যাবার আগে
ক্লান্তি মুছে উড়ে যাবো দূর, ডানার অস্ফুট রেখে
তোমার কাছে,
যেনো পৌড় কোনও বিকেল –
দ্বিতল জানালার বাসে
সেও যাচ্ছে বাড়ি
উড়ে যাবো নির্ঝর
মেঘার্দ্র শরীর ছোঁবেনা?
ক্লান্তি মুছে উড়ে যাবো দূর, ডানার অস্ফুট রেখে
তোমার কাছে,
যেনো পৌড় কোনও বিকেল –
দ্বিতল জানালার বাসে
সেও যাচ্ছে বাড়ি
উড়ে যাবো নির্ঝর
মেঘার্দ্র শরীর ছোঁবেনা?
হাতের শৃঙ্খল খুলে দিলে বাগান বাড়ির দরোজাকরুণ আঙুল কথা রাখতে শিখেছে খুব।করিডোর থেকে হেঁটে এলে বিকেলপৃথিবীর হেরেমে বাস করা সিসিফাসরা দাঁড়ায় বাসের অপেক্ষায়অফিসের সেমিট্রিতে হাড়গোড় সামলাতে সামলাতে রোগা হৃদপিন্ড দাঁড়িয়ে থাকো তুমিওপুরনো বন্ধুর সংগে দেখা হলে জানতে চাও “কেমন আছিস? “প্রেমিক আঘাত পেয়েছে শুনলে ছুটে যাওতোমার খবর রাখতে আসেনা কেউ? তোমার জন্য অপেক্ষা করেনা বাড়ি? কেউ বলেনা…
কুকুরের চিৎকার ভেঙে গেলে ঘুম সরে যায় অন্ধকারেদুঃস্বপ্নের শিরায় প্রবাহিত ভয়ে চমকে উঠিআমাকে বিভ্রান্ত করে দ্রুতগামী ডাকনাম, দেহের ঘুমন্ত নগরী।অনঙ্গ নীরবতায় তুমি তখন ব্যস্ত বুকের বামপাশেপৃথিবীতে অসময়ে আমাদের দেখা হয়না?আমার ভেতর তাবু গেড়ে বাসকরা মানুষগুলো উৎসব করে নির্ভুল মুদ্রণে শোক জমা পড়ে নিজস্ব ডাকবাক্সেমধ্যরাতের এ আসরে মুগ্ধ বাজতে থাকে চোখের পাতায় ঢেকে রাখা কান্নাপিয়ানো।
যেহেতু ভালোবাসা ছোঁয়া যায়নাতাই তোমাকে ছুঁতেই আমার সমস্ত আগ্রহতোমার কাছে এলেই আমি ব্যস্ত হয়ে উঠিআঙুলের অস্থির পায়চারীতে বেজে ওঠে বহুদিনের অব্যবহারে পতিত বাদ্যযন্ত্র আচ্ছন্ন হই প্রবল বিস্তারেএবংআমিই সেই মানবীযার স্পর্শে জেগে উঠে লুপ্ত নগরীর অনাস্বাদিত ভূবনপ্রবল ঘোর অথবা মোহ!
সেদিন বলছিলে -তুুমি কেবল আমাকে নিয়েই লিখছপৃথিবীটাকে নিয়েও লিখতে পারতে,লিখতে পারতে জানা অজানাকে নিয়ে। আমি স্মিত হেসেছিলামবলা হয়নি – তোমাকে আবিষ্কার কোরেছি আমি পৃথিবী আবিষ্কারেরও বহুপূর্বে। তখনো তোমার সংগে আমার দ্যাখা হয়নিফলন ভালো হয়নি বলে কিষাণীর পায়ের কাছে পরে থাকা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ দুপুরটার যে বর্ণনা লিখেছিলাম এই এতোদিন পর তা হুবহু মিলে গেছে তোমার সংগে! তোমার জেগে…
একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রেদেখবে কী অনাদরে নিঃশ্বাস পরে থাকে পোষা বালিশেখসে যাওয়া তারার খোসায় চাওয়ার জীবাশ্ম আগলে রাখা দৃশ্যপটকেওকী অমূলক, অসহায় দেখায়দেখবে তুমি-এই অন্ধকারে রোজ মৃত্যু নিয়ে দাঁড়িয়েছি আমিদরোজায় হাইড এন্ড সী খেলায় নিজের ভেতর ডুবে গেছে যেতাকে কোনোদিন ডাকেনি কেউতাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মৃণ্ময় সুখতোমার জন্য লিখে রেখেছে সে চিরহরিৎ জীবনপেতে দিয়েছে পর্নমোচি বুক…
আমি এবং পৃথিবীর মাঝখানে দেয়াল হলে তুমি তোমাকে অস্বীকার করা গেলে ভেঙে ফেলা যেতো দেয়ালযাওয়া যেতো পৃথিবীর খুব কাছাকাছি নিজেকে অনিশ্চিত বাজির দিকে ছুঁড়ে দিয়ে অপেক্ষা এখন কেবল মৃত্যুরসম্ভবত মৃত্যুই সেই অস্বীকার! নিকোটিন শুষে পঁচে যাওয়া ফুসফুস আর হৃদপিন্ডের ভগ্নাংশ নিয়েআবাদ হওয়া সময়কে কিছুতেই জীবন বলা যায়নাতবুও রোজ দাঁড়াতে হয় তার মুখোমুখিডাকতে হয় প্রিয় নাম, জীবন!