কবিতা

  • বিবিধ 

    সব্জির দোকানে ছেটানো জলমাংসের দোকানে লেগে থাকা রক্তের ভিড় ভালোলাগেনা আমারভালোলাগেনাভেজানো ছোলায় ফেঁপে ওঠা রাক্ষসকরমচা চোখযাপনের আটপৌড়ে আলনায় ঝুলে থাকা বাহারি জামা। আমি এসব থেকে দূরে যেতে চাই। চাদরের ঝুল বেয়ে নেমে যায় কচ্ছপ রাতমেঝেতে ছড়ানো রিপুর কাঁদমাটি মাড়ানো পা ভিজতে থাকে বর্ষায় আমি শুধু তোমাকে ভাবি,মুঠোয় করে আনি সমুদ্রশ্বাসঅথচ তুমিও মানবিকঅমানবিক কানাঘুষা ছুড়ে মারো আমার মুখে এই বলে স্বান্তনা…

  • বৃত্ত

    ছত্রাকে ছত্রাকে ঢাকা জনম আর  অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর পাশে তুমি কাল্পনিক শ্লেষঅজস্র হত্যার সাবলীল পরিহাস,ইতিকথার শেষখন্ড। কু-আশা ঘেঁটে স্পষ্ট অক্ষরলতায় যে শব্দ,আঙুলের নয়অলক্ষ্যের ইঙ্গিতে যে যোগাযোগসেখানেই সত্যপ্রেম, ভালোবাসা,সঙ্গম  অথবা ঘৃণা। তোমার মিথ্যাচার হেঁটে ক্লান্ত অন্তত যতিচিহ্নের বিরাম দাও! কম্পাস ভুল করা সন্ধ্যা,চেনা ঢেউবিষণ্ন প্রেমিকাদের নীচু স্বর আর সুন্দরী নদী থেকে ফুরসত মিললেফিরতে ফিরতে ভুলে যাওয়া ছাতার পাশে   ফেলো এসো…

  • পাথর

    মায়ের সমাধি থেকে উঠে আসে দুরূহ পাথরদাওয়ায় ছড়িয়ে থাকে রোজকার এলোমেলোনুয়ে পড়া গাছে ঠিকা লাগিয়েনিজস্ব জুতো চলে যায়, বহুদূর পথআকাশ দাঁড়িয়ে থাকে একা।করোটির  হুলস্থুল কান পেতে শোনে  ইঁদুর    হাড়ের ভেতর মরে থাকে কোকিল। অন্ধকার দুপুরেপেরেক ঠুকে সামলে রাখি ছায়াসমস্ত ঘড়ি জুড়েবয়ে বেড়াই সিসিফাস বুক।

  • প্রেমতান্ত্রিক চাঁদবেলা

    গোপনে, অ-সুখে চাঁদের উনুনে পুড়ছে কাম ও প্রেমের খড়ি।একটা চিঠিতেও তোমাকে লিখতে পারিনিকত কাছাকাছি থাকি, আষ্টেপৃষ্ঠেদেখাদেখি নেইতবুবাঁকা বিদ্রুপের মতো তোমার বেআব্রু দৃষ্টিবোতাম এঁটে নিষিদ্ধ করে দেয় আকাশের রৌদ্রস্নান।যতবার মুখ থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছি অন্ধকারের রেণুঅনাদায়ী ধারের মতো ফিরে এসেছোফিরে এসেছোবারবারবুকের বিপন্ন পরাগেউৎস থেকে একা বোধনের ঢঙে।গাছের শরীরে পাতার কম্পমান ধ্বনির ভিড়েনিঃসঙ্গ কোকিল, খুঁজি কাকবাসা।তুমি এসব…

  • নেকরোফিলিয়া

    ১প্রলেতারিয়েত হাঙরের দাঁতে ঘুমিয়ে পড়েছে শরৎফ্যান্টাসি জুড়ে কালো রঙের মাইম, জোকার মঞ্চঅস্তিত্বের ওপর ঝুঁকে আধোলীনসূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে থাকা অন্ধকারপ্রিয় জানালাতোমার ভঙ্গিমা এড়িয়েক্ষুধা আমাকে ফেরি করে পৃথিবীময়।২এখানে আধোছায়ামাংসের মর্মরে ভাঙার আওয়াজধাতুফলকের বিচূর্ণ রঙে উড়ে যাচ্ছিকুহকে, অন্তরালে পালকের নরম কাটছে দাঘ্রিমাতোমাদের শহরে আমার স্বাধীনতা মিথের পতাকা। ৩আগুন আর পোড়াচ্ছেনাগড়ে নিচ্ছে কঠিনএখন সকল আঘাতই ঝঙ্কারতথাপি আমার শরীরে বিরহ খোদাই…

  • কবি

    সভাঘরের এককোণে আপনার সবচেয়ে সুন্দর ছবিটা টানিয়ে আলোচনা হচ্ছেকিছুক্ষণ আগে আপনাকে আবৃত্তি করেছেন একজন সুন্দরী রমণীযার চিবুকে একটি গাঢ় তিল আছেতিলটা সম্ভবত আপনার জীবনের মতো ক্ষুদ্র এবং তার সৌন্দর্য কবিতার মতো বিস্তৃতআপনি শুনতে পাচ্ছেন?ওরা বলছেআপনার কাগজে উড়ে বেড়াতো ঝাক ঝাক সোনালী পাখিশুনেছি আপনার প্রেমিকার কিছু স্বপ্ন ছিলো বেঁচে থাকার দিনে আপনার পায়ের জুতোটা ছেঁড়া ছিলো!

  • ট্যুরিস্ট

    সুখ নামক ট্যুরিস্ট লাউঞ্জে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসি। এখানে বেশিদিন থাকা আমার মতো দরিদ্র্যের পক্ষে সম্ভব হয়না। কষ্টে-সৃষ্টে জমানো সম্বল ফুরিয়ে যায় অল্প আয়াশেই। অগত্যা ফিরি নিজ গ্রামে। দুঃখ। নাম তার। হলুদাভ গ্রাম, কাঠকয়লার মতো পোড়া অকালপ্রয়াত বাসনার ঘড়বাড়ি। কী স্পষ্ট চেয়ে থাকে। হাসে। আদর করে বলে-  ফিরলি তবে এতোদিনে! দেখ কেমন মলিন হয়েছি তোর…

  • কাঠঠোকরা

    আমাকে তুমি বলে দিতে পারো বলে থামিয়ে দিলে কোলাহলওভাবে বহুদিন কেউ স্পর্শ করেনি আমায়যেভাবে তোমার পাঁচটা আঙুল কিনে নিলো অবলীলায়কেউ বললো অন্যায় করছিস, করছিস অযাচারশুধু এইটুক জানতামকাঠঠোকরার মতো পাঁচটি আঙুল খুঁড়ে চলেছে হৃদয় আমারভালোবাসছি আবারশুধুমাত্র সেই পাঁচটা আঙুলকে তোমারযেখানে আমি রাখতে চেয়েছি এতোকালএকটা নির্জন রাতের অনাহারএকটা বিচ্ছিন্ন সমুদ্রতটঅনাহত প্রবল ঝড়,গুড়ো কান্নার দমকএকটা ঝরা পলাশের দলিত…

  • মুখ

    কাটাতাঁরে ঝুলে থাকা মৃত চড়াইটাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ময়নাতদন্তেআসলে এর পরই মীমাংসীত হবে আরও একটা হত্যা অথবা আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক রিপোর্টে ডাক্তার লিখলেন- কোথাও কোনো আঘাত নেই, ক্ষত নেই, বিষক্রিয়া নেইমৃত্যুর কারণ-  হৃদপিন্ডের গভীরে একটি বেকসুর মুখ।

  • হেম

    আমাকে ভুলে গেছো ভেবেহেমের কপালে চুমু খাওতোমার ঠোঁটের ডগায় উঠে আসে পুরনো ত্বকের স্বাদ, আমিবিশ্রী এক ব্যথায়  ব্যাকুল চেপে ধরোআস্তিনের মতো লেপ্টে থাকে হেমপৌঁছাতে পারেনা গভীরে ।*ভুলে গেছো ভেবে পা বাড়াতেইভূমধ্য সাগর থেকে তোমার দিকে  ধেয়ে আসে শিশিরস্মৃতির নিঃসঙ্গ করিডোরেআরও নিবিষ্ট হয়ে ওঠো হেমের শরীরেকাকে খুঁজো তুমি ওভাবে?আষাঢ়ের মিহি সুতো নিপুণ আর্দ্রতায় তোমাকে নিয়ে আসে…