silhouette of two person sitting on bench

বিস্মৃতির কোলাজ

অনেক খুঁজেছি!
কোথাও পাইনি!
জলের বুকে আচড় কেটে ক্লান্ত
এবার ফিরতে হবে
ভাঙা কবিতার গুঞ্জন নিয়ে থেমে যায় সমস্ত নীরবতা
কার্ণিশে বিস্মৃতির অতলান্ত কোলাজ!
কাল অবধি যাকে চিনতাম আজ আর তাকে চিনতে না পারলে অবাক হইনা
সেই নাম লিখে দিই ঝরা পাতার বুকে
নিরুদ্দেশের কোল ঘেষে উড়িয়ে দিই কালো ডানার প্রজাপতি
আমার ভেতর প্রতিটি আমিই একা!
সিগন্যালে দাঁড়ানো সন্ধ্যার
বিষাদ সংলাপে
তোমাকে ভাবিনা আর
অনন্ত ইথারে ছুঁড়ে দেই সিগারেটের
বেওয়ারিশ ধোঁয়া;আঙুলের দীর্ঘশ্বাস!
একদিন ঠিক ভুলে যাবো
কে কাকে কী নামে ডাকতাম
কার অগোছালো হাতে নেমেছে রাত!
তোমার পড়ো বসত ঘিরে
শব্দের মেটাফোরিক বিন্যাস
যা শুনিনি আমি যা বলোনি তুমি
বলবে এসো
এসো
দাঁড়াবে এখানে
কবরের পাশে
আলোর পাশে
অন্ধকারের পাশে
জীবনের পাশে
শেষ বলে-বলে দিয়ে যাবে নতুন শুরু!

Similar Posts

  • তোমাকে ভেবে

    তুমি ছাদ থেকে নেমে গেলে আমার ভীষণ অশান্ত লাগেঘরে ঘুমিয়ে তোমার পুরনো মনযেকোনো সময় তোমাকে তার কাছেই ফিরতে হয়তুমি তাকে কথা দিয়েছো।আমার মাথার উপর বৃত্তাকারে উড়ছে বিধ্বংসী ভাবনাভারী হচ্ছে চোখ বইয়ের পাতায়পাঁচ সিকির মতো অচল দাঁড়িয়ে আমার আঙুল কবিতায়।তোমার নিষ্কল স্টেশনে আমি হঠাৎ ঢুকে পড়া এক অর্বাচীন ট্রেনসে তোমার পুরনো মনতোমাকে তার কাছেই ফিরতে হয়তোমাকে…

  • অনাথ মগ্নতা

    তোমাকে ভালোবেসে এখানে দাঁড়িয়ে থাকি হতবুদ্ধি বইয়ের পাতার মতো অপেক্ষা করি আঙুলের এই বুঝি এলে কিছু ধুলো আলগোছে সরিয়ে অপেক্ষায়আমাকে আবৃত্তি করে অপ্রকৃতস্থ যৌবন মাথার ভেতর ভীষণ হৈ চৈ লিখে ফেলি শিহরিত রাত, আমাদের সন্তানেদের ঘুমন্ত মুখতাপহীন বুকে শতশত আগ্নেয়গিরির উত্তাপ…. অনন্ত ইথারে অনর্গলতোমাকে ঠিক তেমনই ভালোবাসিযেমন বেসেছি ঝরা জলপাই পাতার লালশহুরে হাওয়ার বিজন অন্ধকার তোমাকে…

  • রেইনকোট

    ট্রেনের ভেতরে এ শহরে প্রেমিক আসেহুইসেলটা চিৎকার  করতে করতে  চলে যেতে থাকে স্টেশনের দিকেজানালা বন্ধ করে রাখি, ;কোনও হুইসেলে আমি আর জাগাতে চাইনা ভালোবাসা ;তোমাকে। একটা রোমান্টিক  বর্ষাকাল জুড়েতোমার স্যাতস্যাতে শরীরে আমি যেনো নিঃসঙ্গ রেইনকোটআমার পর্যাপ্ততা ওইটুকুই। পুইয়ের মাচায় বেড়ে ওঠা দূরত্বে কাটাঘুড়ি জীবন ঢুকে পড়ে ইউক্যালিপটাসের বুকেজিরাফ শূন্যতার দাউদাউ তরুণী  দিনস্টেপলার পিনে আটকে থাকে পাঁজর দেয়ালেঅভিমানের জরায়ুতে…

  • মৃন্ময় সুখ

    একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রেদেখবে কী অনাদরে নিঃশ্বাস পরে থাকে পোষা বালিশেখসে যাওয়া তারার খোসায় চাওয়ার জীবাশ্ম আগলে রাখা দৃশ্যপটকেওকী অমূলক, অসহায় দেখায়দেখবে তুমি-এই অন্ধকারে রোজ মৃত্যু নিয়ে দাঁড়িয়েছি আমিদরোজায় হাইড এন্ড সী খেলায় নিজের ভেতর ডুবে গেছে যেতাকে কোনোদিন ডাকেনি কেউতাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মৃণ্ময় সুখতোমার জন্য লিখে রেখেছে সে চিরহরিৎ জীবনপেতে দিয়েছে পর্নমোচি বুক…

  • ঘূর্ণি

    রাতের মসৃণ শরীরে পাথরের মতো চেপে থাকা স্তব্ধতা আমাকে টুকরো টুকরো করে উল্লাস করেদিন হলেই পুরনো অস্বস্তির ক্ষুরধার নখ আঁচড়ে আঁচড়ে ছিন্নভিন্ন করতে থাকে মনোযোগ।এসব একই নিয়মে রোজ ঘুরেফিরে আসে।তোমাকে মিথ্যে জানার পরআমার মাথার পাশে সারাদিন কাঁদে একটা মাধবীলতা গাছতোমাকে মিথ্যে জানার পরআমার হৃদপিন্ড হয়ে উঠেছে একটা আদর্শ প্যারাসাইটআর তুমি?প্রচন্ড ভালোবেসে, সব থেকে টেনে নিয়েছুঁড়ে দিয়েছো…

  • কাঠঠোকরা

    আমাকে তুমি বলে দিতে পারো বলে থামিয়ে দিলে কোলাহলওভাবে বহুদিন কেউ স্পর্শ করেনি আমায়যেভাবে তোমার পাঁচটা আঙুল কিনে নিলো অবলীলায়কেউ বললো অন্যায় করছিস, করছিস অযাচারশুধু এইটুক জানতামকাঠঠোকরার মতো পাঁচটি আঙুল খুঁড়ে চলেছে হৃদয় আমারভালোবাসছি আবারশুধুমাত্র সেই পাঁচটা আঙুলকে তোমারযেখানে আমি রাখতে চেয়েছি এতোকালএকটা নির্জন রাতের অনাহারএকটা বিচ্ছিন্ন সমুদ্রতটঅনাহত প্রবল ঝড়,গুড়ো কান্নার দমকএকটা ঝরা পলাশের দলিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *