grayscale photo of man and woman holding their hands

শোক

যে প্রিয়জন ছেড়ে চলে গেছে খানিক দূর
তাকে আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করে
তাকে আমি কার কাছে চাইতে পারি?

ছেলেবেলায় মা বলতেন “যদি কারো কাছে চাইতেই হয় তবে ঈশ্বরের কাছে চাও”
আমি চাই
তাই ঈশ্বরের কাছে চাইতে আমাকে দাঁড়াতে হয় নির্দিষ্ট প্রার্থনালয়ের সামনে 
ঈশ্বর তো সেখানেই থাকেন! 
অথচ  ঈশ্বরকে আমার সব জায়গায় পেতে ইচ্ছে করে!

আমি বয়ে বেড়াই প্রিয় এবং ভয়াবহ শোক
প্রিয়জনের খানিক দূরে যাবার শোক
আমি অপেক্ষা করি

“অপেক্ষা”খুবই শাদামাটা আটপৌড়ে শব্দ
কেবলমাত্র অপেক্ষারত মানুষই জানে এই একটি শব্দে কতোটা হাহাকার থাকে! 
কতোটা ভালোবাসা নীরব নিভৃতে মোড়ানো থাকে!

খুব প্রিয়জনের মৃত্যুু আমাদের অতোটা ভাবিয়ে তোলেনা
কারণ আমরা জানি মৃত্যুু এক অনিবার্য সত্য
আমরা তাদের জন্য পালন করি শোক;সহজ স্বাভাবিক শোক।

অথচ প্রিয়জনের খানিক দূরে চলে যাওয়ার জন্য পালিত শোক হয়
নিজেকে সামলে উঠতে উঠতে এলোমেলো হবার মতো বিমুঢ় ভয়াবহ শোক
বারবার ফিরে পেতে চাইবার মতো গাঢ় শোক।

Similar Posts

  • ব্যাধ

    ১ জলের শরীর খুলে বেরিয়ে আসা রূপালী মাছতোমার কাছে পরাস্ত হয়ে কাঁদে আমার শিকারী পন্থা। ২ এই অবোধ কান্নার দিনে আমাকে দিতে পারো মুঠোভরে ভাঁটফুল?এসে দাঁড়াও ইচ্ছের কাছেতোমাকে গাইবে বৃষ্টি শেষের দুলতে থাকা হাওয়ামানুষের অশেষ ক্লান্তিআমাকে এঁকে ফেলার আগেতোমার চিবুক ছোঁয়াও ডুবগামী রূপালী মাছ।

  • মৃন্ময় সুখ

    একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রেদেখবে কী অনাদরে নিঃশ্বাস পরে থাকে পোষা বালিশেখসে যাওয়া তারার খোসায় চাওয়ার জীবাশ্ম আগলে রাখা দৃশ্যপটকেওকী অমূলক, অসহায় দেখায়দেখবে তুমি-এই অন্ধকারে রোজ মৃত্যু নিয়ে দাঁড়িয়েছি আমিদরোজায় হাইড এন্ড সী খেলায় নিজের ভেতর ডুবে গেছে যেতাকে কোনোদিন ডাকেনি কেউতাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মৃণ্ময় সুখতোমার জন্য লিখে রেখেছে সে চিরহরিৎ জীবনপেতে দিয়েছে পর্নমোচি বুক…

  • শ্রান্তি

    এঁটো থালাবাটির পাশে পরে থাকে আকাশমাছির মত ভনভন করা দিনভাতের থালায় দুপুর মাখে বিস্বাদসন্ধ্যার দানে নিলাম হয় তোমার চোখআমার হেরে যাওয়া দান!বাড়ি ফেরার মুখে ঝুলে থাকে অবসাদ।রাতগুলো চুরি হয়ে যায়পাহাড়ের বুক থেকেকিন্নর কাঁদে ঝর্ণার পাথুরে চোখজেগে থাকে সমুদ্র, অনন্তকাল।নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়েআরও একবার ভুলে যায়ডাঙায় উঠা মাছের ছটফট থেকে যায় গভীরে।ফেলে যাওয়া চোখ কুড়ায় বুড়ো প্লাটফর্মভীড়ের…

  • আমন্ত্রণ

    রাতের মলাটে একা হয়ে যাচ্ছো তুমিতোমাকে কুড়িয়ে নিচ্ছে গভীর অন্ধকার। এমনই কোনো এক রাতেব্রেইলের অক্ষরে জানিয়েছ আমন্ত্রণ-রেস্ট হাউজের অর্বাচীন দুটো রাতগারো চু’এর নেশাতুর ঢোক নির্বিবাদ আঙুল,চুল,চিবুক, মনডুব  সৃষ্টিতত্ত্বের গভীরেকুড়িয়ে নেবো তোমার সবটুকু নরম তখন হয়তো  পাহাড়ের অহংকারী অন্ধকার ভেদ করে জানালার কাঁচে ঝাড় লন্ঠনের ক্ষীণ আলোকুয়াশার হিম ছুঁতে চাইবে খুবআমরা ভুলে যাবো সব, ডুবে যাবো খুবপ্রমত্ত…

  • মানবী

    যেহেতু ভালোবাসা ছোঁয়া যায়নাতাই তোমাকে ছুঁতেই আমার সমস্ত আগ্রহতোমার কাছে এলেই আমি ব্যস্ত হয়ে উঠিআঙুলের অস্থির পায়চারীতে বেজে ওঠে  বহুদিনের অব্যবহারে পতিত বাদ্যযন্ত্র আচ্ছন্ন হই প্রবল বিস্তারেএবংআমিই সেই মানবীযার স্পর্শে জেগে উঠে লুপ্ত নগরীর অনাস্বাদিত ভূবনপ্রবল ঘোর অথবা মোহ!

  • মনখারাপের পোস্টকার্ড

    ঠোঁট পোহানো ক্লান্তিগুলো হাসি হলে ভালো থাকে আকাশএভাবেই আয়নায়  দাঁড়াই,দিনশেষের পা ডুবিয়ে বসি সেখানেপ্রচ্ছন্ন দূরত্ব পেরুতে থাকে আমাকে।পুরনো দিন, মৃতমাছ,ছাতিম অন্ধকার,আর স্বরের কোলাহল ছিঁড়ে নিজের এতো কাছাকাছি এলে ঘামতে থাকে চোখ।সমুদ্রস্বাদ,নিজেকে বড়ই মহৎ লাগে।ভাবি, শেকড়ে চাপা মাটির অনাদর  জানে পাতার হলুদঅবিন্যস্ত রূপকে নীল পাহাড়, পাখির নখে নিঃশব্দ খেলাঘর আর  মায়ামী ঢল ছেড়ে উঠে আসো তুমিস্মৃতির রিবনে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *