ভীতি
ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছো
একদা ভালোবেসেছিলে –
যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়
…আর আমি আছি এখানে
চারকৌনো টেবিলে বেড়ে রালহা জড়ানো ভাত
যার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপ
বড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছো
একদা ভালোবেসেছিলে –
যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়
…আর আমি আছি এখানে
চারকৌনো টেবিলে বেড়ে রালহা জড়ানো ভাত
যার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপ
বড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

তুমি ছাদ থেকে নেমে গেলে আমার ভীষণ অশান্ত লাগেঘরে ঘুমিয়ে তোমার পুরনো মনযেকোনো সময় তোমাকে তার কাছেই ফিরতে হয়তুমি তাকে কথা দিয়েছো।আমার মাথার উপর বৃত্তাকারে উড়ছে বিধ্বংসী ভাবনাভারী হচ্ছে চোখ বইয়ের পাতায়পাঁচ সিকির মতো অচল দাঁড়িয়ে আমার আঙুল কবিতায়।তোমার নিষ্কল স্টেশনে আমি হঠাৎ ঢুকে পড়া এক অর্বাচীন ট্রেনসে তোমার পুরনো মনতোমাকে তার কাছেই ফিরতে হয়তোমাকে…

বিমর্ষ চায়ের কাপের মুখোমুখি বসে আছো তুমিদূরে কোথাও নেমে আসছে আকাশআঙুুলে তুমুল তৃষ্ণা নিয়ে তুমি কী কিছুটা বিষণ্ন! এখানে বিকেলটা ঝরা পাতার পাঁজর ভাঙার শব্দ নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ; সম্ভবত আমিও! এই যে আমি হারিয়ে যাচ্ছিতোমার বুকের ভেতর ভায়োলিন হোয়ে বাজছে ব্যথাএরচেয়ে অধিক সত্য পৃথিবীতে আর নেই! আমরা জানি ভালোবাসা এক দীর্ঘকালীন চর্চাএবংনির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে…

কে যেনো বলছিলোএখানে আর দাঁড়াবেন নাসন্ধ্যে হয়ে এলো দিদিএবার বাড়ি যান। .একটা নিস্তব্ধ নীরব জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। ধুলোর মতো মিশে গিয়েছিলাম ভীড়ের মধ্যেএকটুকরো ঘরে, চেনা রাস্তার অচেনা মোড়ে।কত লোকই তো হারেআমিও হেরে গিয়েছিলামমানুষ ভেবে চেনা মুখের কাছে। .সেদিন নোনাধরা দেয়ালের গা ঘেষে পুরনো আমি দাঁড়িয়েছিলাম একটা নতুন পথের সন্ধানে। আমি দাঁড়িয়েছিলাম সমাজ সংস্কারকে অস্বীকার করবার দৃষ্টতা নিয়েআমি…

নিজের ভেতর ডুবে যেতে যেতে দেখা হয়ে যায় তার সাথেডেবে যাওয়া রথের চাকার মতো গেঁথে যাওয়াএ দেখা না হলেই বোধহয় ভালো হতো।কবেই তো থেমেছে গান, ভেঙেছে আসরশেষ শ্রোতাও ফিরে গেছে ঘরঅজানা টঙ্কারে কালিঝুলি মুছে গেয়ে ওঠেস্মৃতির অরুণ সেতারনিমেষে জ্বলে ওঠে রঙমশালঅনলের বিস্তৃত শোভাযাত্রানিশান্তের বহতা হাওয়াএই মলাটে নোঙর করা জীবন সমগ্রতোমার সাথে দেখা না হলেই ভালো…

আমাকে তুমি বলে দিতে পারো বলে থামিয়ে দিলে কোলাহলওভাবে বহুদিন কেউ স্পর্শ করেনি আমায়যেভাবে তোমার পাঁচটা আঙুল কিনে নিলো অবলীলায়কেউ বললো অন্যায় করছিস, করছিস অযাচারশুধু এইটুক জানতামকাঠঠোকরার মতো পাঁচটি আঙুল খুঁড়ে চলেছে হৃদয় আমারভালোবাসছি আবারশুধুমাত্র সেই পাঁচটা আঙুলকে তোমারযেখানে আমি রাখতে চেয়েছি এতোকালএকটা নির্জন রাতের অনাহারএকটা বিচ্ছিন্ন সমুদ্রতটঅনাহত প্রবল ঝড়,গুড়ো কান্নার দমকএকটা ঝরা পলাশের দলিত…
তবু নিঃশব্দে থেকে যাবার মত চলে যাচ্ছো তুমি।কোনো গাঢ় জ্যোস্নার পথ ধরে।আমার ভেতরে কেবল তোলপাড়। আর যে কোনো ফেরা নেই!আমি জানি। আমি জানি, এই প্রস্থান অনিবার্য।এ এক একমুখী যাত্রা,ফিরে আসার সমস্ত সম্ভাবনাকে পুড়িয়ে দিয়ে তুমি প্রবেশ করছো এমন এক নীরবতায়-যেখানে স্মৃতিও আর পৌঁছাতে পারে না। আমার কোনো ভাষা নেই,যা দিয়ে ফেরানো যেতো তোমাকে।সমস্ত চলে যাবার…