পাখিদের দূরত্ব
দূরত্ব হয়ে গেলে আমাদের মধ্যে একটা পাখি ওড়ে।
শিস দেয়, ডানা ঝাপ্টায়, ছটফটায়।
এই যে সকাল, সকালের গায়ে লেগে থাকা আদর আদর ঘুম এটুকুর পর মানুষ বড্ড একা।

দূরত্ব হয়ে গেলে আমাদের মধ্যে একটা পাখি ওড়ে।
শিস দেয়, ডানা ঝাপ্টায়, ছটফটায়।
এই যে সকাল, সকালের গায়ে লেগে থাকা আদর আদর ঘুম এটুকুর পর মানুষ বড্ড একা।

প্রেমিকার সিথানে মৃত সৈনিকের নীরবতা রেখে ফিরে যেওনা যুবক।আজ যে শহরের উদোম বুক জুড়ে উন্মাদ জ্যোৎস্না!তুমি থেকে যাও অনায়াসে ভেসে যেতে চোখের মায়ায় তুলে নিতে বুক মলাটের উষ্ণতায়তুমি জেনে নাও এমন বেলায় খুঁজে নিতে হয় ক্লান্তি পোহানো কাঁধের পাশে চেনা অন্ধকার চুলের ভাঁজে হারানোর পথ।শিল্পীর ঔপনিবেশিক মগ্নতায় স্বেচ্ছাচারী ক্যানভাসে অকপট স্পর্শে জাগিয়ে তোলো ঘুমন্ত নগরী ভাঙুক সমুদ্র ঢেউ অথবা রাত প্রহরার বিক্ষুদ্ধ সৈন্যদল।থমকে থাকা সময়ে চেনা নদীর কিনার ঘেষে কাদা মাখামাখি প্রেমকে চুমু খাক রুপালি আলো নরম ঢেউয়ে পাল তোলা কাগুজে নৌকা দূর বন্দরে হারাকআজ তুমি কোত্থাও যেয়োনা যুবক আজ তুমি থেকে যাও….

দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া পথিকের মতো লাগছে তাকেসময়ের কড়াল ঝাপ্টায় অবসন্ন আমার কী উচিৎ তার পাশে খানিকক্ষণ বসাআলতো করে তার হাতে হাত রাখা আমি ভাবছিআটপৌঢ়ে শাড়ির মতো দীর্ঘ ক্লান্তিকর ভাবনাঅথচ আমার ভাবা উচিৎস্বচ্ছ জলের মতো টলটলে ভাবনাজঞ্জালহীন নিরেট কোনো ভাবনা আমি এগুচ্ছি গুটিগুটি পায়েপথের উপর শুয়ে থাকা মৃত পাতার শরীরদুঃখ দুঃখ চোখে তাকাচ্ছে আমার দিকেধানক্ষেতের হুল্লোড়ে…

ঘুম ভেঙে তোমার বন্ধ দরোজা থেকে ফিরে আসিআমাকে ফেরানোর চেয়ে এতো সৎ ব্যবহারনেই বোধহয় বন্ধ দরোজারহাঁটি বনপথে, পায়ের আওয়াজে এগোয় খানিকটা বনএখানে গাঢ় অন্ধকারআমাকে গিলে খায় দাঁতাল শুয়োরআমি তার নাড়িভূড়িতে পাক খেতে খেতে আবার জেগে উঠিতোমার দরোজা তখনো বন্ধভেতর থেকে ছেঁড়া ছেঁড়া হাসিমৃত্যু জন্য উদগ্রীব হয়েতোমার দিকে ছুটি।

সুবিধাভোগী ধারালো দাঁত ছিবড়ে খায় মুরগির ঠ্যাং, রাশিয়ান ভদকাএতো রোশনাই! এতো আলোয়লকলকে জীভ কুকুরের মতো চাটে লোভের চিবুকের তিলবিকিয়ে যায় মুন্ডুহীন কঙ্কালআহা! কী মোহময়ক্ষমতার উদ্ধত বুকএনাকোন্ডার মতো মুখে পুরে আস্তে আস্তে গ্রাসআরাম করে ভীষণ ধীরে ধীরে ধীরে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি অনেক কিছু করবার আছে আপনার কী কিছু দেবার আছে?“শোন কালু তোর বউটা তো দারুণ সুন্দরীযা হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলাম…

তোমাকে ভালোবেসে এখানে দাঁড়িয়ে থাকি হতবুদ্ধি বইয়ের পাতার মতো অপেক্ষা করি আঙুলের এই বুঝি এলে কিছু ধুলো আলগোছে সরিয়ে অপেক্ষায়আমাকে আবৃত্তি করে অপ্রকৃতস্থ যৌবন মাথার ভেতর ভীষণ হৈ চৈ লিখে ফেলি শিহরিত রাত, আমাদের সন্তানেদের ঘুমন্ত মুখতাপহীন বুকে শতশত আগ্নেয়গিরির উত্তাপ…. অনন্ত ইথারে অনর্গলতোমাকে ঠিক তেমনই ভালোবাসিযেমন বেসেছি ঝরা জলপাই পাতার লালশহুরে হাওয়ার বিজন অন্ধকার তোমাকে…

রাতের মলাটে একা হয়ে যাচ্ছো তুমিতোমাকে কুড়িয়ে নিচ্ছে গভীর অন্ধকার। এমনই কোনো এক রাতেব্রেইলের অক্ষরে জানিয়েছ আমন্ত্রণ-রেস্ট হাউজের অর্বাচীন দুটো রাতগারো চু’এর নেশাতুর ঢোক নির্বিবাদ আঙুল,চুল,চিবুক, মনডুব সৃষ্টিতত্ত্বের গভীরেকুড়িয়ে নেবো তোমার সবটুকু নরম তখন হয়তো পাহাড়ের অহংকারী অন্ধকার ভেদ করে জানালার কাঁচে ঝাড় লন্ঠনের ক্ষীণ আলোকুয়াশার হিম ছুঁতে চাইবে খুবআমরা ভুলে যাবো সব, ডুবে যাবো খুবপ্রমত্ত…
খুব ভালো লাগলো 🤍