silhouette of kneeling man

ইবাদত 


আত্মার উন্নতি কামনায় জায়নামাজে বসে নীল বাড়িটার কথা মনে পড়ে
তসবির দানায় পরম আঙুল মীনা করে তোমার শরীর
তেলাওয়াত করি তোমারে সহীহ্ উচ্চারণে।
ইবাদতে মশগুল
বৈশাখের শেষ দিনগুলো 
তোমারে পেয়েও পায়না দিদার। 
গভীর মোরাক্বাবায়
ফজরের মোনাজাতে ঝরা শিউলী
নীল বাড়িটার রঙ ক্রমশ ধূসর।


ঘরের দাওয়ায় সে জ্বেলে রেখেছে আলো
তার মোনাজাতের হাত খসে পড়ছে কান্নায়
অবাক সে তসবির, আমার চোখ কেঁপে যায়
আল্লাহ কী করে তুমি থাকো নিশ্চুপ?
কী করে ফেরাও সেই হাত?
তবু তোমার কাছে চাই
বুকের ভেতর ঘুমায় যারা তাদেররে ভালো রাইখো তোমার হাওলায়।

Similar Posts

  • শাস্তি

    ফুল, তুমি আমার নিজস্বনির্জন ভঙ্গিমাহাওয়ার কাছ থেকে পাওয়া নিঃশ্বাসের ভাগ।জারুলের দিনে বৃষ্টির কবিতা শোনাতে আসা প্রাচীন অক্ষরতোমাকে বোঝাতে পারেনিতুমি সেই বালক বয়েসযেখানে বিকেলবেলা নোঙ্গর করে ঢেউফুল, আমাকে তোমার কাছে রেখে এসে এখন কামনা করছিস্ব-কামের অপরাধে তাই বুঝি তিনি দন্ড দিলেদূরেই থাকলে তুমিআমি শিকারীর ফসকে যাওয়া নিশানা হয়ে ঢুকে যাই আরও গাঢ় বনে।

  • প্রত্যাহার

    কতোটা অগোচর ছিলো নির্লিপ্ত এই ফিরে আসাজানে অরণ্য বিষাদ মেখে উড়ে যাওয়া পাখির ডানা। ফেলে আসা ছায়ার শরীরে তুমি গোটা গোটা অক্ষরে লিখে চলেছো নীরব প্রত্যাহার তোমার অনভ্যস্ত আলাপচারিতার দিকে তাকিয়ে ভাবিঅলীন্দের দেয়ালে আমিই অলঙ্কৃত করেছি তোমার সর্বশ্রেষ্ঠ পোর্ট্রেট। 

  • একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রে

    রাতের বুকে মাথা রেখে আমি অন্ধকারকে শুনি।ভেতরে ছটফট করে কর্পোরেট হুলস্থুল,তুমি।মন্থর পায়ে বুকের সিঁড়ি ভাঙা এইসব রাতে বৃষ্টি হয় খুব।জানালার চোখ নিয়ে যায় দূরস্মৃতির জলাবদ্ধতা সাঁতরে ফিরতে আমার খুব ক্লান্ত লাগে, জানো!ভালোবাসার অবাধ্য অন্ধকার এসে জড়ো হয়এখানে তুমি নেইতোমার শহরসময় থেকে অনেক দূরআমার খুব ঘুমিয়ে পরতে ইচ্ছে করেঅসংখ্য বিস্মৃতির নিরালা ঘরে জেগে থাকা তোমাকেঅন্ধকারের দেয়াল…

  • হৃদয়চিত্র

    চারপাশে কাচের দেয়াল তুলে দিয়ে স্বস্তিতে থাকতে চেয়েছিনিজেকে বন্দী করতে করতে একবিন্দু হয়ে গেছিটের পাইনি..জ্বরের ঘোরে একটা হাত খুঁজতে গিয়েপাশের ঘর থেকে ভেসে এসেছে মর্গের শীতলতারাস্তা পার হওয়া শিখবার আগেই আঙ্গুল থেকে মুছে গেছে নির্ভার হাতের ছাপএখন পাশে থাকা গল্পগুলো কেবল বলয়বিকেলের মৃত শরীরে ফেরে রাত পুরনো প্রবাদেঅন্ধকারের সময়সীমা পেরোলেই ভোরথিয়েটার পাড়ার মগ্ন মঞ্চের মতো মহড়ায়…

  • প্রেমতান্ত্রিক চাঁদবেলা

    গোপনে, অ-সুখে চাঁদের উনুনে পুড়ছে কাম ও প্রেমের খড়ি।একটা চিঠিতেও তোমাকে লিখতে পারিনিকত কাছাকাছি থাকি, আষ্টেপৃষ্ঠেদেখাদেখি নেইতবুবাঁকা বিদ্রুপের মতো তোমার বেআব্রু দৃষ্টিবোতাম এঁটে নিষিদ্ধ করে দেয় আকাশের রৌদ্রস্নান।যতবার মুখ থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছি অন্ধকারের রেণুঅনাদায়ী ধারের মতো ফিরে এসেছোফিরে এসেছোবারবারবুকের বিপন্ন পরাগেউৎস থেকে একা বোধনের ঢঙে।গাছের শরীরে পাতার কম্পমান ধ্বনির ভিড়েনিঃসঙ্গ কোকিল, খুঁজি কাকবাসা।তুমি এসব…

  • রূপ

    সে পুরুষতার পেশীর দৃঢ়তা, যেনো কোনও দ্বীপ জাগলো আড়মোড়া ভেঙেযেনো কোনও আলো জলাধারেপানকৌড়ি হয়ে আমি ডুব মারি সে সুন্দরে।সে চোখ তাকিয়েআমার আঙুল সুর তুলে নেয় একতারায়তুমি দেখোনি তাকেতার শরীর তেপান্তরের মাঠআমি সারারাত জেগে বাঁশি বাজাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *