ডাকনাম

তোমার ব্যথার পাশে আমি এক গভীর রমণী
উড্ডীন তারাদের ছলছল
শহর থেকে দূরে গোপন আরোগ্যালয়, সারি সারি শুশ্রুষা
শহরের হাওয়ায় দোল খাওয়া নিঃস্ব চুলে পরম আঙুল।
তোমার গোপনে আমি এক গহ্বর পিয়ানো
নিঃশব্দের রীডে তোমার ভেতর বাজি দিনমান
তোমাকে বাজাই দ্রোহ যাতনায়।
তোমার বুকের পাশে আমি ছলাৎছল মাছেদের ঋতুকাল
জলের ঝিরিঝিরি উদ্বেগ
তোমার ঠোঁটের তীরবর্তী ল্যান্ডস্কেপে সুখের বালিয়াড়ি ঢেউ
তোমার স্পর্শে আমি সদ্য নারী
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভালোবাসো, আমরা গভীর হই
শান্ত হই, ক্লান্ত হই, কান্না হই, প্রেম হই
যদি হই
আমাকে তুমি কি নামে ডাকবে?

Similar Posts

  • আঁচল

    প্রিয়তমারাস্তায় পড়ে থাকা আমাকে তুমিমাতাল বলে গালি দিয়ো না অভিজাত মাতালরা  ওভাবে পড়ে থাকেনাতারা  খুঁজে নিতে পারে আঁকাবাঁকা শরীরের ভাঁজড্রাইভার ঠিক সময়ে তাদের পৌছে দিয়ে আসে বাড়ি বরং  আমাকে  শুড়িখানায়  নিমজ্জিত অ্যালকোহল থেকে বুকের ভেতর তুলে নাওক্ষততে হলুদের প্রলেপ লাগিয়ে মাথায়  মমতায় রাখো হাতহাহাকারের পাশে কয়েকটা রাত জেগে কাটাওদেখো আমিও কেমন প্রেমিক হয়ে উঠি ফুটপাতে উড়া…

  • তোমাকে পান্থশালা ভেবে

    তোমাকে পান্থশালা ভেবে ঢুকেছিলো যে তুমি তার মাথাটাকে চিবিয়ে খেলে। অতোটা অনৈতিক না হলেও পারতে,প্রয়োজন ছিলোনা অবতারণার অনর্থক একটি শব্দের । হৃদপিন্ডের দাঁতগুলো নেকড়ের মতো, হাতগুলো শিকারী বাঘ। যখন তুমি তার সবচেয়ে নরম অংশটাকে চিবিয়ে খাচ্ছিলে এক বৃদ্ধা ক্যারল গাইছিলেন ঈশ্বর কুটিরে।ধর্মাবতাররা জানতেন না পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চোখ  ছিলো  দীনহীন কুড়েঘরেরএকজোড়া মানুষকে কখন আগুনের মতো…

  • মানবী

    যেহেতু ভালোবাসা ছোঁয়া যায়নাতাই তোমাকে ছুঁতেই আমার সমস্ত আগ্রহতোমার কাছে এলেই আমি ব্যস্ত হয়ে উঠিআঙুলের অস্থির পায়চারীতে বেজে ওঠে  বহুদিনের অব্যবহারে পতিত বাদ্যযন্ত্র আচ্ছন্ন হই প্রবল বিস্তারেএবংআমিই সেই মানবীযার স্পর্শে জেগে উঠে লুপ্ত নগরীর অনাস্বাদিত ভূবনপ্রবল ঘোর অথবা মোহ!

  • কাঠঠোকরা

    আমাকে তুমি বলে দিতে পারো বলে থামিয়ে দিলে কোলাহলওভাবে বহুদিন কেউ স্পর্শ করেনি আমায়যেভাবে তোমার পাঁচটা আঙুল কিনে নিলো অবলীলায়কেউ বললো অন্যায় করছিস, করছিস অযাচারশুধু এইটুক জানতামকাঠঠোকরার মতো পাঁচটি আঙুল খুঁড়ে চলেছে হৃদয় আমারভালোবাসছি আবারশুধুমাত্র সেই পাঁচটা আঙুলকে তোমারযেখানে আমি রাখতে চেয়েছি এতোকালএকটা নির্জন রাতের অনাহারএকটা বিচ্ছিন্ন সমুদ্রতটঅনাহত প্রবল ঝড়,গুড়ো কান্নার দমকএকটা ঝরা পলাশের দলিত…

  • শাস্তি

    ফুল, তুমি আমার নিজস্বনির্জন ভঙ্গিমাহাওয়ার কাছ থেকে পাওয়া নিঃশ্বাসের ভাগ।জারুলের দিনে বৃষ্টির কবিতা শোনাতে আসা প্রাচীন অক্ষরতোমাকে বোঝাতে পারেনিতুমি সেই বালক বয়েসযেখানে বিকেলবেলা নোঙ্গর করে ঢেউফুল, আমাকে তোমার কাছে রেখে এসে এখন কামনা করছিস্ব-কামের অপরাধে তাই বুঝি তিনি দন্ড দিলেদূরেই থাকলে তুমিআমি শিকারীর ফসকে যাওয়া নিশানা হয়ে ঢুকে যাই আরও গাঢ় বনে।

  • পার্বন বেলা

    অনেক স্রোতের পর এখানে স্থিতধী হাওয়াদুরন্ত সেসব ঢেউ পড়ে আছে শৈশবের দাওয়ায়এখন বেলা অস্তগামী, ফিকে হয়ে আসা রঙেদৈর্ঘ্য প্রস্থ বেড়েছে জামার,বেড়েছে দূরত্ব আনন্দবেলার এখনো এখানে বাবা বাড়ি ফেরেন ব্যাগভর্তি হুলস্থুল নিয়েবাড়ি থেকে ওইটুকুই তো দূরত্ব ঈদগাহ’রহঠাৎ পরিচিত কোনও রান্নার ঘ্রাণে সাড়া ফেলা মায়ের পুরোনো প্রণয় যেমন কথা বলেপার্বনের দিনে এমনই হেঁটে আসে ব্যথা, উঠে আসে…

3 Comments

Leave a Reply to Lutfar Nirjhar Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *