অসহ

১ 

.

এই নীরবতা জানে ,কেমন করে ভাঙছে সকালের কোলাহল |এই নীরবতা জানে ঘন পাইনের বনে মুহুর্মুহু হাওয়া |আমি তো বেরসিক |কখনো জানিনি চুরমার ভেঙে গেলে কত |

তোমার পৃথিবীর ক্ষীণ হাওয়ায় দুলে দুলে নিঃশ্বেষ| আমাকে মৌন করো |শব্দের অভিশাপে নুঁয়ে  গেছি আরও | হৃদয়ের ডানাগুলো উড়াল ভুলে হাঁসফাঁশ |তোমার দরজায় এসে দাঁড়িয়েছি |মাধুকরী আমি, মুষ্ঠিহীন ফেরত যাবনা একচুল|

সারা নদী বয়ে গেছে মুহূর্তের কোলাহলে |ঢেউগুলো অবিরত| রাস্তায় ,বাড়িতে মানুষের ভিড় |অথচ মানুষের কোনো মানুষ নেই |মানুষ মরে যাচ্ছে মানুষে |মানুষ ক্ষয়ে যাচ্ছে মানুশে |সারারাত ঝরাপাতাদের দুলিয়ে মানুষ এক অবয়বহীন মাংস মেদ| মানুষ এক ফাঁদ | অংকহীন ,অমীমাংসিত হয়ে রাফখাতায় পরে থাকবার স্বভাব |

তুমি তাকে ভালোবাসো ? যে ভালবেসেছে নদীর কোলাহল| কোনো আদিভৌতিক সত্বাকে দুমড়ে মুচড়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে| তুমি তাকে ভালোবাসো ,যে মেঘের দিন ধরে আছে তোমার হাত |তোমার করতল পূর্ণ হয়ে আছে রেখায় ,তুমি তাদের ভাষা দাও| তুমি তাদের দাও কিছু আলো ……….

Similar Posts

  • মনখারাপের পোস্টকার্ড

    ঠোঁট পোহানো ক্লান্তিগুলো হাসি হলে ভালো থাকে আকাশএভাবেই আয়নায়  দাঁড়াই,দিনশেষের পা ডুবিয়ে বসি সেখানেপ্রচ্ছন্ন দূরত্ব পেরুতে থাকে আমাকে।পুরনো দিন, মৃতমাছ,ছাতিম অন্ধকার,আর স্বরের কোলাহল ছিঁড়ে নিজের এতো কাছাকাছি এলে ঘামতে থাকে চোখ।সমুদ্রস্বাদ,নিজেকে বড়ই মহৎ লাগে।ভাবি, শেকড়ে চাপা মাটির অনাদর  জানে পাতার হলুদঅবিন্যস্ত রূপকে নীল পাহাড়, পাখির নখে নিঃশব্দ খেলাঘর আর  মায়ামী ঢল ছেড়ে উঠে আসো তুমিস্মৃতির রিবনে…

  • একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রে

    রাতের বুকে মাথা রেখে আমি অন্ধকারকে শুনি।ভেতরে ছটফট করে কর্পোরেট হুলস্থুল,তুমি।মন্থর পায়ে বুকের সিঁড়ি ভাঙা এইসব রাতে বৃষ্টি হয় খুব।জানালার চোখ নিয়ে যায় দূরস্মৃতির জলাবদ্ধতা সাঁতরে ফিরতে আমার খুব ক্লান্ত লাগে, জানো!ভালোবাসার অবাধ্য অন্ধকার এসে জড়ো হয়এখানে তুমি নেইতোমার শহরসময় থেকে অনেক দূরআমার খুব ঘুমিয়ে পরতে ইচ্ছে করেঅসংখ্য বিস্মৃতির নিরালা ঘরে জেগে থাকা তোমাকেঅন্ধকারের দেয়াল…

  • বাড়ি

    এই বাড়িটা ঘিরে শীতঘুমের ফিনফিনে নির্জনতা। কয়েকটা আলাভোলা পাখি, হাসু ‘বুর থালার বৈপ্লবিক ঝনঝনে মোহ ভাঙে, নির্জনতা না।গেটের মুখে প্রেমহীন ডাকবাক্সে সম্পর্কের রাঙতা মোড়া অভিযোগের পার্সেল আসে, খুললেই মাথা দোলায়  সাপরঙা দুঃখ। অথচ দুঃখকে বন্দী করে রাখবার মতো যথেষ্ট কারাগার আমার নেই,সাধ্য নেই পার্সেলদাতাকে ফেরাবার।সারাদিন জড়িয়ে থাকি কতোসব জঞ্জাল,  গৃহস্থালির আঁশটে চাদর।হাসফাস লাগে। কড়িকাঠ থেকে…

  • অনুনয়

    প্রেমিকার সিথানে মৃত সৈনিকের নীরবতা রেখে ফিরে যেওনা যুবক।আজ যে শহরের উদোম বুক জুড়ে উন্মাদ জ্যোৎস্না!তুমি থেকে যাও অনায়াসে ভেসে যেতে চোখের মায়ায় তুলে নিতে বুক মলাটের উষ্ণতায়তুমি জেনে নাও এমন বেলায় খুঁজে নিতে হয় ক্লান্তি পোহানো কাঁধের পাশে চেনা অন্ধকার চুলের ভাঁজে হারানোর পথ।শিল্পীর ঔপনিবেশিক মগ্নতায় স্বেচ্ছাচারী ক্যানভাসে অকপট স্পর্শে জাগিয়ে তোলো ঘুমন্ত নগরী ভাঙুক সমুদ্র ঢেউ অথবা রাত প্রহরার বিক্ষুদ্ধ সৈন্যদল।থমকে থাকা সময়ে চেনা নদীর কিনার ঘেষে কাদা মাখামাখি প্রেমকে চুমু খাক রুপালি আলো নরম ঢেউয়ে পাল তোলা কাগুজে নৌকা দূর বন্দরে হারাকআজ তুমি কোত্থাও যেয়োনা যুবক আজ তুমি থেকে যাও….

  • প্যারানয়েড

    প্রেমিকার বিমর্ষ চোখপ্যারানয়েড রাত ঘনিয়ে আসে শব্দের শরীরেকবিতায় হায়ারোগ্লিফিক প্রলাপ। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারলেও প্রেমিকাকে প্রদক্ষিণ করতে পেরেছে এমন কোনো মিথ লিপিবদ্ধ নেই কোনও পুরাণে তাই প্রেমস্যারমন হয়ে বাজে পৃথিবীর বুড়ো দীর্ঘশ্বাসে এবং প্রেমিক সেই রাষ্ট্র প্রেমিকাই যার অলিখিত সংবিধানপ্রেমিক সেই ধর্মপ্রেমিকাই যার একমাত্র ধর্মগ্রন্থপ্রেমিক সেই কবিপ্রেমিকাকে যে লিখে চলেছে সহস্র বছর ধরে। সম্ভবত প্রেমিকাই সেই…

  • বিস্মৃতির নিরালা ক্ষণ

    রাতের বুকে মাথা রেখে আমি অন্ধকারকে শুনি।ভেতরে ছটফট করে কর্পোরেট হুলস্থুল,তুমি।মন্থর পায়ে বুকের সিঁড়ি ভাঙা এইসব রাতে বৃষ্টি হয় খুব।জানালার চোখ নিয়ে যায় দূরস্মৃতির জলাবদ্ধতা সাঁতরে ফিরতে আমার খুব ক্লান্ত লাগে, জানো!ভালোবাসার অবাধ্য অন্ধকার এসে জড়ো হয়এখানে তুমি নেইতোমার শহরসময় থেকে অনেক দূরআমার খুব ঘুমিয়ে পরতে ইচ্ছে করেঅসংখ্য বিস্মৃতির নিরালা ঘরে জেগে থাকা তোমাকেঅন্ধকারের দেয়াল…