ভীতি
ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছো
একদা ভালোবেসেছিলে –
যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়
…আর আমি আছি এখানে
চারকৌনো টেবিলে বেড়ে রালহা জড়ানো ভাত
যার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপ
বড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

ব্ল্যাঙ্ককলে উড়ে আসা ভীতির মতো জাপটে রেখেছো
একদা ভালোবেসেছিলে –
যতোটা বাসলে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়
…আর আমি আছি এখানে
চারকৌনো টেবিলে বেড়ে রালহা জড়ানো ভাত
যার শরীর থেকে উড়ে যাচ্ছে উত্তাপ
বড় বিষাদ নিয়ে আমাকে গিলছে সময়।

বুক থেকে উঠে দাঁড়ায় কুকুর, দু’পায়ে হেঁটে যায়আমি সেইদিকে তাকাইযেদিকে ছায়া একা পড়ে রয়যেদিকে কান্নারত রমণীর বুক থেকে আঁচল খসে গেলেপ্রেমিক আজও পুরুষযেদিকে বিধবা পায়ের ব্যথা মাখে শুধু পথযেদিকে ক্ষুধার অনেক নাম!দালানের বাগানে ফুটে থাকে ডুমুরের ফুলগভীর রাতে ছলকে ওঠা আততায়ী শোকেঅবিরল বাষ্পে উড়ে যায় স্নেহার্দ্র জলতলানিতে থেকে যায় হিংস্রতার লবণ …ওইটুকু জিভে রেখে খোদাই…

ছত্রাকে ছত্রাকে ঢাকা জনম আর অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর পাশে তুমি কাল্পনিক শ্লেষঅজস্র হত্যার সাবলীল পরিহাস,ইতিকথার শেষখন্ড। কু-আশা ঘেঁটে স্পষ্ট অক্ষরলতায় যে শব্দ,আঙুলের নয়অলক্ষ্যের ইঙ্গিতে যে যোগাযোগসেখানেই সত্যপ্রেম, ভালোবাসা,সঙ্গম অথবা ঘৃণা। তোমার মিথ্যাচার হেঁটে ক্লান্ত অন্তত যতিচিহ্নের বিরাম দাও! কম্পাস ভুল করা সন্ধ্যা,চেনা ঢেউবিষণ্ন প্রেমিকাদের নীচু স্বর আর সুন্দরী নদী থেকে ফুরসত মিললেফিরতে ফিরতে ভুলে যাওয়া ছাতার পাশে ফেলো এসো…

সেবার হেমন্তের শেষে কথা ছিল মুখোমুখি হবারকোথা হতে আসা এক অবিরাম অনর্গল দূরত্ব আমাকে নিয়ে গেলোতোমার কাছ থেকে দূর বহুদূর। চিরটাকালই ভীষণ নীরব তুমিসবার মতো আমিও করেছি তার ভুল অনুবাদ। তারপর! তারপর কেটে গ্যাছে বহুকালঅনেকগুলো শ্রাবণ পেরিয়ে আমি শিখেছিভালোবাসা কেবল প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা নামক সম্পর্কের নাম নয়পৃথিবীর সকল মানুষের সংগে মানুষের অদৃশ্য সম্পর্কেরও নাম।

গভীরেতোমাকে শুনবো বলেনির্জনতার পাথর সরাতে সরাতে পেরিয়ে যাই রাতহয়তো তোমাকেও?অন্বয় অন্ধকারের ভেতর কল্পতরুর শিকড় ছড়িয়েতোমার চোখ খোঁজে কাকে?কার শরীরেপেতে দাও ভাবনার নিনাদ আঁচল?কোথায় মেলে একটা পাখি জন্ম?কিছু প্রশ্ন ডিঙিয়েএকদিন ঠিক বসন্ত হবোবেড়ে উঠবে তুমিআবার শুনতে পাবো তোমায়সামুদ্রিক হাওয়া জানান দেবে খুব কাছেই সমুদ্র;নির্জন কোনো দ্বীপডানার মলাটে আকাশ লিখবে বানভাসী উড়ান!একদিন ঠিক বসন্ত হবোবেড়ে উঠবে তুমিসেদিন…

শরীর ভেজা দিনে* থামতে থামতে ভেসে গেছি, ঢেউ বলেছে এসোবৃক্ষ শাঁখায় ব্যথার বেশে মানুষের মুখওপাতায় দুলছে হাওয়া,ঝরছে বুক ঢলোঢলো-হৃদয় মর্মর মাটি, পায়ের তালু তৃণ অইতো সর্বনাশের নদী-খোলা মাঠে উদোম গায়ে ছুটছে জীবন ঝুঁকিনগ্নতাকে আঁকড়ে ধরে বাজছে বীণা ধ্রুপদলহর থেকেই আসছে ভেসে বধ করা অসুরবসে আছো ভোরের ভেতর ধোঁয়ায় উড়া মাছি, কতযুগ পরের তুমি, কত যুগের আমি?আমরা…

প্রেমিকার বিমর্ষ চোখপ্যারানয়েড রাত ঘনিয়ে আসে শব্দের শরীরেকবিতায় হায়ারোগ্লিফিক প্রলাপ। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারলেও প্রেমিকাকে প্রদক্ষিণ করতে পেরেছে এমন কোনো মিথ লিপিবদ্ধ নেই কোনও পুরাণে তাই প্রেমস্যারমন হয়ে বাজে পৃথিবীর বুড়ো দীর্ঘশ্বাসে এবং প্রেমিক সেই রাষ্ট্র প্রেমিকাই যার অলিখিত সংবিধানপ্রেমিক সেই ধর্মপ্রেমিকাই যার একমাত্র ধর্মগ্রন্থপ্রেমিক সেই কবিপ্রেমিকাকে যে লিখে চলেছে সহস্র বছর ধরে। সম্ভবত প্রেমিকাই সেই…