gray spiral artwork

সংঘাত

বুক থেকে উঠে দাঁড়ায় কুকুর, দু’পায়ে হেঁটে যায়
আমি সেইদিকে তাকাই
যেদিকে ছায়া একা পড়ে রয়
যেদিকে কান্নারত রমণীর বুক থেকে আঁচল খসে গেলে
প্রেমিক আজও পুরুষ
যেদিকে বিধবা পায়ের ব্যথা মাখে শুধু পথ
যেদিকে ক্ষুধার অনেক নাম!
দালানের বাগানে ফুটে থাকে ডুমুরের ফুল
গভীর রাতে ছলকে ওঠা আততায়ী শোকে
অবিরল বাষ্পে উড়ে যায় স্নেহার্দ্র জল
তলানিতে থেকে যায় হিংস্রতার লবণ …
ওইটুকু জিভে রেখে খোদাই করি শ্লোগান
ব্যানারে ফেস্টুনে সাজাই অধিকার
পাহাড়ের ঘরগুলো পুড়ে যাবার হাহাকার
রমেলের  আত্মার না শোনা হাহাকার
অসহায়ত্ব থুবড়ে পড়ে থাকার।
ভাবি এসব থেকে দূরে
কোথায় আছে জীবন শুধু একটু বেঁচে থাকার?
মাসকাবারি বলিরেখায় বয়েস বাড়ে যন্ত্রণার
কাকে শোনাবে তুমি
মাথার উপর নেই আকাশ
হাতের মুঠোয় যে প্রজাপতি
তার ডানার বাহার মুছে দিতে চাইছে
নীরব কোনও সংঘাত।

Similar Posts

  • বিস্মৃতির নিরালা ক্ষণ

    রাতের বুকে মাথা রেখে আমি অন্ধকারকে শুনি।ভেতরে ছটফট করে কর্পোরেট হুলস্থুল,তুমি।মন্থর পায়ে বুকের সিঁড়ি ভাঙা এইসব রাতে বৃষ্টি হয় খুব।জানালার চোখ নিয়ে যায় দূরস্মৃতির জলাবদ্ধতা সাঁতরে ফিরতে আমার খুব ক্লান্ত লাগে, জানো!ভালোবাসার অবাধ্য অন্ধকার এসে জড়ো হয়এখানে তুমি নেইতোমার শহরসময় থেকে অনেক দূরআমার খুব ঘুমিয়ে পরতে ইচ্ছে করেঅসংখ্য বিস্মৃতির নিরালা ঘরে জেগে থাকা তোমাকেঅন্ধকারের দেয়াল…

  • মানুষ

    আমার যে বন্ধুটি আত্মহত্যা করেছিলোসে বলতো-কেউ কেউ মানুষ হয়! মানুষগুলো ঘুড়ির মতোসুতো কেটে গেলেই মুখ থুবড়ে পড়ে হারিয়ে যায়ফানুসের মতো উড়ে যায়,ফুরিয়ে যায়! আমার সেই বন্ধুটি সুতো কাটা ঘুড়ির মতো মুখ থুবড়ে পড়েছিলোহারিয়ে গিয়েছিলো,ফানুসের মতো উড়ে গিয়েছিলো, ফুরিয়ে গিয়েছিলো। .সেদিন সবাই আফসোস করতে করতে বলেছিলো আহা! শেষে কিনা নিজেই কেড়ে নিলো নিজের প্রাণকেবল আমিই জেনেছিলাম জীবন কেড়ে…

  • হৃদয়চিত্র

    চারপাশে কাচের দেয়াল তুলে দিয়ে স্বস্তিতে থাকতে চেয়েছিনিজেকে বন্দী করতে করতে একবিন্দু হয়ে গেছিটের পাইনি..জ্বরের ঘোরে একটা হাত খুঁজতে গিয়েপাশের ঘর থেকে ভেসে এসেছে মর্গের শীতলতারাস্তা পার হওয়া শিখবার আগেই আঙ্গুল থেকে মুছে গেছে নির্ভার হাতের ছাপএখন পাশে থাকা গল্পগুলো কেবল বলয়বিকেলের মৃত শরীরে ফেরে রাত পুরনো প্রবাদেঅন্ধকারের সময়সীমা পেরোলেই ভোরথিয়েটার পাড়ার মগ্ন মঞ্চের মতো মহড়ায়…

  • শাস্তি

    ফুল, তুমি আমার নিজস্বনির্জন ভঙ্গিমাহাওয়ার কাছ থেকে পাওয়া নিঃশ্বাসের ভাগ।জারুলের দিনে বৃষ্টির কবিতা শোনাতে আসা প্রাচীন অক্ষরতোমাকে বোঝাতে পারেনিতুমি সেই বালক বয়েসযেখানে বিকেলবেলা নোঙ্গর করে ঢেউফুল, আমাকে তোমার কাছে রেখে এসে এখন কামনা করছিস্ব-কামের অপরাধে তাই বুঝি তিনি দন্ড দিলেদূরেই থাকলে তুমিআমি শিকারীর ফসকে যাওয়া নিশানা হয়ে ঢুকে যাই আরও গাঢ় বনে।

  • বিবিধ 

    সব্জির দোকানে ছেটানো জলমাংসের দোকানে লেগে থাকা রক্তের ভিড় ভালোলাগেনা আমারভালোলাগেনাভেজানো ছোলায় ফেঁপে ওঠা রাক্ষসকরমচা চোখযাপনের আটপৌড়ে আলনায় ঝুলে থাকা বাহারি জামা। আমি এসব থেকে দূরে যেতে চাই। চাদরের ঝুল বেয়ে নেমে যায় কচ্ছপ রাতমেঝেতে ছড়ানো রিপুর কাঁদমাটি মাড়ানো পা ভিজতে থাকে বর্ষায় আমি শুধু তোমাকে ভাবি,মুঠোয় করে আনি সমুদ্রশ্বাসঅথচ তুমিও মানবিকঅমানবিক কানাঘুষা ছুড়ে মারো আমার মুখে এই বলে স্বান্তনা…

  • বাহাস

    এখানে নিনাদ অতলফসলের উষ্ণতায় কুঁড়েঘরগুলো দোলেসেলাই মেশিনের ক্ষিপ্রতায় প্রেমিকরা এসে দাঁড়ায়তাদের শরীর থেকে গলে যায় সুঠামএখানে ব্যথার পাশে এক দূরত্ব নেমে আসেমানুষের বেশেপথের ধারের কেও বনঅনেক নিঃসঙ্গতা ছুঁয়েছে এ বাতাসকেএ বাতাস জানে, মানুষের জীবন পাখিদের ক্লান্তিকর এক বাহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *