silhouette of kneeling man

ইবাদত 


আত্মার উন্নতি কামনায় জায়নামাজে বসে নীল বাড়িটার কথা মনে পড়ে
তসবির দানায় পরম আঙুল মীনা করে তোমার শরীর
তেলাওয়াত করি তোমারে সহীহ্ উচ্চারণে।
ইবাদতে মশগুল
বৈশাখের শেষ দিনগুলো 
তোমারে পেয়েও পায়না দিদার। 
গভীর মোরাক্বাবায়
ফজরের মোনাজাতে ঝরা শিউলী
নীল বাড়িটার রঙ ক্রমশ ধূসর।


ঘরের দাওয়ায় সে জ্বেলে রেখেছে আলো
তার মোনাজাতের হাত খসে পড়ছে কান্নায়
অবাক সে তসবির, আমার চোখ কেঁপে যায়
আল্লাহ কী করে তুমি থাকো নিশ্চুপ?
কী করে ফেরাও সেই হাত?
তবু তোমার কাছে চাই
বুকের ভেতর ঘুমায় যারা তাদেররে ভালো রাইখো তোমার হাওলায়।

Similar Posts

  • সেমেট্রি

    হাতের শৃঙ্খল খুলে দিলে বাগান বাড়ির দরোজাকরুণ আঙুল কথা রাখতে শিখেছে খুব।করিডোর থেকে  হেঁটে এলে বিকেলপৃথিবীর হেরেমে বাস করা সিসিফাসরা দাঁড়ায় বাসের অপেক্ষায়অফিসের সেমিট্রিতে হাড়গোড় সামলাতে সামলাতে রোগা হৃদপিন্ড  দাঁড়িয়ে থাকো তুমিওপুরনো বন্ধুর সংগে দেখা হলে জানতে চাও “কেমন আছিস? “প্রেমিক আঘাত পেয়েছে শুনলে ছুটে যাওতোমার খবর রাখতে আসেনা কেউ? তোমার জন্য অপেক্ষা করেনা বাড়ি? কেউ বলেনা…

  • মুখোশ

    ঝুড়ি বটতলায় বসে পুরিয়া সাজাতে সাজাতেজীবনের গল্প করে ওরাঅভিজাত বেডরুমে সুইসাইড নোট লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পরে মেয়েটাবুকের ভেতর নিশ্চিত ঝরঝরে অসুখ নিয়েপ্যাপিরাসের পাতায় পাতায় বর্ণিল মৃত্যু আঁকে কবি।গভীর রাতে শহরগুলো শয্যা হয়ে যায়,নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকেন ঈশ্বর।সুখ কুড়িয়ে বাড়ি ফিরে থু থু ফেলতে ফেলতেবউটাকে বেধড়ক পেটায় বদ্ধ মাতাল।জীবনের মানচিত্র জুড়ে কর্কশ নিশ্বাঃস!ভোর হলেই খুলে যায় পৃথিবীর…

  • জীবন সংক্রান্ত

    সব্জির দোকানে ছেটানো জলমাংসের দোকানে লেগে থাকা রক্তের ভিড় ভালোলাগেনা আমারভালোলাগেনাভেজানো ছোলায় ফেঁপে ওঠা রাক্ষসকরমচা চোখযাপনের আটপৌড়ে আলনায় ঝুলে থাকা বাহারি জামা। আমি এসব থেকে দূরে যেতে চাই। চাদরের ঝুল বেয়ে নেমে যায় কচ্ছপ রাতমেঝেতে ছড়ানো রিপুর কাঁদমাটি মাড়ানো পা ভিজতে থাকে বর্ষায় আমি শুধু তোমাকে ভাবি,মুঠোয় করে আনি সমুদ্রশ্বাসঅথচ তুমিও মানবিকঅমানবিক কানাঘুষা ছুড়ে মারো আমার মুখে এই বলে স্বান্তনা…

  • স্টেশন

    তুই কখনো আমাকে চাসনি,না চেয়েই আমি পুরোটা তোর।অথচ সেজুতি জানেনা তার পাবার অহংকারে কেবলই ফাঁকি।স্টেশনের ক্ষীণ আলোয় চমকে উঠলাম, ভুল দেখছিনা তো!তুই এসে সহাস্যে জনতে চাইলি “কেমন আছ অরুণদা? “গলায় ঢেলা পাকানো অন্ধকার ঠেলে কেবল বলতে পারলাম “ভালো “!একমুহুর্তের জন্য কী পৃথিবীটা এসে থমকে রইলো আমার চারপাশে?বুকের ভেতর এতো কাছাকাছি থাকিস তুইঅথচ হাতছানির দূরত্বে দাঁড়িয়ে…

  • প্রেমতান্ত্রিক চাঁদবেলা

    গোপনে, অ-সুখে চাঁদের উনুনে পুড়ছে কাম ও প্রেমের খড়ি।একটা চিঠিতেও তোমাকে লিখতে পারিনিকত কাছাকাছি থাকি, আষ্টেপৃষ্ঠেদেখাদেখি নেইতবুবাঁকা বিদ্রুপের মতো তোমার বেআব্রু দৃষ্টিবোতাম এঁটে নিষিদ্ধ করে দেয় আকাশের রৌদ্রস্নান।যতবার মুখ থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছি অন্ধকারের রেণুঅনাদায়ী ধারের মতো ফিরে এসেছোফিরে এসেছোবারবারবুকের বিপন্ন পরাগেউৎস থেকে একা বোধনের ঢঙে।গাছের শরীরে পাতার কম্পমান ধ্বনির ভিড়েনিঃসঙ্গ কোকিল, খুঁজি কাকবাসা।তুমি এসব…

  • একটা রাত কাটিয়ে যেও শিয়রে

    রাতের বুকে মাথা রেখে আমি অন্ধকারকে শুনি।ভেতরে ছটফট করে কর্পোরেট হুলস্থুল,তুমি।মন্থর পায়ে বুকের সিঁড়ি ভাঙা এইসব রাতে বৃষ্টি হয় খুব।জানালার চোখ নিয়ে যায় দূরস্মৃতির জলাবদ্ধতা সাঁতরে ফিরতে আমার খুব ক্লান্ত লাগে, জানো!ভালোবাসার অবাধ্য অন্ধকার এসে জড়ো হয়এখানে তুমি নেইতোমার শহরসময় থেকে অনেক দূরআমার খুব ঘুমিয়ে পরতে ইচ্ছে করেঅসংখ্য বিস্মৃতির নিরালা ঘরে জেগে থাকা তোমাকেঅন্ধকারের দেয়াল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *