোমাকে ভাবি,মুঠোয় করে আনি সমুদ্রশ্বাসঅথচ তুমিও মানবিকঅমানবিক কানাঘুষা ছুড়ে মারো আমার মুখে এই বলে স্বান্তনা…

  • অনুনয়

    প্রেমিকার সিথানে মৃত সৈনিকের নীরবতা রেখে ফিরে যেওনা যুবক।আজ যে শহরের উদোম বুক জুড়ে উন্মাদ জ্যোৎস্না!তুমি থেকে যাও অনায়াসে ভেসে যেতে চোখের মায়ায় তুলে নিতে বুক মলাটের উষ্ণতায়তুমি জেনে নাও এমন বেলায় খুঁজে নিতে হয় ক্লান্তি পোহানো কাঁধের পাশে চেনা অন্ধকার চুলের ভাঁজে হারানোর পথ।শিল্পীর ঔপনিবেশিক মগ্নতায় স্বেচ্ছাচারী ক্যানভাসে অকপট স্পর্শে জাগিয়ে তোলো ঘুমন্ত নগরী ভাঙুক সমুদ্র ঢেউ অথবা রাত প্রহরার বিক্ষুদ্ধ সৈন্যদল।থমকে থাকা সময়ে চেনা নদীর কিনার ঘেষে কাদা মাখামাখি প্রেমকে চুমু খাক রুপালি আলো নরম ঢেউয়ে পাল তোলা কাগুজে নৌকা দূর বন্দরে হারাকআজ তুমি কোত্থাও যেয়োনা যুবক আজ তুমি থেকে যাও….

  • পুনর্বার

    মর্মর অশ্রুত পাতাদের ভেঙেতোমার বাড়ির ঘাসে শিশুর হাতের ছোঁয়ামৃত ছিলাম –তুমি আবার জন্মালে প্রেমিক হয়েদক্ষিণে হাওয়ার উতলেআমি এখনও চড়ে বসি অচিন ঘোড়ায়ঘাস, লতাপাতা আর প্রজাপতির আদিম দ্বীপেবুনে রাখি কোমল বয়েসমাঠের ধারের রাখাল বাঁশিপথ ভুলিয়ে দেয় বহু মর্মকথারআমাকে ধরে রাখো-বিরলপ্রজ বৃক্ষের শিকড়েআদিম গুহায় ধরে থাকা প্রদীপে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *