person raising both hands

মানুষ

আমার যে বন্ধুটি আত্মহত্যা করেছিলো
সে বলতো-
কেউ কেউ মানুষ হয়! 
মানুষগুলো ঘুড়ির মতো
সুতো কেটে গেলেই মুখ থুবড়ে পড়ে হারিয়ে যায়
ফানুসের মতো উড়ে যায়,ফুরিয়ে যায়!

আমার সেই বন্ধুটি সুতো কাটা ঘুড়ির মতো মুখ থুবড়ে পড়েছিলো
হারিয়ে গিয়েছিলো,
ফানুসের মতো উড়ে গিয়েছিলো, ফুরিয়ে গিয়েছিলো।

.
সেদিন সবাই আফসোস করতে করতে বলেছিলো 
আহা! শেষে কিনা নিজেই কেড়ে নিলো নিজের প্রাণ
কেবল আমিই জেনেছিলাম জীবন কেড়ে নিয়েছিলো তার বেঁচে থাকার অধিকার। 
সবাই মুখোশ হয়ে বাঁচতে পারেনা
“কেউ কেউ মানুষ হয়! “

.
আমার যে বন্ধুটি আত্মহত্যা করেছিলো
আমি তার মরণোত্তর সুখী জীবন কামনা করে কোনো প্রার্থণা করিনি
কারণ আমি জানি মৃত্যুর পর সুখের কোনো প্রয়োজন নেই!
আমার প্রার্থনা করেছি পৃথিবীর বুকে নিঃশ্বাস নেয়া মানুষগুলোর জন্যে
ওরা হেরে না যাক, ওরা ভালো থাক
ওরা বেঁচে থাক, ওরা জিতে যাক। 

Similar Posts

  • সংঘাত

    বুক থেকে উঠে দাঁড়ায় কুকুর, দু’পায়ে হেঁটে যায়আমি সেইদিকে তাকাইযেদিকে ছায়া একা পড়ে রয়যেদিকে কান্নারত রমণীর বুক থেকে আঁচল খসে গেলেপ্রেমিক আজও পুরুষযেদিকে বিধবা পায়ের ব্যথা মাখে শুধু পথযেদিকে ক্ষুধার অনেক নাম!দালানের বাগানে ফুটে থাকে ডুমুরের ফুলগভীর রাতে ছলকে ওঠা আততায়ী শোকেঅবিরল বাষ্পে উড়ে যায় স্নেহার্দ্র জলতলানিতে থেকে যায় হিংস্রতার লবণ …ওইটুকু জিভে রেখে খোদাই…

  • চলে যাবে বলে….

    তবু নিঃশব্দে থেকে যাবার মত চলে যাচ্ছো তুমি।কোনো গাঢ় জ্যোস্নার পথ ধরে।আমার ভেতরে কেবল তোলপাড়। আর যে কোনো ফেরা নেই!আমি জানি। আমি জানি, এই প্রস্থান অনিবার্য।এ এক একমুখী যাত্রা,ফিরে আসার সমস্ত সম্ভাবনাকে পুড়িয়ে দিয়ে তুমি প্রবেশ করছো এমন এক নীরবতায়-যেখানে স্মৃতিও আর পৌঁছাতে পারে না। আমার কোনো ভাষা নেই,যা দিয়ে ফেরানো যেতো তোমাকে।সমস্ত চলে যাবার…

  • যাবার আগে

    ক্লান্তি মুছে উড়ে যাবো দূর, ডানার অস্ফুট রেখে তোমার কাছে,যেনো পৌড় কোনও বিকেল –দ্বিতল জানালার বাসেসেও যাচ্ছে বাড়িউড়ে যাবো নির্ঝরমেঘার্দ্র শরীর ছোঁবেনা?

  • পৃথিবী এবং তুমি

    সেদিন বলছিলে -তুুমি কেবল আমাকে নিয়েই লিখছপৃথিবীটাকে নিয়েও লিখতে পারতে,লিখতে পারতে জানা অজানাকে নিয়ে। আমি স্মিত হেসেছিলামবলা হয়নি –  তোমাকে আবিষ্কার কোরেছি আমি পৃথিবী আবিষ্কারেরও বহুপূর্বে। তখনো তোমার সংগে আমার দ্যাখা হয়নিফলন ভালো হয়নি বলে কিষাণীর পায়ের কাছে  পরে থাকা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ দুপুরটার যে বর্ণনা লিখেছিলাম এই এতোদিন পর তা হুবহু মিলে গেছে তোমার সংগে! তোমার  জেগে…

  • বিষাদ লিপি

    তোমায় নিয়ে  লেখা যেতে পারতো কী কোনো কবিতা?সম্ভবত পারতো-বিষাদের কারুকার্যে ঘনায়মান কোনো সন্ধ্যা।অথচ লেখা হলোনাপ্রত্যেকটা শুরুই শেষ হলো। এখন তুমি মানেই হৃদয়ের আর্কাইভে স্মৃতির কারাগার এখন তুমি মানেই ব্যক্তিগত কিছু দুঃখ আর সুখ?কোথায়! কখন! কেমন! কীভাবে! ব্রোথেল অথবা পানশালাকে আমার কখনো খারাপ জায়গা মনে হয়নিশুনেছি পৃথিবীর আর কোথাও সুখ কিনতে পাওয়া যায়না।তবে এ’ও সত্যি সব…

  • শোক

    যে প্রিয়জন ছেড়ে চলে গেছে খানিক দূরতাকে আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করেতাকে আমি কার কাছে চাইতে পারি? ছেলেবেলায় মা বলতেন “যদি কারো কাছে চাইতেই হয় তবে ঈশ্বরের কাছে চাও”আমি চাইতাই ঈশ্বরের কাছে চাইতে আমাকে দাঁড়াতে হয় নির্দিষ্ট প্রার্থনালয়ের সামনে ঈশ্বর তো সেখানেই থাকেন! অথচ  ঈশ্বরকে আমার সব জায়গায় পেতে ইচ্ছে করে! আমি বয়ে বেড়াই প্রিয় এবং ভয়াবহ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *